বি.টেক ডিগ্রি নিয়েও অটো চালাচ্ছেন যুবক, আগরতলায় ভাইরাল ছবি ঘিরে চর্চা
নিজস্ব প্রতিনিধি : “বি.টেক অটোওয়ালা” — অটোর পিছনে লেখা এই কয়েকটি শব্দই এখন সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। আগরতলার বটতলা থেকে বাধারঘাট রেলস্টেশন রুটে চলাচলকারী এক অটোচালকের এই পরিচয় দেখে হতবাক সাধারণ মানুষ থেকে সমাজের সচেতন মহল। উচ্চশিক্ষিত হয়েও জীবিকার তাগিদে অটো চালানোর সিদ্ধান্ত সমাজে নতুন করে বেকারত্বের বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছে।
প্রতিদিন অসংখ্য যাত্রী ওই অটোতে যাতায়াত করছেন। কিন্তু অটোর পিছনে বড় অক্ষরে লেখা “B.Tech Auto Wala” নজর কাড়ছে সবার। অনেকেই অটোটির ছবি তুলে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করছেন। মুহূর্তের মধ্যেই তা ভাইরাল হয়ে পড়ে।
স্থানীয়দের মতে, এই ঘটনা শুধু একজন যুবকের ব্যক্তিগত সংগ্রামের কাহিনি নয়, বরং বর্তমান সময়ের কঠিন বাস্তবের প্রতিচ্ছবি। প্রযুক্তিগত শিক্ষায় ডিগ্রি অর্জনের পরও যখন উপযুক্ত চাকরি পাওয়া যাচ্ছে না, তখন অনেক তরুণ বাধ্য হয়ে বিকল্প পেশাকে বেছে নিচ্ছেন। তবে সেই পরিস্থিতিতেও আত্মসম্মান বজায় রেখে সৎ উপায়ে জীবিকা অর্জনের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন বহু মানুষ।
সমাজের একাংশের বক্তব্য, কাজ ছোট বা বড় নয়। চুরি, প্রতারণা কিংবা অসৎ পথে না গিয়ে পরিশ্রম করে জীবিকা নির্বাহ করাই প্রকৃত সম্মানের। সেই দৃষ্টিকোণ থেকেই “বি.টেক অটোওয়ালা” এখন অনেকের কাছে অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে উঠেছেন।
রাজ্যের শিক্ষিত বেকার সমস্যা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। উচ্চশিক্ষার পরও কর্মসংস্থানের অভাব কেন তৈরি হচ্ছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকের মতে, এই একটি ছবি রাজ্যের কর্মসংস্থানের বর্তমান পরিস্থিতিকে স্পষ্টভাবে সামনে এনে দিয়েছে।
অন্যদিকে সাধারণ মানুষ ওই অটোচালক যুবকের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। তাঁদের কথায়, “যে কোনও সৎ কাজই সম্মানের। বি.টেক পাশ করেও তিনি হাল ছাড়েননি, বরং নিজের পরিশ্রমে জীবনের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। সমাজের কাছে এটাই বড় শিক্ষা।”
বর্তমানে “বি.টেক অটোওয়ালা” শুধুমাত্র একটি নাম নয়, বরং তা হয়ে উঠেছে শিক্ষিত বেকারত্ব, আত্মসম্মান এবং পরিশ্রমের প্রতীক।