অস্বাভাবিক ছাড়ে ওষুধ বিক্রি: উদ্বেগে ফার্মা ইন্ডাস্ট্রি, গুণগত মান প্রশ্ন চিহ্নের মুখে।
ভারতের ওষুধ বাজারে সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে এক চমকপ্রদ প্রবণতা—কোথাও ৫০%, কোথাও আবার ৯০% পর্যন্ত ছাড়ে ওষুধ বিক্রি হচ্ছে। এই অস্বাভাবিক ডিস্কাউন্টে বিস্মিত ও উদ্বিগ্ন দেশের এথিকাল ফার্মা কোম্পানিগুলো। বিশেষজ্ঞদের মতে, জেনেরিক কাউন্টার গুলোতে এত বেশি ছাড়ে ওষুধ বিক্রি অর্থনৈতিকভাবে প্রায় অসম্ভব, ফলে প্রশ্ন উঠছে পণ্যের গুণগত মান ও উৎপাদন প্রক্রিয়া নিয়ে।
“ব্র্যান্ডেড জেনেরিক” পণ্যের মুনাফার কাঠামো বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, কিছু ব্যবসায়ী বিপুল পরিমাণ কমিশন ও ছাড় প্রদানের মাধ্যমে বাজার দখলের কৌশল নিচ্ছে। কিন্তু এই প্রতিযোগিতার জেরে নিম্নমানের ওষুধ বাজারে ঢুকে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে দিন দিন ।
অল ইন্ডিয়া ড্রাগ কন্ট্রোল অফিসার্স কনফেডারেশন (AIDCOC) ইতিমধ্যেই সতর্ক করেছে—অতিরিক্ত ডিস্কাউন্টের আড়ালে নকল বা মানহীন ওষুধ বিক্রির প্রবণতা ক্রমেই বাড়ছে। ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের এক গবেষণায়ও বলা হয়েছে, ভারতে গুণগত মান যাচাই ও নিয়মিত মনিটরিং ব্যবস্থা এখনও দুর্বল তাই বাজারে ঢুকে পড়ছে এই ধরণের জেরানিক কোম্পানি গুলো ।
জনস্বাস্থ্যের দিক বিবেচনায় বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজ্য ও কেন্দ্রীয় ড্রাগ কন্ট্রোল কর্তৃপক্ষের এখনই উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন—বাজারে থাকা এই ওষুধগুলির নমুনা পরীক্ষা করে, ওষুধ গুলোর মান নিশ্চিত করা, প্রয়োজনে এই ধরনের সন্দেহজনক ওষুধ কোম্পানি গুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
দেশের ওষুধ শিল্পে নৈতিক ব্যবসা ও মাননির্ভর চিকিৎসা বজায় রাখতে এটি এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ —না হলে ওষুধের উপর অতিরিক্ত ছাড়ের এই প্রতিযোগিতায় জনগণের জীবনের ঝুঁকি দিন দিন বাড়তে পারে ।
