Home » Blog » তেলিয়ামুড়া মক ড্রিলের নামে সরকারি অর্থ অপচয়ের অভিযোগ

তেলিয়ামুড়া মক ড্রিলের নামে সরকারি অর্থ অপচয়ের অভিযোগ

কাঠগড়ায় তেলিয়ামুড়ার দুর্যোগ মোকাবেলা ব্যবস্থা

by Planet Tripura
0 comments 64 views

বিপর্যয়ের সময় উধাও, মহড়ার মঞ্চে ব্যস্ত প্রশাসন! কাঠগড়ায় তেলিয়ামুড়ার দুর্যোগ মোকাবেলা ব্যবস্থা

তেলিয়ামুড়া প্রতিনিধি: বিপর্যয়ের সময় সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো, দ্রুত উদ্ধারকাজ চালানো এবং জীবন-সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি কমানো— এটাই দুর্যোগ মোকাবেলা বিভাগের মূল দায়িত্ব। কিন্তু বাস্তবের চিত্র যদি হয় সম্পূর্ণ উল্টো, তাহলে সরকারি অর্থ ব্যয় করে আয়োজিত জাঁকজমকপূর্ণ মহড়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়েই প্রশ্ন উঠতে বাধ্য। তেলিয়ামুড়ায় মঙ্গলবারের এক ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই প্রশ্ন এখন জনমনে তীব্র আকার ধারণ করেছে।

বিমান হামলার মহড়া: মঞ্চে জাঁকজমক, বাস্তবে কী?

মঙ্গলবার, তেলিয়ামুড়া চাকমাঘাট মহকুমা শাসক কার্যালয়ের উদ্যোগে সিভিল ডিফেন্স ভলেন্টিয়ারদের মাধ্যমে একটি বিশেষ দুর্যোগ মোকাবেলা মহড়ার আয়োজন করা হয়। মহড়ার মূল বিষয় ছিল ‘এয়ার রেইড’ বা বিমান হামলার মতো জরুরি পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ ও প্রশাসনের করণীয়। এতে আরক্ষা দপ্তর, স্বাস্থ্য দপ্তর, বিদ্যুৎ দপ্তর এবং সিভিল ডিফেন্স ভলেন্টিয়াররা অংশগ্রহণ করে নানা উদ্ধার ও সচেতনতামূলক প্রদর্শনী উপস্থাপন করেন।

কিন্তু এই মহড়াকে ঘিরেই উঠেছে একাধিক অস্বস্তিকর প্রশ্ন! স্থানীয় মহলের অভিযোগ, বাস্তব দুর্যোগের সময় যাদের সবচেয়ে বেশি সক্রিয় থাকার কথা, সেই দুর্যোগ মোকাবেলা ব্যবস্থার একাংশ তখন কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। অথচ মহড়ার সময় প্রশাসনের তৎপরতার কোনো অভাব থাকে না। সরকারি কোষাগারের লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয় করে মহড়ার আয়োজন করা হলেও প্রকৃত বিপদের সময় সেই প্রস্তুতির প্রতিফলন কতটা দেখা যায়, তা নিয়ে জনমনে গভীর সংশয় তৈরি হয়েছে।

অকেজো যন্ত্রপাতি সচল হয় শুধু মহড়ার স্বার্থে!

অভিযোগ আরও গুরুতর। অফিস সূত্রে খবর:

  • তেলিয়ামুড়া মহকুমা শাসক কার্যালয়ের অধীন দুর্যোগ মোকাবেলা বিভাগের একাংশ গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি ও উদ্ধার সরঞ্জাম প্রায় সময়ই অচল অবস্থায় পড়ে থাকে।

  • মহড়ার সময় সেগুলিকে সাময়িকভাবে সচল করে প্রদর্শন করা হলেও অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর পুনরায় সেগুলি অকেজো অবস্থায় ফিরে যায়।

যদি এই অভিযোগ সত্য হয়, তাহলে তা শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতাই নয়, জননিরাপত্তার সঙ্গেও এক ভয়ঙ্কর প্রহসন। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, দুর্যোগ মোকাবেলা বিভাগের আধুনিকীকরণ, নতুন উদ্ধার সরঞ্জাম ক্রয় এবং স্থায়ী অবকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে প্রশাসনের দৃশ্যমান উদ্যোগ কোথায়?

ফিরল ২০২৫-এর সেই মর্মান্তিক স্মৃতি: ঝরেছিল চালকের প্রাণ

এই প্রসঙ্গে ফের সামনে চলে আসে, ২০২৫ সালের আগস্ট মাসের সেই মর্মান্তিক ঘটনা। অভিযোগ অনুযায়ী, তেলিয়ামুড়া মহকুমা প্রশাসনের গাফিলতি, দুর্যোগ মোকাবেলা ব্যবস্থার ব্যর্থতা এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির নিষ্ক্রিয়তার কারণে দুর্ঘটনাগ্রস্ত একটি লরির ভিতরে আটকে পড়ে প্রাণ হারান চালক মিহির দেবনাথ। দীর্ঘ সময় ধরে সাহায্যের জন্য আর্তনাদ করেও কার্যকর উদ্ধার না পাওয়ার অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটি রাজ্যজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।

প্রশাসনিক অ্যাকশন: সেই ঘটনার জেরে পরবর্তীতে রাজ্য সরকারের তরফে তৎকালীন মহকুমা শাসক পরিমল মজুমদারকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয় এবং একাধিক দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকের বিরুদ্ধে শোকজ নোটিশ জারি করা হয়।

সেই কালিমালিপ্ত ঘটনার স্মৃতি এখনও তাজা থাকতেই আবারও মহড়া-কেন্দ্রিক প্রশাসনিক তৎপরতা নতুন করে সাধারণ মানুষকে ক্ষুব্ধ করে তুলেছে।

প্রশ্নবাণে মহকুমা শাসক

সচেতন মহলের বক্তব্য, দুর্যোগ মোকাবেলার প্রকৃত সক্ষমতা গড়ে না তুলে যদি শুধুমাত্র মহড়ার মঞ্চ সাজানো হয়, তাহলে তা জনসচেতনতা নয়, বরং লোকদেখানো কর্মকাণ্ড হিসেবেই বিবেচিত হবে। বিপদের দিনে মানুষের জীবন রক্ষা করাই যেখানে মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত, সেখানে প্রদর্শনমূলক কর্মসূচি দিয়ে বাস্তব ব্যর্থতাকে আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নও উঠছে।

সরকারি কোষাগারের লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয় করে আয়োজিত এই মহড়া কি সত্যিই জনসচেতনতার বার্তা বহন করছে, নাকি শুধুই প্রশাসনিক সাফল্যের প্রচার— সেই উত্তর খুঁজছেন সাধারণ মানুষ। আর সেই প্রশ্নের জবাব দিতে হবে তেলিয়ামুড়ার বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত মহকুমা শাসক অপূর্ব কৃষ্ণ চক্রবর্তী সহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকেই। কারণ দুর্যোগের সময় মানুষের জীবন বাঁচানো যায় বাস্তব প্রস্তুতি দিয়ে, মহড়ার মঞ্চে অভিনয় করে নয়।

You may also like

Leave a Comment