Home » Blog » রাস্তা সংস্কারের আগেই রাজনৈতিক প্রচার

রাস্তা সংস্কারের আগেই রাজনৈতিক প্রচার

কদমতলা-রানীবাড়ী সড়কের বেহাল দশা, ১১ কিমি দুর্ভোগে ক্ষুব্ধ জনতা

by Planet Tripura
0 comments 5 views

কদমতলা-রানীবাড়ী সড়কের বেহাল দশা ১১ কিলোমিটার দুর্ভোগের মাঝে মাত্র পাঁচ মিটার সংস্কারে রাজনৈতিক প্রচার!

নিজস্ব প্রতিনিধি:- উত্তর ত্রিপুরার কদমতলা-রানীবাড়ী সড়কের দীর্ঘদিনের বেহাল অবস্থাকে ঘিরে ক্ষোভে ফুঁসছে সাধারণ মানুষ। বছরের পর বছর ধরে রাস্তার দুরবস্থার কারণে চরম ভোগান্তির শিকার হলেও কার্যকর কোনও স্থায়ী উদ্যোগ দেখা যায়নি প্রশাসন বা জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে। অবশেষে বুধবার রাস্তার থানা সংলগ্ন বাংলাবাজার এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত অংশে সাময়িকভাবে কিছু পাথর ফেলে চলাচলের উপযোগী করার কাজ শুরু হলেও, গোটা বিষয়টি নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার পাশে উপযুক্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাবে জল জমে থেকে রাস্তার একটি অংশ সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়ে। কদমতলা থেকে রানীবাড়ী পর্যন্ত প্রায় ১১ কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন অংশ বেহাল অবস্থায় থাকলেও প্রশাসনের তরফে দীর্ঘ সময় কোনও স্থায়ী সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। স্কুল পড়ুয়া, রোগী, অফিসযাত্রীসহ প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন।

এমন পরিস্থিতিতে বুধবার ধর্মনগরের নবনির্বাচিত বিধায়ক জহর চক্রবর্তী রাস্তার মাত্র পাঁচ মিটারের একটি অংশে পাথর ফেলে অস্থায়ী সংস্কারের কাজ শুরু করেন। যদিও এলাকাবাসীর একাংশের অভিযোগ, দীর্ঘ ১১ কিলোমিটার রাস্তার দুরবস্থার মাঝে মাত্র পাঁচ মিটার সংস্কারকে সামনে এনে রাজনৈতিক প্রচারের চেষ্টা চলছে।

অন্যদিকে, কদমতলা-কুর্তি বিধানসভার বিধায়ক ইসলাম উদ্দিন-এর বিরুদ্ধেও দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি হয়েও তিনি সমস্যার স্থায়ী সমাধানে দৃশ্যমান কোনও পদক্ষেপ নেননি। ফলে এলাকায় ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে।

জানা গেছে, কদমতলা মণ্ডলের সভাপতি বিমল পুরকায়স্থ এবং উত্তর জেলা বিজেপির সহ-সভাপতি করুণা নাথ বিষয়টি ধর্মনগরের বিধায়কের নজরে আনেন। এরপর পূর্ত দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করে অস্থায়ী সংস্কারের ব্যবস্থা করা হয়। তবে এলাকাবাসীর প্রশ্ন, এতদিন পর শুধুমাত্র সাময়িক মেরামত করে কি মানুষের দুর্ভোগের স্থায়ী সমাধান সম্ভব?

বিধায়ক জহর চক্রবর্তী জানান, রাস্তা প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনার আওতাধীন হওয়ায় পূর্ত দপ্তর সরাসরি স্থায়ী সংস্কার করতে পারছে না। নির্মাণকারী সংস্থার রক্ষণাবেক্ষণের মেয়াদ শেষ হলে পরবর্তীতে পূর্ত দপ্তর ব্যবস্থা নেবে বলে তিনি দাবি করেন। পাশাপাশি আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী গ্রামীণ সড়ক যোজনার তরফে সংস্কারের আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।

তবে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন একটাই—বছরের পর বছর ধরে অবহেলিত এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কের স্থায়ী সমাধান কবে হবে? শুধু আশ্বাস আর সাময়িক মেরামত দিয়ে কি ১১ কিলোমিটার দুর্ভোগের অবসান সম্ভব? কোটি টাকার এই প্রশ্নের উত্তর এখনো অধরাই রয়ে গেছে।

You may also like

Leave a Comment