রেলওয়ে দপ্তরের অফিস ঘরে পাঁচ বছর যাবৎ খুটিগেরে বসারপর নির্মাণ কাজ দপ্তর থেকে হাতিয়ে নিয়ে দপ্তরের ইঞ্জিনিয়ারকে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে বগলদাবা করে কিভাবে ১৪ নাম্বারী নিম্নমানের কাজ করতে হয় তা আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন সদর আগরতলার নাগ কন্সট্রাকশন নামক এজেন্সিটি!
সাব্রুম রেল স্টেশনে ১৮০০ মিটার সিসি রোডের বাবদ পেয়ে নির্মাণ কাজের হাত লাগান সদর আগরতলার নাগ কনস্ট্রাকশনের কর্ণধার দীপক নাগ। সাব্রুম মৈত্রীসেতু সংলগ্ন বাইপাস রোড রতন বণিকের বাড়ির সামনে থেকে তথা আন্তর্জাতিক সড়ক হয়ে এফসিআই চালের গোডাউন পর্যন্ত এই সিসি রোডটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে বেশ কিছুদিন আগে। এলাকাবাসীর অভিযোগ মূলে ঘটনার সত্যতা যাচাই করার জন্য আমাদের মহাকুমা প্রতিনিধি ছুটে যায়। আমাদের প্রতিনিধির ক্যামেরায় খবরের সত্যতার প্রমাণ ফুটে উঠেছে। এই সিসি রোডেটি নির্মাণ করতে গিয়ে খুবই নির্মাণের কাজ করে যাচ্ছেন নাগ কন্সট্রাকশন। এই সিসি রোডটি নির্মাণের দেখবাল করার জন্য ভারতীয় রেলওয়ে দপ্তর থেকে উত্তর প্রদেশের যশবন গুপ্তা নামে ইঞ্জিনিয়ার বাবুকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ মূলে নাগ কন্সট্রাকশনের এই কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যানেজারের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান ইঞ্জিনিয়ার কেন আসে না তা তিনি জানেন না। এলাকা বাসীর অভিযোগ, নাগ কনস্ট্রাকশন সম্পূর্ণ নিজের মর্জি মাফিক এই সিসি রোডের নির্মাণ কাজ করে যাচ্ছে। এর সত্যতা স্বীকার করেন নাগ কনস্ট্রাকশনের সাইট ম্যানেজার। খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে দেখা যায় অল্প টাকার বিনিময়ে মুঙ্গিয়াকামী থেকে মঙ্গল ত্রিপুরা নামে ১৫-১৬ বছরের এক নাবালক ছেলেকে দিয়ে ভারী-পরিশ্রমের কাজ করাচ্ছেন (শিশুশ্রম)। তাও আবার স্বীকার করে নিলেন সাইট ম্যানেজার। মূলত এই সিসি রোডটি নির্মাণ করতে গিয়ে নাগ কন্সট্রাকশন সিসি রোডের দুই পাশে বালির পরিমাণ খুবই কম দিয়ে মাটির পরিমাণ বেশি দিয়ে ২০০ সেন্টিমিটারের জায়গায় ১০০-১২০-১৫০ সেন্টিমিটার ঢালাই দিয়ে সম্পূর্ণ নিজের মর্জি মাফিক নির্মাণ কাজ করে যাচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, এই নাগ কন্সট্রাকশন যে ভাবে নিজের মর্জি মাফিক নিম্নমানের নির্মাণ কাজ করছে, অল্প কিছুদিন গেলেই ভেঙ্গে যাওয়ার আশঙ্কা খুবই প্রবল। এই সিসি রোডটিতে প্রতিদিন যে পরিমানে জল দেওয়ার দরকার একদিনের জন্য জল দিচ্ছেন না। যার ফলে সিসি রোডটি ভেঙ্গে যাওয়ার প্রবল সম্ভবনা অল্প কিছুদিনের মধ্যে। সদর আগরতলার নাগ কনস্ট্রাকশনের কর্ণধার মাফিয়া দীপক নাগ ১৪ নাম্বারী নির্মাণ কাজ করার জন্য সাব্রুম রেল স্টেশনে একটি অফিস ঘরের সামনে নির্মাণ সামগ্রী এবং গত পাঁচ বছর যাবত ঘরটিতে খুঁটিগেরে বসে রয়েছে। শুধু তাই নয় মোটা অংকের বিনিময়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত সাইটের ইঞ্জিনিয়ার যশবন গুপ্তাকে ম্যানেজ করে নিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। এখন দেখার বিষয় এই সিসি রোডের নির্মাণ কাজ নিয়ে ভারতীয় রেল দপ্তর কি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন।