অনুপ্রবেশ ইস্যুতে ফের সরব তিপরা মথা, কড়া পদক্ষেপের দাবিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠি রঞ্জিতের
নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা ২৯ মে : রাজ্যে ক্রমবর্ধমান অনুপ্রবেশের ঘটনা নিয়ে ফের সরব হলেন তিপরা মথার বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা। শুক্রবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উদ্দেশ্যে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আটক ও বহিষ্কারের দাবিতে কেন্দ্রের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।পাশাপাশি আগামী ৫ জুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সম্ভাব্য ত্রিপুরা সফরের সময় সাক্ষাতের জন্যও নির্দিষ্ট সময় চেয়েছেন তিনি।
চিঠিতে রঞ্জিত দেববর্মা দাবি করেন, অবৈধ অনুপ্রবেশ বর্তমানে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও আইন-শৃঙ্খলার জন্য বড়সড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক দুর্বলতা, কিছু অসাধু রাজনৈতিক নেতা এবং সরকারি আধিকারিকদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতার ফলেই সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে ত্রিপুরার আন্তর্জাতিক সীমান্তকে করিডর হিসেবে ব্যবহার করে বহু অনুপ্রবেশকারী দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মথা বিধায়কের দাবি, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার পর সীমান্তবর্তী এলাকায় অনুপ্রবেশের প্রবণতা আরও বেড়েছে। প্রতিদিনই সীমান্ত দিয়ে মানুষ অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করছে বলে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, সীমান্তে নজরদারির ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে।
সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর টহল ও নজরদারি আরও জোরদার করা প্রয়োজন বলেও তিনি মত প্রকাশ করেন। রঞ্জিত দেববর্মা আরও দাবি করেন, অনুপ্রবেশকারীদের একাংশ জীবিকার সন্ধানে এলেও অন্য একটি অংশ মানব পাচার, মাদক চক্র, জাল নথি তৈরি, চুরি, ছিনতাই এবং বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। এর ফলে সীমান্তবর্তী এলাকায় অপরাধের মাত্রা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে মানব পাচারের দালাল চক্র অত্যন্ত সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, ত্রিপুরাকে করিডর হিসেবে ব্যবহার করে বহু অনুপ্রবেশকারী দেশের বিভিন্ন রাজ্যে পাড়ি জমাচ্ছে। অথচ এই বিষয়ে পুলিশের গোয়েন্দা তৎপরতা প্রয়োজনের তুলনায় অনেকটাই কম। সীমান্তবর্তী এলাকা ও রেলস্টেশনগুলিতে নজরদারি আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি মত প্রকাশ করেন। চিঠিতে তিনি আরও উল্লেখ করেন, অনুপ্রবেশের ফলে সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলিতে জনসংখ্যার ভারসাম্য বদলে যাচ্ছে। এর প্রভাব ভূমি সমস্যা, স্থানীয়দের কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক চাপ এবং সামাজিক নিরাপত্তার ওপর পড়ছে।
দীর্ঘদিন ধরে এই সংবেদনশীল ইস্যুকে গুরুত্ব না দেওয়ার কারণেই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর। এর আগেও রঞ্জিত দেববর্মা উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলিতে ইনার লাইন পারমিট (আইএলপি) চালুর দাবি তুলেছিলেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কার্যকর কোনও পদক্ষেপ না নেওয়ায় অনুপ্রবেশের প্রবণতা বেড়েছে বলে তিনি দাবি করেন। একইসঙ্গে তিনি বলেন, এসআইআর কার্যকর হলে অনুপ্রবেশের ক্ষেত্রে তার ইতিবাচক প্রভাব পরিলক্ষিত হবে এবং অবৈধভাবে বসবাসকারীদের শনাক্ত করা সহজ হবে।
অবৈধ অনুপ্রবেশ রুখতে কেন্দ্রের গঠিত উচ্চ পর্যায়ের কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে মথা বিধায়ক বলেন, দেশের নিরাপত্তা ও সীমান্ত সুরক্ষার স্বার্থে কেন্দ্রের এই উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী। আগামী বৈঠকে তিনি এনআরসি, ইনার লাইন পারমিট, এসআইআর এবং সিএএ-২০১৯ কার্যকর করার দাবিও উত্থাপন করবেন বলে জানিয়েছেন।রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সীমান্ত নিরাপত্তা ও অনুপ্রবেশের বিষয়টি আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।
বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে এই বিষয়কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে ।