Home » Blog » আগরতলায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পালিত মহরম

আগরতলায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পালিত মহরম

আগরতলায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পালিত পবিত্র মহরম, সম্প্রীতির বার্তা দিল শোকযাত্রা

by Planet Tripura
0 comments 5 views

শোক, ত্যাগ ও সম্প্রীতির বার্তা, রাজধানী আগরতলায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পালিত হলো পবিত্র মহরম

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা: : যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, শোকাবহ পরিবেশ এবং কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে রাজধানী আগরতলায় পালিত হলো পবিত্র মহরম। ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের কাছে মহরম কেবল হিজরি নববর্ষের সূচনা নয়, বরং সত্য, ন্যায়, ত্যাগ ও আত্মত্যাগের এক চিরন্তন প্রতীক। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো ত্রিপুরাতেও দিনটি গভীর শ্রদ্ধা ও ধর্মীয় আবহে পালন করা হয়। মহরম উপলক্ষে শুক্রবার আগরতলার বর্ডার গোলচক্কর এলাকা থেকে একটি বিশাল শোকযাত্রা বা জুলুস বের হয়।

এতে বিপুল সংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ও ইসলাম ধর্মাবলম্বী অংশগ্রহণ করেন।শোকযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পরিক্রমা করে। অংশগ্রহণকারীরা ইমাম হোসেন (রা.)-এর আত্মত্যাগের স্মরণে শোক প্রকাশ করেন এবং মানবতা, ন্যায়, শান্তি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা তুলে ধরেন। অনেকের হাতে ছিল কালো পতাকা ও ধর্মীয় ব্যানার। ধর্মীয় শোকগাথা পাঠের মধ্য দিয়ে কারবালার বেদনাবিধুর স্মৃতিকে স্মরণ করা হয়। শোকযাত্রাকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সেজন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। পুলিশ, টিএসআর ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পুরো শোভাযাত্রা জুড়ে সতর্ক অবস্থানে ছিলেন।

ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাও ছিল সুসংগঠিত। প্রশাসনের সার্বিক তৎপরতায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সমগ্র কর্মসূচি সম্পন্ন হয়। ইসলামি হিজরি বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস হলো মহরম। এই মাসের ১০ তারিখ, যা ‘আশুরা’ নামে পরিচিত, ইসলামের ইতিহাসে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ দিন। ৬৮০ খ্রিস্টাব্দে বর্তমান ইরাকের কারবালার প্রান্তরে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র হযরত ইমাম হোসেন (রা.) এবং তাঁর অল্পসংখ্যক সঙ্গী সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে শাহাদাত বরণ করেন। অন্যায়, জুলুম ও স্বৈরাচারের কাছে মাথা নত না করে সত্যের পথে অবিচল থাকার যে অনন্য দৃষ্টান্ত তিনি স্থাপন করেছিলেন, তা আজও বিশ্ববাসীর কাছে আত্মত্যাগ, ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধের এক উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত।

মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের কাছে মহরমের গুরুত্ব তাই শুধুমাত্র শোক প্রকাশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি আত্মসংযম, ধৈর্য, নৈতিকতা, ত্যাগ এবং সত্যের পক্ষে অবিচল থাকার শিক্ষা দেয়। বিশেষ করে আশুরার ঘটনায় নিহিত রয়েছে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং মানবতার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণের বার্তা, যা যুগে যুগে মানুষকে অনুপ্রাণিত করে আসছে। ত্রিপুরাতেও দীর্ঘদিন ধরে সম্প্রীতির আবহে মহরম পালনের ঐতিহ্য রয়েছে। রাজধানী আগরতলা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ধর্মীয় শোকযাত্রা, দোয়া-মাহফিল, কোরআন তেলাওয়াত এবং নানা ধর্মীয় কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

প্রশাসনের সহযোগিতা এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের পারস্পরিক সৌহার্দ্যের ফলে প্রতি বছরের মতো এবারও শান্তিপূর্ণভাবে মহরম পালন হয়েছে। এই দিনটি শুধু মুসলিম সমাজের জন্য নয়, বরং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সহনশীলতা এবং মানবিক মূল্যবোধের এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। এবারের মহরম পালনও সেই ঐতিহাসিক কারবালার আত্মত্যাগের স্মৃতিকে নতুন করে স্মরণ করিয়ে দিল।একই সঙ্গে শান্তি, ভ্রাতৃত্ব, ন্যায় ও মানবতার আদর্শকে ধারণ করে সমাজকে আরও সম্প্রীতির পথে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানাল রাজধানী আগরতলার এই শোকযাত্রা।

You may also like

Leave a Comment