ইউকো ব্যাংকের ধর্মনগরের চন্দ্রপুর শাখার এক গ্রাহকের সঞ্চয়ী হিসাব থেকে অনুমতি ছাড়া প্রায় ১১ লক্ষ ৯৪ হাজার ৫৬৯ টাকা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারী কৈলাসহারের দুর্গাপুরের বাসিন্দা সরকারি কর্মচারী দিলীপ কুমার দাস। এ বিষয়ে তিনি ইউকো ব্যাংকের গুয়াহাটি জোনাল অফিসের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার ও ফিল্ড ইন্সপেক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ২০২১ সালে ১০ লক্ষ টাকার গৃহঋণের জন্য আবেদন করার সময় তৎকালীন শাখা ব্যবস্থাপক সুরজিৎ মল্লিক তাঁকে কয়েকটি টাকা উত্তোলনের রসিদে স্বাক্ষর করতে বলেছিলেন। অভিযোগকারীর দাবি, পরবর্তীতে তাঁর অজ্ঞাতে ওই স্বাক্ষর করা রসিদ ব্যবহার করে বিভিন্ন সময়ে তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা উত্তোলন করা হয়। ২০২৬ সালের ৫ জানুয়ারি ব্যাংক স্টেটমেন্ট পরীক্ষা করার সময় বিষয়টি তাঁর নজরে আসে বলে অভিযোগ।
অভিযোগকারীর দাবি, মোট ২৫টি উত্তোলন লেনদেনের মধ্যে সাতটির রসিদ এখনও তাঁকে দেওয়া হয়নি। কয়েকটি রসিদে তাঁর স্বাক্ষর জাল করে ব্যবহার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। একটি রসিদে ‘দিলীপ পাল’ নাম উল্লেখ থাকা সত্ত্বেও কীভাবে সেই রসিদের মাধ্যমে ৪৫ হাজার টাকা উত্তোলন করা হলো, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
এর পাশাপাশি, তাঁর নামে ২ লক্ষ ৪২ হাজার টাকার একটি ঋণ ১৮ মার্চ ২০২২ অনুমোদন ও পরে উত্তোলন করা হয়েছে বলেও তিনি জানতে পারেন বলে অভিযোগ করেছেন। সংশ্লিষ্ট ঋণ হিসাবের নম্বর ২৫২০০৬১০০০৮২৯৪।
দিলীপ কুমার দাসের দাবি, তাঁর ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সমস্ত লেনদেন, উত্তোলন রসিদ এবং ঋণ সংক্রান্ত নথির নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে টাকা ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তিনি।
তবে অভিযোগে উল্লিখিত অনিয়ম ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা এখনও প্রমাণিত নয়। ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এবং তদন্তের ফলাফল প্রকাশ্যে এলে বিষয়টি সম্পর্কে আরও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে।