Home » Blog » বিলোনিয়া সিএমও অফিসে আগুন

বিলোনিয়া সিএমও অফিসে আগুন

বিলোনিয়া সিএমও অফিসে অগ্নিকাণ্ড: পুড়ে ছাই নতুন জেনারেটর, মুখে কুলুপ অফিস কর্তৃপক্ষের!

by Planet Tripura
0 comments 5 views

নিজস্ব প্রতিনিধি, বিলোনিয়া, ৩ জুলাই: দক্ষিণ জেলার সদর বিলোনিয়াস্থিত দক্ষিণ জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক (সিএমও) কার্যালয়ে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ল। শুক্রবার দুপুরে আচমকাই এই অগ্নিকাণ্ডের জেরে গোটা অফিস চত্বরে ব্যাপক আতঙ্ক এর পরিবেশ সৃষ্টি হয় । তবে অফিস কর্মী এবং অগ্নিনির্বাপক দপ্তরের কর্মীদের দ্রুত তৎপরতায় এক বড়সড় ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে পুরো অফিসটি।

জানা গেছে, শুক্রবার দুপুরে অফিস চলাকালীন আচমকাই কিছু সময়ের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থার জন্য অফিসের জেনারেটরটি চালু করা হয়। কিন্তু চালুর অল্প সময়ের মধ্যেই জেনারেটর থেকে প্রথমে গলগল করে কালো ধোঁয়া বের হতে শুরু করে এবং মুহূর্তের মধ্যে তা ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে রূপ নেয়।

অফিস চত্বর কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যেতে দেখে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে কর্মীদের মধ্যে। প্রাণ বাঁচাতে মুহূর্তের মধ্যেই সবাই অফিস ভবন থেকে বাইরে বেরিয়ে আসেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে কর্মীরা দ্রুত জল সংগ্রহ করে আগুন নিয়ন্ত্রণের প্রাথমিক চেষ্টা চালান। একই সাথে জেনারেটরের পাশে পার্কিংয়ে থাকা সমস্ত যানবাহনগুলোও দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়, যার ফলে আরও বড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

ঘটনার খবর দেওয়া হয় বিলোনিয়া অগ্নিনির্বাপক দপ্তরে। খবর পেয়েই দমকল কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং যুদ্ধকালীন তৎপরতায় আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনেন। দমকল ও অফিস কর্মীদের যৌথ ও দ্রুত পদক্ষেপের ফলে আগুন কোনোভাবে মূল অফিস ভবনে ছড়িয়ে পড়তে পারেনি। তবে আগুনে জেনারেটরটি সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই ঘটনার সময় দক্ষিণ জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক (সিএমও) কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন না। অন্যদিকে, ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হওয়া সত্ত্বেও অফিসের অন্য কোনো কর্মী সংবাদ মাধ্যমের সামনে এই বিষয়ে মুখ খুলতে রাজি হননি। বিলোনিয়া অগ্নিনির্বাপক দপ্তরের সদস্যরা ঘটনার বিবরণ দিলেও, সিএমও কার্যালয়ের পক্ষ থেকে সরকারিভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। কর্তৃপক্ষের এই রহস্যজনক নীরবতা নিয়ে নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেনারেটরটি নতুন হওয়া সত্ত্বেও একাধিকবার বিকল হয়েছে এবং বারবার এটি মেরামত করা হয়েছে। এমনকি সম্প্রতি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সরকারি অর্থ ব্যয় করে জেনারেটরটি সারাই করা হয়েছিল। তাহলে মেরামতের ঠিক পরপরই আবার কীভাবে এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটল? কেনই বা সম্পূর্ণ জেনারেটরটি পুড়ে ছাই হয়ে গেল? সরকারি অর্থ ব্যয়ের নামে কোনো গাফিলতি বা দুর্নীতি লুকিয়ে রয়েছে কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মহলে একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এখন দেখার, প্রশাসন এই ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং দায় নির্ধারণের জন্য কোনো উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেয় কি না।

You may also like

Leave a Comment