চিকিৎসা গাফিলতিতে মৃত স্কুলছাত্রী পাপিয়া সরকারের বাড়িতে বিরোধী দলনেতা
আগরতলা, ২৯ আগস্ট :
চিকিৎসা গাফিলতির অভিযোগে নবম শ্রেণির ছাত্রী পাপিয়া সরকার-এর মৃত্যুর ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি তুললেন বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী। শুক্রবার তিনি মৃতার বাড়িতে গিয়ে পরিবারকে সমবেদনা জানান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সিপিআইএম নেতা ও প্রাক্তন বিধায়ক রতন দাস।
কীভাবে ঘটলো মৃত্যু?
গত বুধবার সকালে স্কুলে অসুস্থ হয়ে পড়ে পাপিয়া, যে পড়তো আগরতলার রামকৃষ্ণ আশ্রম বিদ্যালয়ে। দ্রুত তাকে নিয়ে যাওয়া হয় আইজিএম হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসকরা একটি ইনজেকশন প্রয়োগ করার পরই ছটফট করতে করতে মৃত্যু হয় তার—এমনই অভিযোগ পরিবারের।
পরিবারের দাবি,
-
ভুল ইনজেকশন দেওয়ার ফলেই মৃত্যু হয়েছে পাপিয়ার।
-
সিনিয়র ডাক্তারকে না ডেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা ইনজেকশন পুশ করেছিলেন।
-
ইনজেকশন দেওয়ার পর পরিস্থিতি জটিল হয়ে গেলে সিনিয়র ডাক্তার আসেন, কিন্তু ততক্ষণে দেরি হয়ে গেছে।
ডাক্তারদের মোবাইল ব্যবহারের অভিযোগ
পাপিয়ার মা অভিযোগ করেন, হাসপাতালে চিকিৎসক ও নার্সরা মোবাইল ফোনে ব্যস্ত ছিলেন। কেউই তাঁর মেয়ের চিকিৎসায় যথাযথ মনোযোগ দেননি। তাই ভবিষ্যতে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক-নার্সদের মোবাইল ব্যবহার নিষিদ্ধ করার দাবি তুলেছেন তিনি।
বিরোধী দলনেতার বক্তব্য
পরিবারের সঙ্গে কথা বলে বিরোধী দলনেতা জানান—
-
ঘটনার পূর্ণ তদন্তের দাবি স্বাস্থ্য দপ্তরের কাছে জানানো হবে।
-
চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আরও দায়িত্বশীল ও সহানুভূতিশীল হতে হবে।
-
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নিজে চিকিৎসক হয়েও রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভয়াবহভাবে ভেঙে পড়েছে।
শিশু সুরক্ষা কমিশনের অবস্থান
রাজ্য শিশু সুরক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান জয়ন্তী দেববর্মা বলেন,
“এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। অকালে একটি সম্ভাবনাময় জীবন হারালাম আমরা, এটি সমাজের ক্ষতি।”
তিনি আশ্বাস দেন, কমিশন সবসময় পরিবারের পাশে থাকবে। তবে তিনি আরও অনুরোধ করেন যাতে কেউ অতিরিক্ত ভিড় করে পরিবারটিকে বিরক্ত না করে।
নাগরিক সমাজের ক্ষোভ
সচেতন মহল প্রশ্ন তুলছে—
-
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কথিত “স্বাস্থ্য বিপ্লবের” আসল চিত্র কি এটাই?
-
গত সাড়ে সাত বছরে পূর্ণ সময়ের একজন স্বাস্থ্যমন্ত্রী না থাকায় কি রোগীদের জীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে?
স্কুলছাত্রী পাপিয়ার মৃত্যু আবারও প্রমাণ করে দিল, রাজ্যের হাসপাতালগুলিতে রোগীর জীবন কতখানি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
