পরকীয়ার ছোবলে ভাঙছে সংসার, নগদ অর্থ স্বর্নালংকার নিয়ে পালালো স্ত্রী, আমতলী থানার দারস্ত স্বামী
নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা ২৭ জুন : রাজধানীর আমতলী থানার অন্তর্গত সূর্যমনিনগর এলাকায় এক গৃহবধূকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনায় ওই গৃহবধূর স্বামী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁর দাবি, স্ত্রী এক ব্যক্তির সঙ্গে বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছেন এবং যাওয়ার সময় নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকারও নিয়ে গেছেন। একই সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে জমি দখল, চাঁদাবাজি এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগও তোলা হয়েছে।
যদিও এসব অভিযোগের সত্যতা এখনও তদন্তসাপেক্ষ এবং অভিযুক্তের কোনও বক্তব্য এখনও সামনে আসেনি। অভিযোগকারী হাছন সরকার জানান, প্রায় নয় বছর আগে কমলাসাগর এলাকার রাখি নমঃ-কে তিনি সামাজিকভাবে বিয়ে করেন। তাঁদের সাত বছরের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, সম্প্রতি সূর্যমনিনগরের জয়কালী কলোনির বাসিন্দা রাধারমন দেবের সঙ্গে তাঁর স্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ২৫ জুন তাঁর স্ত্রী বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। অভিযোগ, যাওয়ার সময় তিনি প্রায় ৩ লক্ষ টাকা নগদ এবং আনুমানিক ৫ ভরি স্বর্ণালংকার, যার মূল্য প্রায় ৮ লক্ষ টাকা, সঙ্গে নিয়ে যান। হাছন সরকারের দাবি, বাড়িতে ফিরে স্ত্রীকে না পেয়ে তিনি বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেন এবং পরে আমতলী থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি দায়ের করেন।
পরবর্তীতে তিনি জানতে পারেন, তাঁর স্ত্রী অভিযুক্ত রাধারমন দেবের সঙ্গে চলে গিয়েছেন বলে অভিযোগ। এরপর শনিবার তিনি অভিযুক্তের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দেন। সংবাদমাধ্যমের সামনে অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, অভিযুক্ত দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত অনিয়ম, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং চাঁদাবাজির মতো বেআইনি কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তিনি এই সমস্ত অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। তবে উল্লেখ্য, রাধারমন দেবের বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগই অভিযোগকারীর বক্তব্য। এই বিষয়ে অভিযুক্তের কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি। আমতলী থানার পুলিশ অভিযোগ গ্রহণ করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
তদন্ত শেষ হওয়ার পরই প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।এই ঘটনার প্রেক্ষিতে আবারও সামনে এসেছে সমাজে দাম্পত্য সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং পরিবার ভাঙনের উদ্বেগজনক চিত্র। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন এলাকায় পরকীয়া সম্পর্ককে ঘিরে একের পর এক অভিযোগ সামনে আসছে। কোথাও বহু বছরের দাম্পত্য জীবন ভেঙে যাচ্ছে, কোথাও আবার পরিবার ছেড়ে নতুন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার ঘটনা ঘটছে। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্বামী-স্ত্রী, সন্তান এবং উভয় পরিবারের সদস্যরা। বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের মানসিক বিকাশ ও ভবিষ্যতের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে সমাজবিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক করে আসছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দাম্পত্য সম্পর্কে পারস্পরিক বিশ্বাসের অভাব, যোগাযোগের ঘাটতি, পারিবারিক অশান্তি, আর্থিক চাপ কিংবা ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব অনেক সময় সম্পর্ক ভাঙনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তবে প্রতিটি ঘটনার কারণ এক নয়, তাই কোনও ঘটনাকে সাধারণীকরণ না করে পৃথকভাবে বিচার করা জরুরি। সামাজিক সচেতন মহলের মতে, পরিবারে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, খোলামেলা আলোচনা, সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং প্রয়োজনে কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে অনেক সংকটই এড়ানো সম্ভব।
পাশাপাশি আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে আইনের আশ্রয় নেওয়া এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমতলীর এই ঘটনাও এখন পুলিশের তদন্তাধীন। অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে। তবে এই ঘটনা আবারও স্মরণ করিয়ে দিল, একটি সম্পর্ক ভেঙে গেলে তার প্রভাব শুধু দুই ব্যক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, এর অভিঘাত পড়ে সন্তান, পরিবার এবং বৃহত্তর সমাজের ওপরও। তাই পারিবারিক মূল্যবোধ রক্ষা, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইন ও বিচারব্যবস্থার কার্যকর প্রয়োগের মাধ্যমে সুস্থ ও দায়িত্বশীল সমাজ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা আজ আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে।