২৪ জুন থেকে ত্রিপুরায় অনির্দিষ্টকালের রেল ও সড়ক অবরোধের ডাক, বড় আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
JARC ও JAC-র
আগরতলা, ২২ জুন: পুনর্বাসন ও ভাতা প্রদান সহ মোট ৯ দফা দাবি পূরণের লক্ষ্যে আগামী ২৪ জুন ২০২৬ থেকে রাজ্যজুড়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য রেলপথ ও সড়ক পথ অবরোধের ডাক দিল ত্রিপুরার দুই প্রাক্তন আত্মসমর্পণকারী বৈরী সংগঠন জেএআরসি (JARC) এবং জেএসি (JAC)। সোমবার আগরতলা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সাংবাদিক সম্মেলনে যৌথভাবে এই বড়সড় আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হয়। সরকারের উদাসীনতার কারণেই তারা এই চরম পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে আন্দোলনের রূপরেখা ও মূল দাবিগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন সংগঠনের আহ্বায়ক জীবন জয় রিয়াং। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“দীর্ঘদিন ধরে আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে ৯ দফা দাবি জানিয়ে আসা হচ্ছে। বারংবার প্রশাসনের উচ্চস্তর থেকে আমাদের শুধু আশ্বাসই দেওয়া হয়েছে, কিন্তু বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন ঘটেনি। সরকারের এই উদাসীনতা আর মেনে নেওয়া যায় না।”
কী রয়েছে ৯ দফা দাবিতে?
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের মূল দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে:
-
আত্মসমর্পণকারী সদস্যদের সঠিক ও স্থায়ী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা।
-
প্রতিশ্রুত মাসিক ভাতা নিয়মিত ও সঠিক সময়ে প্রদান করা।
-
আত্মসমর্পণকারীদের যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা।
-
অতীতে সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া সমস্ত সুযোগ-সুবিধা ও প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়ন করা।
আহ্বায়ক জীবন জয় রিয়াং স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, ২৪ জুনের আগে সরকার যদি তাদের দাবিগুলো নিয়ে সদর্থক পদক্ষেপ না করে, তবে নির্ধারিত দিন থেকে রাজ্যের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ রেলপথ এবং জাতীয় সড়ক অনির্দিষ্টকালের জন্য স্তব্ধ করে দেওয়া হবে। এই অবরোধ কর্মসূচির কারণে সাধারণ রাজ্যবাসীর যে সাময়িক ভোগান্তি হবে, তার জন্য তিনি আগাম দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তবে একই সাথে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কোনো অবস্থাতেই এই আন্দোলন প্রত্যাহার করা হবে না।
জেএআরসি ও জেএসি নেতৃত্বের দাবি, সরকার যদি অবিলম্বে তাদের সাথে আলোচনায় বসে এই দীর্ঘদিনের সমস্যার স্থায়ী সমাধান না করে, তবে আগামী দিনে এই আন্দোলন আরও তীব্র ও বৃহত্তর রূপ ধারণ করবে।
এদিকে, ২৪ জুন থেকে প্রস্তাবিত এই অনির্দিষ্টকালের রেল ও সড়ক অবরোধের জেরে রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনিক মহলে ইতিমধ্যেই ব্যাপক তৎপরতা শুরু হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে শেষ মুহূর্তে কোনো আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হয় কি না, এখন সেটাই দেখার।