Home » Blog » ত্রিপুরায় প্রথম সরকারি আয়ুর্বেদিক মেডিক্যাল কলেজ

ত্রিপুরায় প্রথম সরকারি আয়ুর্বেদিক মেডিক্যাল কলেজ

ত্রিপুরায় প্রথম সরকারি আয়ুর্বেদিক মেডিক্যাল কলেজ, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকেই ৬০ আসনে ভর্তি শুরু

by Planet Tripura
0 comments 6 views

ত্রিপুরায় প্রথম সরকারি আয়ুর্বেদিক মেডিক্যাল কলেজের সূচনা, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকেই ভর্তি শুরু : স্বাস্থ্য সচীব

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা ২৭ জুন : ত্রিপুরার স্বাস্থ্য পরিষেবা ও চিকিৎসা শিক্ষায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। রাজ্যে প্রথমবারের মতো সরকারি আয়ুর্বেদিক মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনের অনুমোদন মিলেছে। আগামী ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকেই বি.এ.এম.এস (ব্যাচেলর অব আয়ুর্বেদিক মেডিসিন অ্যান্ড সার্জারি) কোর্সে ৬০টি আসনে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হবে। এর ফলে এখন থেকে রাজ্যের ছাত্রছাত্রীদের আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা শিক্ষার জন্য আর অন্য রাজ্যে যেতে হবে না। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ডা: মানিক সাহা জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় আয়ুষ মন্ত্রকের সহযোগিতায় গোমতী জেলার উদয়পুরে ইন্টিগ্রেটেড ত্রিপুরা সরকারি আয়ুর্বেদিক মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল গড়ে তোলা হচ্ছে। শনিবার দুপুরে উদয়পুরের চন্দ্রপুর এলাকায় কলেজের অস্থায়ী ক্যাম্পাস পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের মুখ্য সচিব কিরণ গিত্ত্যে। তাঁর সঙ্গে ছিলেন গোমতী জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ কমল রিয়াং, অতিরিক্ত জেলাশাসক সুভাষ আচার্য্য, গ্রাম উন্নয়ন দপ্তরের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার তপন সরকারসহ স্বাস্থ্য ও প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্য সচিব জানান, আপাতত চন্দ্রপুরের অস্থায়ী ক্যাম্পাস থেকেই কলেজের পাঠদান শুরু হবে। আগামী প্রায় দুই বছর এখানেই শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এই সময়ের মধ্যে উদয়পুরের টেপানিয়া এলাকায় স্থায়ী ক্যাম্পাস, অত্যাধুনিক হাসপাতাল, একাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক ব্লক এবং ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য পৃথক হোস্টেল নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করা হবে। নির্মাণ শেষ হলে কলেজটিকে স্থায়ীভাবে টেপানিয়ায় স্থানান্তর করা হবে। তিনি জানান, অস্থায়ী ক্যাম্পাসে ইতিমধ্যেই আধুনিক ক্লাসরুম, ফ্যাকাল্টি রুম, হাসপাতালের ওপিডি ও আইপিডি পরিষেবা, প্রয়োজনীয় ল্যাবরেটরি এবং ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা সম্পন্ন হয়েছে।

ফলে চলতি শিক্ষাবর্ষ থেকেই নির্বিঘ্নে শিক্ষাদান শুরু করা সম্ভব হবে। স্বাস্থ্য সচিব আরও জানান, এ বছর যারা নিট (NEET) পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন, তারাই সর্বভারতীয় মেধাতালিকার ভিত্তিতে বিএএমএস কোর্সে ভর্তির সুযোগ পাবেন। প্রথম পর্যায়ে ৬০টি আসনে ভর্তি নেওয়া হবে। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পের জন্য প্রায় ৭০ কোটি টাকা অনুমোদন করেছে। আগামী দিনে আরও অর্থ বরাদ্দ হলে টেপানিয়ায় একটি পূর্ণাঙ্গ, আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের সরকারি আয়ুষ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল গড়ে তোলা হবে, যেখানে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসার পাশাপাশি গবেষণা ও উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবারও সুযোগ থাকবে। স্বাস্থ্য সচিব জানান, রাজ্য সরকার শুধু আয়ুর্বেদিক শিক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না।

হোমিওপ্যাথি শিক্ষার প্রসারেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। রাজধানী আগরতলার রেন্টার্স সোসাইটি এলাকায় একটি সরকারি হোমিওপ্যাথি মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে বিএইচএমএস (ব্যাচেলর অব হোমিওপ্যাথিক মেডিসিন অ্যান্ড সার্জারি) শিক্ষার জন্যও রাজ্যের শিক্ষার্থীদের আর বাইরে যেতে হবে না। তিনি বলেন, আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় চিকিৎসা পদ্ধতির বিকাশ ঘটিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে আরও উন্নত, সহজলভ্য ও সমন্বিত স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দেওয়াই রাজ্য সরকারের লক্ষ্য।

এই উদ্যোগ ত্রিপুরার চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পরিদর্শনের শেষে স্বাস্থ্য সচিব এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহাকে ধন্যবাদ জানান এবং বলেন, আগামী দিনে এই প্রতিষ্ঠান শুধু ত্রিপুরা নয়, সমগ্র উত্তর-পূর্বাঞ্চলের চিকিৎসা শিক্ষার ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে।

You may also like

Leave a Comment