আমতলীর বৈষ্ণবটিলায় ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি কমিউনিটি হলের উদ্বোধন
আগরতলা: জনপ্রতিনিধিদের শুধু প্রতিশ্রুতি দিলে চলবে না, বাস্তবে উন্নয়নমূলক কাজের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে। মানুষের জন্য কাজ না করলে আগামী দিনে নির্বাচনের সময় জনগণের কাছে গিয়ে কী জবাব দেওয়া হবে, সেই প্রশ্ন জনপ্রতিনিধিদের নিজেদের কাছেই রাখা উচিত। আমতলীর বৈষ্ণবটিলায় ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি কমিউনিটি হলের উদ্বোধন করে এই বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা।
আগরতলা পুর নিগমের ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডের উদ্যোগে নির্মিত এই কমিউনিটি হলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুর নিগমের মেয়র দীপক মজুমদার, ডেপুটি মেয়র মনিকা দাস দত্ত, বিধায়িকা মীনা রানী সরকার, স্থানীয় কর্পোরেটর হরিসাধন দেবনাথ-সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ মানুষ তাঁদের ওপর আস্থা রেখেই নির্বাচিত করেন। তাই সেই আস্থার মর্যাদা রক্ষা করা জনপ্রতিনিধিদের নৈতিক দায়িত্ব। মানুষের সমস্যা বোঝা, তাঁদের পাশে দাঁড়ানো এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করাই জনপ্রতিনিধিদের প্রধান কর্তব্য হওয়া উচিত।
তিনি বলেন, স্থানীয় প্রশাসনের নির্বাচন থেকে শুরু করে বিধানসভা ও লোকসভা নির্বাচন—প্রতিটি ক্ষেত্রেই জনপ্রতিনিধিদের দায়বদ্ধতা থাকা জরুরি। নির্বাচনের সময় প্রতিশ্রুতি দেওয়া সহজ হলেও তা বাস্তবায়ন করাই আসল কাজ। নির্বাচিত হওয়ার পর সাধারণ মানুষের সমস্যা ও অভাব-অভিযোগের কথা ভুলে গেলে চলবে না। মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে তাঁদের সমস্যার সমাধানে উদ্যোগী হতে হবে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, এলাকার উন্নয়নের সুফল সরাসরি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। জনপ্রতিনিধিদের নিজ নিজ এলাকার মানুষের প্রত্যাশা ও দৈনন্দিন সমস্যার প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। মানুষের পাশে থেকে কাজ করা এবং তাঁদের বিশ্বাস অর্জনের মধ্য দিয়েই একজন জনপ্রতিনিধির সাফল্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
এদিন দেশের মনীষীদের জীবনাদর্শ, দেশপ্রেম এবং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির চিন্তাধারাকে সামনে রেখে রাজ্য সরকার উন্নয়নমূলক কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। সরকারের উন্নয়নমূলক উদ্যোগের সুফল সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, বৈষ্ণবটিলা এলাকায় নির্মিত এই কমিউনিটি হল স্থানীয় বাসিন্দাদের বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজনের ক্ষেত্রে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে জনসেবা, দায়বদ্ধতা এবং বাস্তব উন্নয়নের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জনের বিষয়টি বিশেষভাবে উঠে আসে।