দারিদ্র্যকে হার মানিয়ে রাজ্যের মুখ উজ্জ্বল করল আমবাসার মেয়ে অনিতা
নিজস্ব প্রতিনিধি, আমবাসা: অভাব, সংগ্রাম আর সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার অনন্য নজির গড়ল ধলাই জেলার আমবাসার মেয়ে অনিতা। কঠোর পরিশ্রম ও অদম্য মানসিক শক্তির জোরে জাতীয় স্তরের জুডো প্রতিযোগিতায় ব্রোঞ্জ পদক জয় করে ত্রিপুরার মুখ উজ্জ্বল করেছে সে।
গত মার্চ মাসে মধ্যপ্রদেশে অনুষ্ঠিত জাতীয় জুডো প্রতিযোগিতায় ত্রিপুরার প্রতিনিধিত্ব করে অংশগ্রহণ করে অনিতা। প্রতিযোগিতায় অসাধারণ পারফরম্যান্সের মাধ্যমে ব্রোঞ্জ পদক জিতে এনে রাজ্যের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন গৌরব যোগ করেছে সে। ত্রিপুরা থেকে অংশ নেওয়া ১৯ জন প্রতিযোগীর মধ্যে তার এই সাফল্য বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে।
জানা গেছে, অনিতা অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের সন্তান। আমবাসা কোয়ার্টার এলাকায় বসবাসকারী পাঁচ সদস্যের পরিবারে বড় হয়েছে সে। তার বাবা গজেন্দ্র ত্রিপুরা বনদপ্তরের একজন অস্থায়ী কর্মী। আর্থিক অনটন সত্ত্বেও মেয়ের স্বপ্নপূরণে পরিবারের সদস্যরা সবসময় তাকে উৎসাহ ও সহযোগিতা করে গেছেন।
অনিতার এই উল্লেখযোগ্য সাফল্যে তাকে সংবর্ধনা জানায় ২৮ নম্বর আসাম রাইফেলস ব্যাটালিয়ন। অনুষ্ঠানে ব্যাটালিয়নের কর্নেল D. H. Chauhan অনিতাকে ফুলের তোড়া, উত্তরীয় ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করে শুভেচ্ছা জানান। পাশাপাশি ভবিষ্যতেও তার পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
অনিতার সাফল্যের খবরে খুশির আবহ তৈরি হয়েছে আমবাসা ও গোটা ধলাই জেলায়। স্থানীয়দের মতে, প্রতিকূল পরিস্থিতিকে জয় করে অনিতা প্রমাণ করেছে যে দারিদ্র্য কখনও প্রতিভা ও সাফল্যের পথে বাধা হতে পারে না।
আজ অনিতা শুধু একটি পদকই জেতেনি, বরং হাজারো স্বপ্নবাজ তরুণ-তরুণীর কাছে অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে উঠেছে। তার এই অর্জন নতুন প্রজন্মকে বার্তা দেয়—স্বপ্নপূরণের ইচ্ছা আর কঠোর পরিশ্রম থাকলে কোনো বাধাই অতিক্রম করা অসম্ভব নয়।