নিজস্ব প্রতিনিধি, নলছড়:
টানা ১৫ দিন ধরে এলাকা বিদ্যুৎহীন! আর বিদ্যুতের অভাবে বন্ধ হয়ে পড়েছে পানীয় জলের সরবরাহও। তীব্র গরমে জল ও বিদ্যুতের এই চরম সংকটে পড়ে অবশেষে ধৈর্যের বাঁধ ভাঙল স্থানীয় বাসিন্দাদের। বিদ্যুৎ দপ্তরের উদাসীনতার প্রতিবাদে এবং দ্রুত পরিষেবা স্বাভাবিক করার দাবিতে এবার সরাসরি পথ অবরোধে নামলেন নলছড়ের পূর্ব দুর্লভ নারায়ণ এলাকার মানুষ।
১৫ দিনের ক্ষোভ আছড়ে পড়ল রাস্তায়
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২১ নলছড় বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত পূর্ব দুর্লভ নারায়ণ এলাকায় গত ১৫ দিন ধরে বিদ্যুৎ পরিষেবা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে রয়েছে। লোডশেডিং বা সাময়িক বিভ্রাট নয়, টানা আধ মাস ধরে এই বিস্তীর্ণ এলাকা অন্ধকারে ডুবে থাকায় ক্ষোভে ফুঁসছিলেন সাধারণ মানুষ। একদিকে তীব্র গরম, অন্যদিকে বিদ্যুৎ না থাকায় মোটর পাম্প চালানো যাচ্ছে না, ফলে এলাকায় দেখা দিয়েছে পানীয় জলের তীব্র হাহাকার।
বারবার বিদ্যুৎ দপ্তরকে জানিয়েও কোনো সদর্থক ভূমিকা না পাওয়ায়, বৃহস্পতিবার (বা ঘটনার দিন) বাধ্য হয়ে রাস্তায় নামেন আবালবৃদ্ধবনিতা। পূর্ব দুর্লভ নারায়ণ এলাকার ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা কলসি, বালতি হাতে নিয়ে রাস্তা অবরোধ করেন। এর ফলে রাস্তার দু’পাশে বহু যানবাহন আটকে পড়ে এবং যান চলাচল সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে যায়।
অবরোধকারীদের অভিযোগ, গত ১৫ দিন ধরে তারা নরকযন্ত্রণা ভোগ করছেন। বিদ্যুৎ না থাকায় ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা বন্ধ, গরমে বয়স্ক ও শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। সবচেয়ে বড় সংকট তৈরি হয়েছে পানীয় জল নিয়ে। দূর-দূরান্ত থেকে জল বয়ে এনে তৃষ্ণা মেটাতে হচ্ছে গ্রামবাসীদের।
বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য: “আমরা কর দিই, বিল দিই, তাও কেন ১৫ দিন ধরে আমাদের অন্ধকারে রাখা হবে? দপ্তরকে বারবার জানিয়েও কোনো কাজ হয়নি। যতক্ষণ না এলাকায় নতুন ট্রান্সফর্মার বসানো হচ্ছে বা বিদ্যুৎ সংযোগ চালু হচ্ছে, ততক্ষণ আমাদের এই আন্দোলন চলবে।”
রাস্তা অবরোধের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ও বিদ্যুৎ দপ্তরের প্রতিনিধিরা। অবরোধকারীদের সাথে কথা বলে দ্রুত বিদ্যুৎ ও জল পরিষেবা সচল করার আশ্বাস দেওয়া হলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। তবে স্থানীয়দের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, দ্রুত এই সমস্যার সমাধান না হলে আগামীদিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন তারা।