সামাজিক ভাতা ও প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার ঘর থেকে বঞ্চিত দরিদ্র রিকশাচালকের পরিবার
জম্পুইজলা ব্লকের প্রমোদনগর ভিলেজের প্রমোদনগর বাজার সংলগ্ন এলাকায় চরম দারিদ্র্যের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন রিকশাচালক হালিম মিয়া ও তাঁর পরিবার। সামাজিক ভাতা এবং প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার ঘর পাওয়ার যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও আজ পর্যন্ত কোনও সরকারি সুবিধা পাননি বলে অভিযোগ পরিবারের।
হালিম মিয়া বিশ্রামগঞ্জ বাজারে রিকশা চালিয়ে কোনোমতে সংসার চালান। স্ত্রী পারুলী বেগম ও চার সন্তানকে নিয়ে তাঁর পরিবারে প্রতিদিনই অভাবের সঙ্গে লড়াই চলছে। পরিবারটির বড় মেয়ের বয়স ১৪ বছর। এছাড়াও রয়েছে আপন মিয়া, পারমিন বেগম, রিমা বেগম এবং রিপন মিয়া।
পরিবারটির বসবাস একটি ভাঙাচোরা মাটির ঘরে। গত বছরের ঝড়-বৃষ্টিতে ঘরের টিনের ছাউনি উড়ে গিয়েছিল। পরে অনেক কষ্ট করে আবার টিনের ছাউনি দেওয়া হয়। কিন্তু এখনও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে বাড়িটি।
স্থানীয়দের দাবি, গোটা জম্পুইজলা ব্লকের মধ্যে সবচেয়ে দরিদ্র পরিবারগুলির অন্যতম হালিম মিয়ার পরিবার। বর্তমানে তাঁর বয়স প্রায় ৬০ বছর হওয়ায় তিনি বৃদ্ধ ভাতা পাওয়ার যোগ্য হলেও এখনও পর্যন্ত সেই সুবিধা পাননি। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার ঘরের ক্ষেত্রেও তিনি প্রকৃত দাবিদার বলে মত এলাকাবাসীর।
হালিম মিয়া জানান, প্রতিদিন রিকশা না চালালে পরিবারের সদস্যদের উপোস থাকতে হয়। ফলে ব্লক বা ভিলেজ অফিসে বারবার গিয়ে আবেদন জানানোর মতো সময় বা সামর্থ্য তাঁর নেই।
সোমবার সংবাদ প্রতিনিধির কাছে নিজের অসহায় পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে রাজ্য সরকারের কাছে সামাজিক ভাতা ও প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার ঘরের আবেদন জানান হালিম মিয়া ও তাঁর স্ত্রী পারুলী বেগম।
এলাকার বহু মানুষ মনে করছেন, প্রশাসন ও সমাজের সহায়তা পেলে পরিবারটি নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখতে পারবে। বর্তমানে রাজ্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এই দরিদ্র পরিবারের পাশে দাঁড়ায় কিনা, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে প্রমোদনগর ও বিশ্রামগঞ্জ এলাকার মানুষ।