Home » Blog » সড়ক-রেল অবরোধের হুঁশিয়ারি গেরিলা প্রত্যাবর্তিতদের

সড়ক-রেল অবরোধের হুঁশিয়ারি গেরিলা প্রত্যাবর্তিতদের

পুনর্বাসন ও বকেয়া প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলনের ডাক, যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হওয়ার আশঙ্কা

by Planet Tripura
0 comments 99 views

আগরতলা, ৩০ মে | নিজস্ব প্রতিনিধি:

আসাম-আগরতলা জাতীয় সড়ক ও রেলপথে ফের অবরোধের আশঙ্কায় উদ্বেগ বাড়ছে রাজ্যজুড়ে। আগামী ৫ জুন থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য জাতীয় সড়ক ও রেল যোগাযোগ অবরুদ্ধ করার কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ত্রিপুরা গেরিলা প্রত্যাবর্তিত দাবি কমিটি। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা পুনর্বাসন সংক্রান্ত বিভিন্ন দাবি পূরণ না হওয়ায় সংগঠনটি পুনরায় আন্দোলনের পথে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

শনিবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, আত্মসমর্পণ করে মূলস্রোতে ফিরে আসা প্রাক্তন জঙ্গিদের পুনর্বাসন ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে ২০০৭ সালের ২২ মে তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার ৪৫ কোটি টাকার একটি বিশেষ প্রকল্প অনুমোদন করেছিল। ২০০৮ সাল থেকে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়ে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে বাস্তবায়িত হলেও পরে সরকার পরিবর্তন এবং করোনা পরিস্থিতির কারণে প্রকল্পটি কার্যত থমকে যায়।

সংগঠনের দাবি, অনুমোদিত ৪৫ কোটি টাকার মধ্যে প্রায় ২২ কোটি টাকা ব্যয় হলেও অবশিষ্ট প্রায় ২৩ কোটি টাকা এখনও অব্যবহৃত রয়েছে। সেই অর্থ দিয়ে পুনর্বাসন প্রকল্প পুনরায় চালু করা, আত্মসমর্পণকারী প্রাক্তন জঙ্গিদের বিরুদ্ধে থাকা মামলা প্রত্যাহার, স্থায়ী পুনর্বাসন, আর্থিক নিরাপত্তা এবং সামাজিক পুনর্গঠনের মতো দাবিগুলি দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে।

সংগঠনের নেতারা দাবি করেন, ১৯৯৮ সালের আগেই তারা অস্ত্র ত্যাগ করে সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছিলেন। সে সময় পুনর্বাসন, কর্মসংস্থান এবং সম্মানজনক জীবনযাপনের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার একটি বড় অংশ এখনও পূরণ হয়নি। ফলে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর তারা আবারও আন্দোলনের পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন।

তবে এই ঘোষণাকে কেন্দ্র করে জনমনে একাধিক প্রশ্নও দেখা দিয়েছে। অতীতেও একাধিকবার একই ধরনের অবরোধ কর্মসূচির ঘোষণা করা হয়েছিল। প্রতিবারই সরকার ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে আলোচনার আশ্বাস দেওয়া হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ।

পর্যবেক্ষকদের মতে, সরকারের দীর্ঘদিনের সিদ্ধান্তহীনতা যেমন পরিস্থিতিকে জটিল করেছে, তেমনি বারবার জাতীয় সড়ক ও রেলপথ অবরোধের হুমকিও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। কারণ আসাম-আগরতলা জাতীয় সড়ক ও রেলপথ ত্রিপুরার জীবনরেখা হিসেবে পরিচিত। খাদ্যসামগ্রী, জ্বালানি, ওষুধপত্র, নির্মাণসামগ্রীসহ অধিকাংশ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ এই যোগাযোগ ব্যবস্থার উপর নির্ভরশীল।

অতীতে অবরোধের কারণে পণ্য পরিবহণ ব্যাহত হওয়া, বাজারে কৃত্রিম সংকট এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের একাধিক নজির রয়েছে। ফলে এবারও অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কার্যকর হলে রোগী পরিবহণ, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে রাজ্যের অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

ত্রিপুরা গেরিলা প্রত্যাবর্তিত দাবি কমিটির বক্তব্য, তাদের আন্দোলন সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে নয়; বরং দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের প্রতিবাদ। তবে দাবি আদায়ের উপায় হিসেবে রাজ্যের প্রধান যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল করার সিদ্ধান্ত কতটা যৌক্তিক, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে।

এখন নজর ৫ জুনের দিকে। তার আগে সরকার ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে কোনো ইতিবাচক আলোচনা হয় কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজ্যবাসী। কারণ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না এলে ত্রিপুরা আবারও এক অনিশ্চিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারে।

You may also like

Leave a Comment