Home » Blog » ধর্ষণের অভিযোগ, তবুও অধরা অভিযুক্ত !

ধর্ষণের অভিযোগ, তবুও অধরা অভিযুক্ত !

মহিলা থানার ভূমিকা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন

by Planet Tripura
0 comments 16 views

ধর্ষণের অভিযোগ, তবুও অধরা অভিযুক্ত ! মহিলা থানার ভূমিকা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন, আইন কি নির্যাতিতার বিরুদ্ধে ?

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা : গোপন কক্ষে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ, প্রতিবাদে মারধর, এক বছর পরও গ্রেপ্তার নেই! উল্টে নির্যাতিতাকেই অভিযুক্ত বানানোর অভিযোগে সরব এক মহিলা। এটা কি কেবল একটি অপরাধের গল্প ? নাকি গোটা আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থার নগ্ন বাস্তব? খবরে প্রকাশ, আগরতলার জিবি হাসপাতালকে কেন্দ্র করে ওঠা এক ভয়ঙ্কর অভিযোগ আজ রাজ্যের বিবেককে নাড়া দিচ্ছে।

অভিযোগ, একজন মহিলা ব্ল্যাকমেলের শিকার হয়ে শেষ পর্যন্ত ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের মুখোমুখি হয়েছেন। অথচ, এক বছর পেরিয়ে গেলেও মূল অভিযুক্ত এখনও অধরা! অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দু ব্ল্যাকমেল থেকে ধর্ষণ। নন্দননগরের এক মহিলার অভিযোগ অনুযায়ী, তার ব্যক্তিগত ভিডিও হাতিয়ে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাকে ব্ল্যাকমেল করছিল জিবি হাসপাতালের বায়োমেডিক্যাল বিভাগের টেকনিক্যাল কর্মী, শতরাজ কর্মকার।

অভিযোগ, ভিডিও ডিলিট করার আশায় তিনি অভিযুক্তের কাছে গেলে, তাকে একটি গোপন কক্ষে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। এখানেই শেষ নয়, নির্যাতিতার দাবি, প্রতিবাদ করতেই অভিযুক্তসহ আরও কয়েকজন তাকে মারধর করে এবং পরিকল্পিতভাবে তাকে চোর প্রমাণ করার চেষ্টা চালানো হয়। এখন প্রশ্ন তবে কি হাসপাতালও নিরাপদ নয় ? নাকি অপরাধের আখড়া ?

এই ঘটনার পর গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ নির্যাতিতা আগরতলা পূর্ব মহিলা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। এরপর কী হওয়া উচিত ছিল ? দ্রুত তদন্ত, অভিযুক্তের গ্রেপ্তার, ভুক্তভোগীর সুরক্ষা। কিন্তু অভিযোগ উঠছে ঠিক তার উল্টো চিত্রের। এক বছরেও গ্রেপ্তার নেই! তদন্তে গাফিলতি ! মামলা মিটিয়ে নেওয়ার চাপ !

থানায় গেলে অপমান, ধমক, হুমকি !নির্যাতিতার অভিযোগ, পুর্ব মহিলা থানার কিছু পুলিশকর্মী তাকে বারবার চুপ থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। এমনকি মিডিয়ার সামনে মুখ না খোলার ফরমান জারি করা হয়েছে বলেও দাবি। সবচেয়ে ভয়ঙ্কর অভিযোগ পুলিশ নাকি উল্টে নির্যাতিতাকেই টার্গেট করে চার্জশিট তৈরি করেছে। অর্থাৎ, ধর্ষণের অভিযোগকারীকেই চোর বানানোর চেষ্টা। এ কেমন বিচারব্যবস্থা ? যেখানে অভিযোগকারীই অভিযুক্ত!

থানায় প্রতি আস্থা হারিয়ে নির্যাতিতা জেলা পুলিশ সুপারের কাছে যান, এরপর আদালতে ১৬৪ ধারায় ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে নিজের জবানবন্দি দেন। সেখানে মহিলা থানার ওসি ও অন্যান্য পুলিশকর্মীদের আচরণ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। কিন্তু তাতেও কি বদলেছে কিছু ? অভিযোগ না, বরং তার পর থেকেই চাপ, হুমকি, অপমান আরও বেড়েছে।

অভিযোগ উঠছে মূল অভিযুক্তকে বাঁচাতে নাকি সক্রিয় হয়েছেন তার প্রভাবশালী পরিচিতরা। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে আইন কি সবার জন্য সমান ? নাকি ক্ষমতাবানদের জন্য আলাদা ? ধর্ষণের মতো গুরুতর অভিযোগে যদি অভিযুক্ত গ্রেপ্তার না হয়, নির্যাতিতা সুরক্ষা না পান, উল্টে তাকেই অভিযুক্ত বানানো হয়, তাহলে মহিলা থানার প্রয়োজনীয়তা কোথায় ? এটা কি শুধুই একটি ব্যর্থতা? নাকি একটি পদ্ধতিগত সমস্যা, যেখানে ভুক্তভোগীকেই চুপ করিয়ে দেওয়াই লক্ষ্য ? এই ঘটনা একা নয়।

সাম্প্রতিক অতীতে আরও একাধিক ক্ষেত্রে অভিযোগ উঠেছে, থানায় অভিযোগ জানিয়েও নির্যাতিতারা সুবিচার পাননি। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। এতে স্পষ্ট সমস্যা বিচ্ছিন্ন নয়, কাঠামোগত।একদিকে ধর্ষণের মতো জঘন্য অভিযোগ, অন্যদিকে অভিযুক্তের অবাধ ঘোরাফেরা এ কি আইনের শাসন ? যেখানে, নির্যাতিতা নিরাপত্তাহীন, পুলিশ অভিযুক্তকে ধরতে ব্যর্থ (অথবা অনিচ্ছুক), আর বিচার প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ সেখানে সাধারণ মানুষের আস্থা থাকবে কীভাবে ?

স্বরাষ্ট্র দফতর কি এই ঘটনাগুলি নজরে নিচ্ছে ? রাজ্যের উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকরা কি জানেন কী হচ্ছে মাঠপর্যায়ে? একজন ধর্ষিতা যখন বলেন, আমি বিচার পাইনি, তখন সেটা শুধু একটি ব্যক্তির ব্যথা নয়, এটা পুরো ব্যবস্থার ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি।

এখন মানুষ জানতে চাইছে, ধর্ষণের অভিযোগেও কেন গ্রেপ্তার নেই ? কেন নির্যাতিতাকেই চুপ করানোর চেষ্টা ? মহিলা থানা কি সত্যিই মহিলাদের জন্য ? নাকি কেবলই সরকারি অর্থে নিজেদের ভোগবিলাসীতার জীবন অতিবাহিত করার জন্যে। আইন কি আজও ক্ষমতার কাছে বন্দী? রাজ্যের পুলিশ মহানির্দেশক থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কি খবর রাখেন ? খবরের কাগজ পড়েন ? যদি পরেই থাকেন তবেতো এই মামলাটিতে নির্যাতিতার পক্ষে এবার পদক্ষেপ নিতে হবে পুলিশ প্রশাসনকে ।

You may also like

Leave a Comment