নিজস্ব প্রতিনিধি ।। শান্তিরবাজার, ১১ আগস্ট : পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আগামী প্রজন্মের জন্য সবুজ ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ার বার্তা নিয়ে শান্তিরবাজারে অনুষ্ঠিত হলো মহকুমাভিত্তিক বনমহোৎসব। বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি রোপণ করা চারাগাছের নিয়মিত পরিচর্যা ও সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা। মঙ্গলবার জোলাইবাড়ির সাঁচিরামবাড়িস্থিত টি এস আর নবম বাহিনীর সদর দপ্তরে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সকলকে পরিবেশ রক্ষায় সক্রিয়ভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়। চারাগাছে জল সৃঞ্চনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন অতিথিরা। উদ্বোধনী সংগীত পরিবেশন করেন জোলাইবাড়ি দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা। স্বাগত ভাষণ রাখেন ফরেস্ট সাব ডিভিশনের এস ডি এফ ও নবারুণ দে। উদ্বোধনী ভাষণ রাখেন মন্ত্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়া। এছাড়া বক্তব্য রাখেন শান্তিরবাজার বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক প্রমোদ রিয়াং, দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলা পরিষদের সভাধিপতি দীপক দত্ত, টি এস আর নবম বাহিনীর ডেপুটি কমান্ডেন্ট মনোজ বিপ্লব দাস, বন দপ্তরের কাকলিয়া রেঞ্জ অফিসার জয়ন্ত ত্রিপুরা প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলা পরিষদের সদস্য সম্ভু মানিক। এছাড়াও অনুষ্ঠানে হজাগিরি নৃত্য, সংগ্রাই নৃত্যের পাশাপাশি বৃক্ষরোপণের উপর সচেতনতামূলক একটি সংক্ষিপ্ত নাটক পরিবেশিত হয়। বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে গোটা অনুষ্ঠান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে টি এস আর নবম বাহিনীর সদর দপ্তরে পেয়ারার চারা রোপণ করেন অতিথিরা।
উদ্বোধনী ভাষণে মন্ত্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়া বলেন, গাছ লাগানোর পরিবর্তে নিয়মিতভাবে গাছ কাটার ফলে উজাড় হয়ে যাচ্ছে গোটা বনাঞ্চল। বন্যপ্রাণীরা খাদ্যের অভাবে লোকালয়ের দিকে ধাবিত হচ্ছে। যার ফলশ্রুতিতে জনজীবনে ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। তার জন্য গাছ কাটার পাশাপাশি নিয়মিতভাবে গাছ লাগানো ও লাগানো গাছগুলির যথাযথভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি। তবেই এই উৎসবের সার্থকতা।