পাণ্ডুয়ায় মাঠে গরু আনতে গিয়ে বজ্রাঘাতে মৃত্যু সিভিক ভলান্টিয়ারের, পুলিশ মহলে গভীর শোকের ছায়া
নিজস্ব প্রতিনিধি, পাণ্ডুয়া: বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির জেরে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনার সাক্ষী থাকল হুগলির পাণ্ডুয়া। মাঠে গরু আনতে গিয়ে বজ্রাঘাতে মৃত্যু হল পাণ্ডুয়া থানার এক কর্মরত সিভিক ভলান্টিয়ারের। মৃত যুবকের নাম বাপ্পা মুখার্জি (৪০)। এই আকস্মিক ও অকাল মৃত্যুতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে পাণ্ডুয়া থানা এবং গোটা হুগলি গ্রামীণ পুলিশ মহলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল থেকেই পাণ্ডুয়া ও সংলগ্ন এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎসহ দফায় দফায় বৃষ্টি হচ্ছিল। পাণ্ডুয়ার সিমলাগড়-তালবোনা এলাকার বাসিন্দা বাপ্পা মুখার্জি সকালের দিকে বাড়ির ঠিক পাশের মাঠে নিজের গবাদি পশুদের নিয়ে আসতে যান। ঠিক তখনই আচমকা তাঁর ওপর তীব্র বজ্রপাত হয়। ঘটনাস্থলেই সংজ্ঞাহীন হয়ে লুটিয়ে পড়েন তিনি। বজ্রাঘাতের তীব্রতায় মাঠেই একটি গবাদি পশুরও মৃত্যু হয়।
ভয়াবহ এই দৃশ্য দেখে আশেপাশের লোকজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত মাঠে ছুটে আসেন। তাঁরা তড়িঘড়ি রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় বাপ্পাকে উদ্ধার করে পাণ্ডুয়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে দুর্ভাগ্যবশত, হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, চার ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট বাপ্পা ছিলেন অবিবাহিত। অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে তিনি পাণ্ডুয়া থানায় সিভিক ভলান্টিয়ার হিসেবে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে নিজের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তাঁর মিশুকে স্বভাব এবং কর্তব্যপরায়ণতার জন্য থানা এবং সহকর্মীদের মধ্যে তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন।
মৃতের দাদা সজল মুখার্জি জানান, “ভাই সকালে মাঠে গরু আনতে গিয়েছিল। তখনই হঠাৎ বাজ পড়ে। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও ডাক্তারবাবু আর শেষ রক্ষা করতে পারেননি। দীর্ঘদিন ও পাণ্ডুয়া থানাতেই কর্মরত ছিল।”
খবর পেয়ে পাণ্ডুয়া থানার পুলিশ শোকস্তব্ধ হাসপাতালে পৌঁছায়। পুলিশ হাসপাতাল থেকে মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চুঁচুড়া ইমামবাড়া জেলা হাসপাতালে পাঠিয়েছে। একজন প্রিয় সহকর্মীকে এভাবে হারিয়ে পাণ্ডুয়া থানার পুলিশ কর্মীদের চোখে জল।