Home » Blog » রাজ্যের সর্বত্র চরম ব্যর্থতা সরকারের

রাজ্যের সর্বত্র চরম ব্যর্থতা সরকারের

দুর্নীতি, জমি কেলেঙ্কারি থেকে শিক্ষা-স্বাস্থ্য, রাজ্যের সর্বত্র চরম ব্যর্থতা, সরকারের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের তোপ

by Planet Tripura
0 comments 2 views
tripuranews

নিজস্ব প্রতিনিধি : রাজ্যে দুর্নীতি, প্রশাসনিক ব্যর্থতা, জমি কেলেঙ্কারি, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সংকট, ভেঙে পড়া জাতীয় সড়ক, আইনশৃঙ্খলার অবনতি, বিদ্যুৎ ও পানীয় জল পরিষেবার দুরবস্থা এবং মূল্যবৃদ্ধির মতো একাধিক ইস্যুতে সোমবার রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানাল প্রদেশ কংগ্রেস। দলের মুখপাত্র প্রবীর চক্রবর্তী সাংবাদিক সম্মেলনে অভিযোগ করেন, গত সাড়ে আট বছরে ত্রিপুরায় আর্থিক অনিয়ম ও সরকারি অর্থের অপব্যবহার উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে, অথচ সরকার এসব অভিযোগের কোনও কার্যকর জবাব বা ব্যবস্থা নেয়নি। প্রবীর চক্রবর্তী বলেন, ভারতের মহাহিসাব নিরীক্ষক (CAG)-এর একাধিক প্রতিবেদনে সরকারি প্রকল্পে আর্থিক গরমিল, কাগজে-কলমে ব্যয় দেখিয়ে বাস্তবে কাজ না হওয়া এবং সরকারি অর্থ বছরের পর বছর ডিডিওদের ব্যক্তিগত হিসাবে পড়ে থাকার মতো গুরুতর অনিয়মের উল্লেখ রয়েছে।

তবুও সরকার নীরব ভূমিকা পালন করছে, যা সাধারণ মানুষের মনে আরও প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। তিনি দাবি করেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পানীয় জল, বিদ্যুৎ, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলাসহ প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে। মাদক চক্রের বিরুদ্ধে মাঝে মাঝে অভিযান হলেও মূল হোতাদের বিরুদ্ধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি। সাংবাদিক সম্মেলনে জমি কেলেঙ্কারির প্রসঙ্গ বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরে কংগ্রেস মুখপাত্র জানান, সরকারি ও ব্যক্তিগত জমি জালিয়াতির মাধ্যমে অন্যের নামে নামজারি ও বিক্রির অভিযোগ রাজ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। মোহনপুরে কোটি কোটি টাকার জমি কেলেঙ্কারির ঘটনায় কয়েকজন সরকারি কর্মচারী বরখাস্ত হলেও প্রকৃত সুবিধাভোগী ও রাজনৈতিক মদতদাতাদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তোলা হয়।বিশালগড় ও এডিসি এলাকার জমি সংক্রান্ত পুরনো অভিযোগেরও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করে কংগ্রেস।

শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়েও তীব্র সমালোচনা করে প্রবীর চক্রবর্তী বলেন, হাজার হাজার শিক্ষক পদ শূন্য, বহু স্কুলে একজন বা দুজন শিক্ষক দিয়ে পাঠদান চলছে।শিক্ষকদের পাঠদানের বদলে প্রশাসনিক কাজে নিয়োজিত করায় শিক্ষার মান ভেঙে পড়ছে এবং বহু শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। একইসঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ না হওয়া, আউটসোর্সিং নির্ভর নিয়োগ বৃদ্ধি এবং প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে যুবসমাজের আস্থা নষ্ট হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।কমনওয়েলথ গেমসে সোনা জয়ী জুডোকা অস্মিতাকে ত্রিপুরায় সম্মানজনক সরকারি চাকরি দেওয়ার দাবিও পুনর্ব্যক্ত করে কংগ্রেস। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে প্রবীর চক্রবর্তী বলেন, দেশের মুখ উজ্জ্বল করা একজন ক্রীড়াবিদকে চাকরির জন্য আবেদন করতে বলা অত্যন্ত হতাশাজনক এবং এটি তাঁর প্রাপ্য সম্মানের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

জাতীয় সড়কের বেহাল দশা নিয়েও সরব হয় কংগ্রেস। তাদের অভিযোগ, খারাপ রাস্তার কারণে প্রতিদিন সাধারণ মানুষ প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন।সরকার অতিবৃষ্টিকে দায়ী করলেও পূর্ত দপ্তরের কর্মকর্তারাই নিম্নমানের কাজের কথা স্বীকার করেছেন এবং সড়ক নির্মাণে দুর্নীতির অভিযোগ বহুবার প্রকাশ্যে এসেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে কংগ্রেস জানায়, জুলাই মাসেই খুন, ধর্ষণ, যৌন নির্যাতন, চুরি, ছিনতাই ও অপহরণের একাধিক ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে রাজ্যে সুশাসনের দাবিই প্রশ্নের মুখে পড়েছে বলে মন্তব্য করেন প্রবীর চক্রবর্তী। বিদ্যুৎ পরিষেবায় স্মার্ট মিটার চালুর পরভঅস্বাভাবিক বিল নিয়ে মানুষের অভিযোগ বেড়েছে বলেও দাবি করা হয়। একইসঙ্গে জল জীবন মিশন ও অটল জলধারা প্রকল্পে পাইপলাইন বসানো হলেও বহু এলাকায় নিয়মিত পানীয় জল পৌঁছাচ্ছে না এবং কোথাও নিম্নমানের জল সরবরাহ হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।এই প্রকল্পগুলির তথ্য জানতে চাইলেও সরকার পূর্ণাঙ্গ তথ্য দেয়নি বলেও দাবি করা হয়। এই সমস্ত ইস্যুতে জনমত গড়ে তুলতে আগামী ৫ আগস্ট থেকে সাত দিনব্যাপী রাজ্যজুড়ে জেলা ভিত্তিক গণধর্না কর্মসূচির ঘোষণা করে প্রদেশ কংগ্রেস।

সদর জেলায় ৫ আগস্ট সকাল সাড়ে ১১টা থেকে ওরিয়েন্ট চৌমুহনীতে তিন ঘণ্টার গণধর্না অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়। প্রদেশ কংগ্রেসের দাবি, রাজ্যের প্রতিটি অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন নিশ্চিত করতে হবে।জনগণের স্বার্থে সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে এই আন্দোলন ভবিষ্যতেও চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন দলের মুখপাত্র প্রবীর চক্রবর্তী। এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র প্রবীর চক্রবর্তীর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন জেলা কংগ্রেস সভাপতি তন্ময় রায়, প্রদেশ এসসি কংগ্রেসের চেয়ারম্যান নীরঞ্জন দাস, কিষাণ কংগ্রেসের চেয়ারম্যান অশোক বৈদ্য, ওবিসি কংগ্রেসের চেয়ারম্যান মনোরঞ্জন দেবনাথ এবং অসংগঠিত শ্রমিক কংগ্রেসের চেয়ারম্যান শান্তনু পাল।

You may also like

Leave a Comment