Home » Blog » মুহুরী নদীর বাঁধ নির্মাণে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ

মুহুরী নদীর বাঁধ নির্মাণে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ

মুহুরী বাঁধ পরিদর্শনে মহকুমা শাসকসহ আধিকারিকরা

by Planet Tripura
0 comments 33 views
muhuri-river-embankment-poor-construction-belonia-inspection

নিম্নমানের কাজের অভিযোগ, মুহুরী বাঁধ পরিদর্শনে মহকুমা শাসকসহ আধিকারিকরা

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা ৭ জুলাই: সংবাদমাধ্যমে মুহুরী নদীর বাঁধ ও সংলগ্ন রাস্তা নির্মাণে অনিয়ম এবং নিম্নমানের কাজের অভিযোগ প্রকাশের পর অবশেষে নড়েচড়ে বসল প্রশাসন। মঙ্গলবার সকালে বিলোনীয়া মহকুমা শাসকের নেতৃত্বে ডি ডব্লিউ এস, পিডব্লিউডি-সহ একাধিক দপ্তরের আধিকারিকরা মুহুরী নদীর বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প পরিদর্শনে যান। পরিদর্শনের সময় তাঁরা নির্মাণকাজ খতিয়ে দেখার পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগও শোনেন। স্থানীয় সূত্রের দাবি, বিশেষ করে মুহুরী নদীর দক্ষিণ তীরের বাঁধ নির্মাণে একাধিক ত্রুটি ও গরমিল ধরা পড়েছে। পরিদর্শনের সময় প্রতিনিধিদলকে ক্ষুব্ধ বাসিন্দাদের প্রশ্নেরও মুখোমুখি হতে হয় বলে খবর। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে ভয়াবহ বন্যায় মুহুরী নদীর বাঁধ ভেঙে বিলোনীয়া শহর ও সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়।

বনকর, নন্দীপাড়া, হল চৌমুহনী, মফিজ মিয়া এলাকা, পুরাতন মোটর স্ট্যান্ড, রামঠাকুরপাড়া, থানা কর্নার, আমলাপাড়া, বর্ডারপাড়া, মধ্যপাড়া, কালিনগর, গিরিধারী, বড়জ কলোনি, শ্রমিক টিলা, সাতমুড়া, মির্জাপুর, ভারতচন্দ্রনগর, সুকান্ত নগর, শংকরমঠ-সহ বহু এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। বহু মানুষের বাড়িঘর ভেঙে যায়, কৃষিজমি ও মাছচাষের প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়, গবাদিপশুর মৃত্যু ঘটে এবং অসংখ্য পরিবার সর্বস্বান্ত হয়ে পড়ে।ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, সরকারি আর্থিক সহায়তা ক্ষয়ক্ষতির তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল ছিল। অনেকেই নির্ধারিত অনুদানের সম্পূর্ণ অর্থ পাননি, আবার কেউ কেউ কোনও সাহায্যই পাননি বলেও অভিযোগ রয়েছে। বন্যার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে নদীর দুই তীরের বাঁধ উঁচু ও প্রশস্ত করা, কংক্রিট ব্লক বসিয়ে নদীতীর সংরক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় স্লুইস গেট নির্মাণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল।

কিন্তু স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেই প্রতিশ্রুতির যথাযথ বাস্তবায়ন হয়নি। বর্তমানে যে নির্মাণকাজ চলছে, তাতেও মান নিয়ন্ত্রণের অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ। নদীতীর সংরক্ষণের জন্য তৈরি হওয়া কংক্রিট ব্লকের গুণমান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বাসিন্দারা। ডিডব্লিউএস সূত্রে জানা গেছে, রতনমণি সেতু থেকে বিলোনীয়া বিএসএফ বিওপি পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার এবং নদীর উত্তর তীরে রতনমণি সেতু থেকে সুকান্ত নগর-শংকরমঠ পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার বাঁধ পুনর্নির্মাণ, বাঁধের উচ্চতা বৃদ্ধি, স্লুইস গেট স্থাপন এবং নদীতীর সংরক্ষণের জন্য প্রায় ৪০ কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

ইতিমধ্যেই বিভিন্ন পর্যায়ে নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে।তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, উত্তর তীরে তালুকদারপাড়া থেকে রতনমণি সেতু পর্যন্ত কাজ তুলনামূলকভাবে সন্তোষজনক হলেও দক্ষিণ তীরের নির্মাণ অত্যন্ত নিম্নমানের। দ্রুত কাজ শেষ করার তাড়াহুড়োয় পর্যাপ্ত তদারকি না থাকায় বহু জায়গায় রাস্তার দু’পাশ ধসে পড়ছে। কোথাও কোথাও রাস্তার মাটি ভেঙে পাশের বাড়ির দিকে নেমে যাচ্ছে। ফলে রাস্তাটি এখন দুর্ঘটনাপ্রবণ হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। বর্ষা শুরু হওয়ায় নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

তাঁদের আশঙ্কা, কাজ দ্রুত ও সঠিকভাবে সম্পন্ন না হলে ২০২৪ সালের মতো পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হতে পারে। পরিদর্শনের সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মহকুমা শাসক স্বীকার করেন যে রাস্তা নির্মাণে কিছু ত্রুটি রয়েছে। তিনি জানান, আগামী তিন মাসের মধ্যে মুহুরী নদীর দক্ষিণ তীরের বাঁধ ও রাস্তার কাজ সম্পূর্ণ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে এবং নির্মাণের গুণগত মান নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, তিন মাসের সময়সীমার আগেই বর্ষার প্রকোপ বাড়তে পারে। তাঁদের দাবি, ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ভূমিকা নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং দ্রুত মানসম্পন্ন বাঁধ নির্মাণ সম্পূর্ণ করে এলাকার মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।

You may also like

Leave a Comment