Home » Blog » মানুষ তৈরির শিক্ষা: অভিভাবকের দায়িত্ব

মানুষ তৈরির শিক্ষা: অভিভাবকের দায়িত্ব

'সন্তানকে শুধু সফল নয়, মহৎ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলুন'— ধলেশ্বর রামকৃষ্ণ মিশনের অভিভাবক সম্মেলনে বার্তা

by Planet Tripura
0 comments 7 views

রামকৃষ্ণ মিশন, ধলেশ্বরের উদ্যোগে ‘মানুষ তৈরির শিক্ষা অভিভাবকের দায়িত্ব শীর্ষক মূল্যবোধভিত্তিক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

আগরতলা, ২৮ জুন ২০২৬: রামকৃষ্ণ মিশন, ধলেশ্বরের উদ্যোগে আজ বিবেকানন্দ হলে “মানুষ তৈরির শিক্ষা। অভিভাবকের দায়িত্ব” শীর্ষক এক বিশেষ মূল্যবোধভিত্তিক অভিভাবক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেললে প্রায় ২৫০ জন প্রতিনিধি (অভিভাবক, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষানুরাগী) উৎসাহের সঙ্গে অংশগ্রহণ করেন।

সভায় রামকৃষ্ণ মিশন, ধলেশ্বরের সম্পাদক স্বামী অমর্ত্যানন্দজী মহারাজ তাঁর বক্তব্যে বলেন, বর্তমান যুগে সন্তানকে শুধু ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বা সফল পেশাজীবী হিসেবে গড়ে তোলাই যথেষ্ট নয়; তাকে একজন সত্যনিষ্ঠ, চরিত্রবান, সহানুভূতিশীল ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে ভোলাই অভিভাবকের প্রধান দায়িত্ব। আজ শিক্ষার, তথ্যের ও প্রযুক্তির অভাব নেই; কিন্তু মানুষ তৈরির শিক্ষা ক্রমশ উপেক্ষিত হওয়ায় সমাজে হিংসা, স্বার্থপরতা, নেশা, হতাশা ও পারিবারিক অস্থিরতা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তিনি স্বামী বিবেকানন্দের বাণী- “Education is the manifestation of the perfection already in man উদ্ধৃত করে বলেন, প্রকৃত শিক্ষা কেবল তথ্য অর্জন নয়; মানুষের অন্তর্নিহিত মহত্বের বিকাশ। পাশাপাশি বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় Life Skill-এর গুরুত্ব বিশেষভাবে তুলে ধরে তিনি বলেন, জীবনের সাফল্য ও ব্যর্থতাকে সাহসের সঙ্গে গ্রহণ করা, মানসিক দৃঢ়তা, আত্মসংযম, সহিষ্ণুতা এবং সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের শিক্ষা পরিবার থেকেই শুরু হয়। তিনি আরও বলেন, শিশুর প্রখম বিদ্যালয় পরিবার এবং প্রথম শিক্ষক মা-বাবা। সন্তান উপদেশের চেয়ে অভিভাবকের জীবন থেকেই বেশি শিক্ষা লাভ করে। তাই অভিভাবকদের নিজেদের জীবনেই সত্যবাদিতা, শৃঙ্খলা, ভদ্রতা, ধর্মীয় মূল্যবোধ, নিয়মানুবর্তিতা ও সেবার আদর্শ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সন্তানকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া, তার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা, তাকে উৎসাহিত করা, মোবাইল ও প্রযুক্তির সংযত ব্যবহার শেখানো এবং সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলার মানসিকতা গড়ে তোলার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।

বক্তৃতায় অতিরিক্ত আদর বা অতিরিক্ত শাসনের পরিবর্তে ভালোবাসা ও শৃঙ্খলার সুষম সমন্বয়ের প্রযোজনীয়তার কথাও ভুলে ধরা হয়। ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, পরিবারে নিয়মিত প্রার্থনা, জপ, মহাপুরুষদের জীবনচর্চা ও মূল্যবোধের অনুশীলন শিশুর চরিত্র গঠনে অভ্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ, শ্রীশ্রীমা সারদাদেবী ও স্বামী বিবেকানন্দের জীবন ও বাণীর আলোকে তিনি অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান- “সন্তানকে শুধু সফল নয়, একজন মহৎ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলুন।” স্বামী বিবেকানন্দের বাণী-“তোমরা প্রথমে মানুষ হও; তারপর অন্য সব” এবং “এক আউন্স কাজ বিশ হাজার টন কথার সমান” উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, সন্তানরা উপদেশের চেয়ে অভিভাবকের জীবন থেকেই সর্বাধিক শিক্ষা গ্রহণ করে।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে একটি প্রাণবন্ত প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষিকা ও অভিভাবকবৃন্দ সন্তান প্রতিপালন, চরিত্রগঠন, বর্তমান সমাজে প্রযুক্তির প্রভাব এবং মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষার বিভিন্ন দিক নিয়ে চিন্তাপ্রসূত প্রশ্ন উত্থাপন করেন। স্বামী অমর্ত্যানন্দজী মহারাজ অভান্ত যুক্তিনিষ্ঠ, হৃদয়গ্রাহী ও বাস্তবসম্মতভাবে তাঁদের প্রশ্নের উত্তর প্রদান করেন। তাঁর উত্তর ও দিকনির্দেশনা উপস্থিত সকলের প্রশংসা অর্জন করে। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী অভিভাবকবৃন্দ আলোচিত আদর্শসমূহ নিজেদের জীবন ও পারিবারিক পরিবেশে বাস্তবায়নের আন্তরিক অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

সম্মেলন শেষে উপস্থিত অভিভাবকরা এই ধরনের মূল্যবোধভিত্তিক অভিভাবক সম্মেলন অভিভাবকদের সার্বিক কল্যাণ ও সন্তানদের সুষ্ঠু চরিত্রগঠনের স্বার্থে নিয়মিত আযোজন করার জন্য রামকৃষ্ণ মিশন কর্তৃপক্ষের কাছে আন্তরিক অনুরোধ জানান।

স্বামী অমর্ত্যানন্দজী

You may also like

Leave a Comment