নিজস্ব প্রতিনিধি: শান্তিরবাজার মহকুমার বীরচন্দ্রনগর শহীদ স্মৃতি বিদ্যামন্দির সংলগ্ন মাঠে সোমবার এলপিজি রান্নার গ্যাস বিতরণকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। শান্তি গ্যাস এজেন্সির বিরুদ্ধে সরবরাহ করা গ্যাস সিলিন্ডারে নির্ধারিত ওজনের তুলনায় কম গ্যাস দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন একাধিক গ্রাহক। অভিযোগ অনুযায়ী, অন্যান্য দিনের মতো সোমবারও এজেন্সির পক্ষ থেকে গ্রাহকদের মধ্যে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার বিতরণ করা হচ্ছিল।এসময় কয়েকজন গ্রাহকের সন্দেহ হলে তারা উপস্থিত কর্মীদের সামনেই সিলিন্ডারের ওজন করার দাবি জানান। পরে ওজন করে দেখা যায়, একাধিক সিলিন্ডারে নির্ধারিত ওজনের তুলনায় সর্বনিম্ন ২ কেজি থেকে সর্বোচ্চ ৪ কেজি পর্যন্ত গ্যাস কম রয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। গ্রাহকদের দাবি, পরীক্ষা করা প্রায় ১০টি সিলিন্ডারের মধ্যে মাত্র একটি সিলিন্ডারে নির্ধারিত ওজন পাওয়া যায়।
বাকি প্রায় সবকটি সিলিন্ডারেই ওজনে গরমিল ধরা পড়ে। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা এজেন্সির বিরুদ্ধে বিক্ষোভে সামিল হন। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই এ ধরনের অনিয়ম চললেও যথাযথ তদারকির অভাবে সাধারণ গ্রাহকরা প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছেন। তাদের দাবি, প্রতিটি গ্যাস সিলিন্ডার বিতরণের আগে বাধ্যতামূলকভাবে ওজন নিশ্চিত করতে হবে এবং পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। এদিকে, গ্রাহকদের একাংশ আরও অভিযোগ করেছেন, এলাকায় গ্যাসের সংকট দেখা দিলেও অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে সহজেই গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া যায়। তাদের প্রশ্ন, সাধারণ গ্রাহকরা নিয়মিত গ্যাস না পেলেও অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে কীভাবে সিলিন্ডার সরবরাহ করা হচ্ছে? এই অভিযোগেরও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা। ঘটনার পর ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা খাদ্য, নাগরিক সরবরাহ ও ভোক্তা বিষয়ক দপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে অবিলম্বে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। এদিকে, গ্যাস সিলিন্ডারের ওজনে গরমিল, অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে গ্যাস সরবরাহ এবং গ্রাহক প্রতারণার অভিযোগের পর সংশ্লিষ্ট দপ্তর কী ধরনের তদন্ত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে, সেদিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছেন শান্তিরবাজারের গ্যাস গ্রাহক ও এলাকাবাসী।