Home » Blog » ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে মজুরি বঞ্চনার অভিযোগ, শ্রম কমিশনারে মামলা

ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে মজুরি বঞ্চনার অভিযোগ, শ্রম কমিশনারে মামলা

ন্যূনতম মজুরি আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ৮ জুন গুয়াহাটিতে শুনানি; এক দশকের বেশি সময় ধরে প্রাপ্য মজুরি না পাওয়ার দাবি প্রায় ৮০ কর্মীর।

by Planet Tripura
0 comments 96 views

আবারও বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়, এবারে শ্রমিক বঞ্চনার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি,আগরতলা : রাজ্যের একমাত্র কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয় বরাবরই বিভিন্ন বিতর্ক, অভিযোগ ও অনিয়মের কারণে সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছে। কখনও নিয়োগে স্বজনপোষণ ও দুর্নীতির অভিযোগ, কখনও আর্থিক অনিয়ম ও কেলেঙ্কারি, কখনও বা প্রশ্নপত্র ফাঁস, ফলাফল প্রকাশে গাফিলতি, ছাত্র-ছাত্রীদের লাগাতার আন্দোলন কিংবা উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর।

এবার সেই তালিকায় নতুন করে যুক্ত হয়েছে আউটসোর্সিং কর্মীদের বেতন-ভাতা সংক্রান্ত বঞ্চনা এবং শ্রম আইন লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ। ত্রিপুরা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে আউটসোর্সিং ব্যবস্থার মাধ্যমে নিযুক্ত একদল ক্যাজুয়াল কর্মী দীর্ঘদিন ধরে শোষণ, ন্যূনতম মজুরি আইনের লঙ্ঘন এবং প্রাপ্য পারিশ্রমিক থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় শ্রম কমিশনারের দ্বারস্থ হয়েছেন।

অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি বর্তমানে ন্যূনতম মজুরি আইন, ১৯৪৮-এর আওতায় বিচারাধীন রয়েছে। শ্রম কমিশনারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৮ জুন ২০২৬ গুয়াহাটিতে অবস্থিত উপ-মুখ্য শ্রম কমিশনার (কেন্দ্রীয়)-এর কার্যালয়ে মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। দেবব্রত বিশ্বাসসহ একাধিক কর্মীর দায়ের করা অভিযোগে বলা হয়েছে, গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রায় ৮০ জন কর্মী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করলেও তাঁদের প্রাপ্য ন্যূনতম মজুরি প্রদান করা হয়নি।

অভিযোগ অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত অর্থ ঠিকাদারি সংস্থার মাধ্যমে প্রদান করলেও সংশ্লিষ্ট আউটসোর্সিং সংস্থা এম/এস এস বসু ঠাকুর অ্যান্ড কোম্পানি কর্মীদের প্রাপ্য অর্থের একটি বড় অংশ কেটে নিচ্ছে। ফলে কর্মীরা সরকারি নির্ধারিত মজুরির তুলনায় অনেক কম পারিশ্রমিক হাতে পাচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা এই প্রক্রিয়ার ফলে বহু কর্মী আর্থিক সংকটের মধ্যে জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু মজুরি নয়, শ্রমিকদের অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট আউটসোর্সিং সংস্থা উভয়েই শ্রম আইন, উপস্থিতি নথি সংরক্ষণ, মজুরি স্লিপ প্রদানসহ বিভিন্ন বাধ্যতামূলক বিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করেনি।

শ্রম কমিশনারের জারি করা নোটিশে কর্মচারী নিবন্ধনপত্র, মজুরি নিবন্ধনপত্র, উপস্থিতি রেজিস্টার এবং মজুরি স্লিপ আদালতে পেশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নির্ধারিত দিনে উপস্থিত না থাকলে একতরফাভাবে মামলার নিষ্পত্তির কথাও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে কর্মরত শ্রমিকদের একাংশের দাবি, বছরের পর বছর তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন।

অথচ তাঁদের ন্যায্য অধিকার, সামাজিক সুরক্ষা ও প্রাপ্য মজুরি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে চরম উদাসীনতা লক্ষ্য করা গেছে। তাঁদের অভিযোগ, আউটসোর্সিং ব্যবস্থাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে কিছু সংস্থা শ্রমিকদের ঘামঝরা পরিশ্রমের অর্থ আত্মসাৎ করছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজের সামনে স্বচ্ছতা, নৈতিকতা ও আইনের শাসনের উদাহরণ স্থাপন করার কথা, সেই প্রতিষ্ঠান বারবার নানা অভিযোগে জড়িয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও প্রশ্ন উঠছে।

অতীতে নিয়োগ দুর্নীতি, আর্থিক অনিয়ম, কর্মী ছাঁটাই, পরীক্ষা ও ফলাফল সংক্রান্ত বিতর্কে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়েছে। এখন শ্রমিক বঞ্চনার অভিযোগ সামনে আসায় পরিস্থিতি আরও অস্বস্তিকর হয়ে উঠেছে। শ্রমিক সংগঠনগুলির একাংশের মতে, আউটসোর্সিং ব্যবস্থার আড়ালে শ্রমিক শোষণের যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, তার বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও বিচারিক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

তাঁদের দাবি, শুধুমাত্র বকেয়া মজুরি পরিশোধ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না, বরং শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো প্রতিষ্ঠান বা ঠিকাদারি সংস্থা শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার হরণ করার সাহস না পায়।

এখন সকলের নজর ৮ জুনের শুনানির দিকে। শ্রমিকদের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য সামনে আসবে এবং তাঁরা তাঁদের ন্যায্য অধিকার ফিরে পাবেন। একই সঙ্গে রাজ্যের শিক্ষাজগতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ও এই বিতর্ক থেকে শিক্ষা নিয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার পথে এগোবে এমনটাই প্রত্যাশা সচেতন মহলের।

You may also like

Leave a Comment