নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা ৪ঠা নভেম্বর ২০২৫ ইং : কমলপুর মহকুমার শান্তিরবাজারে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ভয়াবহ ঘটনায় পুরো এলাকা ভয়ে ও উদ্বেগে আজও আচ্ছন্ন। কিছুদিন আগে একদল দুষ্কৃতিকারীদের গভীর ষড়যন্ত্রের কারণে সাধারণ মানুষের উপর নেমে আসে অমানবিক তাণ্ডব। তারা পরিকল্পিতভাবে স্থানীয় দোকানপাট, বাড়িঘর এবং সম্পত্তিতে অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও ভাঙচুর চালায়। এর ফলে অসংখ্য পরিবার রাতারাতি সর্বস্বান্ত হয়ে পড়ে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই অগ্নিকাণ্ড ও লুটপাটের পেছনে জাতি ও উপজাতি সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে দাঙ্গা লাগানোর এক সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টা চালিয়ে ছিল তাঁরা । তবে রাজ্য প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ ও স্থানীয় শান্তিপ্রিয় নাগরিকদের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে । বর্তমানে এলাকায় আংশিকভাবে শান্তি ফিরলেও আতঙ্কের ছায়া এখনো কাটেনি।

এর ওই প্রেক্ষাপটে, আজ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শ্রী আশীষ কুমার সাহা এবং বিধায়ক শ্রী সুদীপ রায় বর্মন ঘটনাস্থলে পৌঁছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। তাঁরা ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের দাবি তোলেন ও প্রশাসনের কাছে দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানান। কংগ্রেস নেতৃত্বের এই সফর ক্ষতিগ্রস্তদের মনোবল বাড়িয়ে তোলে এবং সাধারণ মানুষের মনে নতুন করে আশার সঞ্চার করে।
কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন জানান , এই ঘটনাটি শুধুমাত্র আইনশৃঙ্খলার ব্যর্থতা নয়, বরং এটি একটি গভীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র, যার মাধ্যমে সমাজে জাতি ও উপজাতি সম্প্রদায়ের মধ্যে বিদ্বেষ ও বিভেদ ছড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি জনগণকে আহ্বান জানান রাজনৈতিক অপপ্রচারে প্রভাবিত না হয়ে ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ব বজায় রাখার জন্য। কংগ্রেস নেতৃত্ব স্পষ্টভাবে বার্তা দেন — সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রাখাই আজকের প্রধান প্রয়োজন।
এছাড়াও, আশীষ সাহা ও সুদীপ রায় বর্মন প্রশাসনের কাছে দাবি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে দ্রুত ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে, নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। তাঁরা বলেন, “ত্রিপুরার মাটিতে জাতি-উপজাতির ভেদাভেদ নয়, আমরা চাই একতার বন্ধনে গড়ে উঠুক প্রকৃত শান্তির রাজ্য।” তাঁদের এই সফর শুধু রাজনৈতিক নয়, মানবিক সংহতির প্রতীক হিসেবেও প্রতিফলিত হয়, যা সমাজে পুনরায় স্থিতিশীলতা ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেয়।
