মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তার পরও থামেনি ‘নিগো’ রাজ! জোলাইবাড়ীতে উত্তপ্ত পরিস্থিতি, উন্নয়নের পথে বড় বাধা ‘নিগোসিয়েশন’ চক্রের দৌরাত্ম্য
নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা ৯ জুলাই : রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সরকারি উন্নয়নমূলক কাজে তথাকথিত নিগোসিয়েশন বা ‘নিগো’ বাণিজ্য বন্ধে মুখ্যমন্ত্রী একাধিকবার কঠোর অবস্থানের কথা জানালেও, বাস্তব চিত্র যে সম্পূর্ণ ভিন্ন, এমনই অভিযোগ উঠছে দক্ষিণ ত্রিপুরার জোলাইবাড়ী বিধানসভা কেন্দ্র থেকে। স্থানীয়দের দাবি, সরকারি কাজের টেন্ডারকে কেন্দ্র করে এখনও সক্রিয় রয়েছে এক প্রভাবশালী নিগো চক্র।
তাদের দৌরাত্ম্যে প্রকৃত ঠিকাদাররা যেমন আতঙ্কে, তেমনি উন্নয়নমূলক কাজের গুণগত মানও প্রশ্নের মুখে পড়ছে। স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ, জোলাইবাড়ী বিধানসভার অন্তর্গত বাইখোড়া চড়কবাই গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান নারায়ণ শীল, বিজেপির দক্ষিণ জেলার সদস্য মনিন্দ্র বিশ্বাস, বিধান মিত্র-সহ কয়েকজন ব্যক্তি মিলে এলাকায় টেন্ডারকে কেন্দ্র করে নিগো বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। অভিযোগকারীদের দাবি, এই প্রক্রিয়ায় প্রকৃত প্রতিযোগিতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং সরকারি প্রকল্পের মানও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই অভিযোগের মধ্যেই বৃহস্পতিবার নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায়।
অভিযোগ, একটি সরকারি কাজের টেন্ডারকে কেন্দ্র করে জোলাইবাড়ীর ঠিকাদার সুপ্রিয় দত্তের বাড়িতে গিয়ে একদল ব্যক্তি বিক্ষোভ ও অশালীন আচরণ করেন। সুপ্রিয় দত্তের ভাইয়ের অভিযোগ, নারায়ণ শীলের নেতৃত্বে কয়েকজন তাঁদের বাড়ির সামনে এসে টেন্ডার প্রত্যাহারের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন এবং অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। ঘটনায় তাঁদের পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলেও দাবি করা হয়েছে।সুপ্রিয় দত্তের পরিবারের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সুনামের সঙ্গে তাঁরা ঠিকাদারি কাজ করে আসছেন। তাঁদের পরিবারের সদস্যরা দেশ ও সমাজের স্বার্থে আত্মত্যাগও করেছেন। অথচ বর্তমানে শুধুমাত্র টেন্ডারকে কেন্দ্র করে কথিত নিগো চক্রের চাপে তাঁদের ভয়-ভীতির মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ ঠিকাদারদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলেও জানা গেছে।
স্থানীয় মহলের একাংশের দাবি, রাজ্যে এখন নিগোসিয়েশন মাফিয়া উন্নয়নের অন্যতম প্রধান অন্তরায় হয়ে উঠেছে। অভিযোগ, শাসক দলের নাম ভাঙিয়ে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি সরকারি কাজের উপর প্রভাব বিস্তার করছেন। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই যোগ্য ঠিকাদাররা কাজ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বচ্ছতা প্রশ্নের মুখে পড়ছে। এর প্রভাব পড়ছে সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার এবং উন্নয়নমূলক কাজের মানের উপরও। এলাকার বাসিন্দাদের একাংশের প্রশ্ন, মুখ্যমন্ত্রী যখন প্রকাশ্যে ‘নিগো’ বাণিজ্যের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দিয়েছেন, তখনও কীভাবে এই ধরনের অভিযোগ সামনে আসছে ? তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনো প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি। জোলাইবাড়ী মণ্ডলের ভূমিকা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। তাঁদের দাবি, যদি সত্যিই এই ধরনের সিন্ডিকেট বা নিগোসিয়েশন চক্র সক্রিয় থাকে, তবে তা বন্ধে দলীয় ও প্রশাসনিক স্তরে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
অন্যথায় উন্নয়নের স্বার্থে সরকারের ঘোষিত স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন-এর বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে প্রশ্নের মুখে পড়বে। এখন নজর রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব ও মুখ্যমন্ত্রীর দিকে। স্থানীয় মানুষের প্রত্যাশা, উত্থাপিত অভিযোগগুলির নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সরকারি উন্নয়নমূলক কাজকে নিগো রাজ ও সিন্ডিকেট সংস্কৃতির প্রভাবমুক্ত করা হবে।