Home » Blog » সংখ্যালঘু পরিবারের জমি দখল, ক্ষোভ তুঙ্গে

সংখ্যালঘু পরিবারের জমি দখল, ক্ষোভ তুঙ্গে

by Planet Tripura
0 comments 13 views

সংখ্যালঘু পরিবারের জমি দখলের অভিযোগ

রাষ্ট্রবাদী কর্পোরেটরের দাদাগিরিতে ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা ২৫ এপ্রিল: আগরতলার নন্দনগর মসজিদপাড়া এলাকায় সংখ্যালঘু এক পরিবারের জমি দখলের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের তীর উঠেছে শাসক দলের এক মহিলা কর্পোরেটর এবং তাঁর এক নিকট আত্মীয়ের বিরুদ্ধে। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা বাড়ছে, পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভও ক্রমশ বাড়ছে।রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ডা: মানিক সাহা বারবার জিরো টলারেন্স নীতি মেনে প্রশাসন ও দল চালানোর বার্তা দিলেও, বাস্তবে শাসক দলের একাংশের নেতাকর্মীদের কর্মকাণ্ডে সেই নীতির ব্যত্যয় ঘটছে বলেই অভিযোগ উঠছে। এতে যেমন সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে, তেমনি মুখ্যমন্ত্রীর রাজনৈতিক অবস্থানও প্রশ্নের মুখে পড়ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নন্দননগর এলাকার একটি মুসলিম পরিবার বহু দশক ধরে তাদের পূর্বপুরুষের জমিতে বসবাস করে আসছে।অভিযোগ, সেই জমির উপর জাল দলিল তৈরি করে সেটি অন্যত্র বিক্রির চেষ্টা করা হচ্ছে । এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে এলাকার এক কর্পোরেটর এবং তাঁর ভাসুরের ছেলে রাজিব সরকারের বিরুদ্ধে।

 

পরিবারটির দাবি, সম্প্রতি রাজিব সরকার হঠাৎ করে ওই জমির মালিকানা দাবি করে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বিক্রির উদ্যোগ নেন। বিষয়টি জানাজানি হতেই প্রকৃত মালিক পক্ষ বাধা দেয়। এরপর থেকেই শুরু হয় হুমকি-ধমকি।বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করে জমি ছেড়ে দেওয়ার জন্য ভয় দেখানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ভুক্তভোগী পরিবার তহশীল অফিস ও জেলা শাসকের দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। পাশাপাশি জাল কাগজপত্র তৈরির অভিযোগও তুলে ধরেছে তারা। এদিকে, শুধুমাত্র এই একটি ঘটনাই নয়, কর্পোরেটর ও তাঁর আত্মীয়ের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ সামনে আসছে। অভিযোগগুলির মধ্যে রয়েছে, জমির দালালি ও জোরপূর্বক জমি দখল, ওয়াকফ বোর্ডের জমি দখলের চেষ্টা, কবরস্থান দখল, খাস জমি বেআইনিভাবে নিজের নামে করে নেওয়া, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অবৈধ জল সরবরাহ প্রকল্প তৈরি করা ইত্যাদি। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, সন্ধ্যার পর প্রায়শই কর্পোরেটরের বাড়িতে অসামাজিক কার্যকলাপও চলে। যদিও এই অভিযোগগুলির কোনও সরকারি প্রমাণ এখনও সামনে আসেনি, তবে এলাকায় এই নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

অভিযোগ উঠেছে, কর্পোরেটর রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার দাবি করে এলাকায় দাদাগিরি চালাচ্ছেন। কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি দলের স্থানীয় মণ্ডল নেতৃত্বদের কথাও তিনি অগ্রাহ্য করছেন বলে অভিযোগ। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আরও দাবি, প্রভাবশালী নেতাদের নাম ভাঙিয়ে এলাকায় নিজের আধিপত্য বিস্তার করছেন তিনি। এতে দলের ভিতরেও অসন্তোষ বাড়ছে। মণ্ডল সভাপতির বিরুদ্ধেও নানাভাবে কুৎসা রটানোর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে ঘিরে বড় প্রশ্ন উঠছে, রাজ্যে বেড়ে চলা নিগো বানিজ্য (নিজস্ব প্রভাব খাটিয়ে অবৈধ অর্থ উপার্জন), শাসক দলের একাংশের দাদাগিরি, এবং কিছু জনপ্রতিনিধির খামখামি আচরণ কি সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট করছে?

স্থানীয়দের বক্তব্য, যারা মানুষের সেবা করার জন্য নির্বাচিত হন, তারাই যদি জমি দখল, হুমকি ধমকি আর অসামাজিক কাজের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে ? রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এ ধরনের অভিযোগ যদি সত্য প্রমাণিত হয়, তবে তা শুধু একটি ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়, পুরো শাসক দলের ভাবমূর্তির উপর বড় আঘাত হানতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব পড়তে পারে দলের ভবিষ্যতের উপরও।এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন ও দলীয় নেতৃত্ব এই অভিযোগগুলিকে কতটা গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করে। কারণ, সাধারণ মানুষের একটাই দাবি আইনের শাসন সবার জন্য সমান হোক।

You may also like

Leave a Comment