মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের অভিযোগ, করিমপুর থানায় লিখিত অভিযোগ বিজেপি নেতার
নিজস্ব প্রতিনিধি, নদিয়া : সাম্প্রদায়িক উস্কানির অভিযোগে মহুয়া মৈত্র-এর বিরুদ্ধে করিমপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেন এক বিজেপি নেতা। পশ্চিমবঙ্গ পশু হত্যা নিয়ন্ত্রণ আইন (১৯৫০)-এর সাম্প্রতিক নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে সাংসদের একটি ফেসবুক পোস্ট ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ দায়ের করেছেন করিমপুর বিধানসভার মণ্ডল ৩-এর সহ-সভাপতি গোলক বিশ্বাস। তাঁর দাবি, মহুয়া মৈত্রের বক্তব্য “উস্কানিমূলক” এবং “সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের চেষ্টা”।
অভিযোগের সূত্রপাত গত ১৬ মে ২০২৬-এ মহুয়া মৈত্রের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত একটি ভিডিও পোস্টকে ঘিরে। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের গোহত্যা সংক্রান্ত নির্দেশিকা একটি বিশেষ শ্রেণীকে খুশি করার উদ্দেশ্যে আনা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এর ফলে বিভিন্ন পশুহাটে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে এবং গরু কেনাবেচার সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
ভিডিও বার্তায় সাংসদ আরও দাবি করেন, কেন্দ্রীয় সরকার ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে গোমাংস রপ্তানি করে বিপুল পরিমাণ বাণিজ্য করেছে। সেই প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি রপ্তানিতে কোনও বাধা না থাকে, তবে সাধারণ মানুষের গরু কেনাবেচার উপর কড়াকড়ি কেন।
এই মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন করিমপুরের বিজেপি বিধায়ক সমরেন্দ্রনাথ ঘোষ। তিনি বলেন, “সরকারি নির্দেশিকায় কোথাও পশুহাট বন্ধ বা কেনাবেচা নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়নি। সীমান্ত দিয়ে গরু পাচার রুখতেই এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। সাংসদের মন্তব্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও উদ্দেশ্যমূলক।”
বিধায়ক আরও দাবি করেন, এই ধরনের মন্তব্য সীমান্ত এলাকায় গরু পাচারকারীদের পরোক্ষভাবে মদত দেওয়ার শামিল। পাশাপাশি তিনি প্রশাসনের কাছে গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখার দাবি জানান।
ঘটনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে চলতি মাসের ৯ তারিখে বিজেপি নেতা গোলক বিশ্বাসের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট। সেখানে তিনি লিখেছিলেন, “করিমপুর এলাকায় যে ব্যক্তি কালনাগিনী মহুয়াকে জমি বা বাড়ি ভাড়া অথবা বিক্রি করবে, তাকে এলাকার চরম শত্রু বলে চিহ্নিত করা হবে।” এই পোস্টের বিরুদ্ধে আগেই করিমপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন মহুয়া মৈত্র।
গোলক বিশ্বাসের পাল্টা দাবি, মহুয়া মৈত্র দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করে পরিবেশ উত্তপ্ত করছেন। এমনকি বাড়িভাড়া সংক্রান্ত বিষয় নিয়েও স্থানীয়দের সঙ্গে তাঁর বিতর্ক হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ঘিরে সীমান্তবর্তী করিমপুর এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে। পুলিশ পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।