শান্তিরবাজার প্রতিনিধি :
রাজ্যে একের পর এক সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনা যেন নিত্যদিনের চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও ঘটছে দুর্ঘটনা, ঝরছে প্রাণ, আহত হচ্ছেন বহু মানুষ। এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতির বাইরে নয় দক্ষিণ ত্রিপুরার শান্তিরবাজার মহকুমাও। বিগত কয়েক মাস ধরে মহকুমার বিভিন্ন এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফের মঙ্গলবার ভয়াবহ এক পথ দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হলেন দুই বাইক আরোহী।
ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, শান্তিরবাজার মহকুমার ব্যস্ততম ট্রাইজংশন বাজার এলাকায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, আগরতলা থেকে শান্তিরবাজারগামী TR 01BW 0498 নম্বরের একটি টাটা টিগোর গাড়ি দ্রুতগতিতে এসে দেবীপুর যাওয়ার মুখে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা দুটি মোটরবাইককে সজোরে ধাক্কা মারে।
দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত বাইক দুটি হল TR 08H 6713 নম্বরের একটি পালসার এবং TR 08F 5362 নম্বরের একটি স্পেন্ডার মোটরবাইক। সংঘর্ষ এতটাই ভয়াবহ ছিল যে দুই বাইকে থাকা আরোহীরা ছিটকে রাস্তায় পড়ে গুরুতর আহত হন।
আহতদের পরিচয় পাওয়া গেছে কলাবাড়ীয়া এলাকার বাসিন্দা দীনেশ দাস (৩০) এবং মাইছড়া এলাকার বাসিন্দা বাপী দাস (২৪) হিসেবে। দুর্ঘটনার সঙ্গে সঙ্গেই স্থানীয় মানুষজন ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করেন এবং দ্রুত শান্তিরবাজার জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা আহতদের শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য সঙ্গে সঙ্গে আগরতলার জিবি হাসপাতালে রেফার করেন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে শান্তিরবাজার থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে ফরেন্সিক টিমকেও ঘটনাস্থলে নিয়ে আসা হয়। পুলিশ দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গাড়ি চালকের বেপরোয়া গতি ও অসাবধানতার কারণেই এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনায় জড়িত গাড়িটি প্রদীপ পাল নামে এক চিকিৎসকের বলে জানা যায়। তবে দুর্ঘটনার পর গাড়ির চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে। এদিকে এলাকাজুড়ে গুঞ্জন ছড়িয়েছে যে, পুলিশের সহযোগিতায় চালক পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা এখনও সরকারি ভাবে নিশ্চিত হয়নি।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, ট্রাইজংশন বাজার এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই যানজট, অবৈধ দখল এবং ট্রাফিক ব্যবস্থার অব্যবস্থাপনা চললেও প্রশাসনের তরফে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। যার ফলেই বারবার ঘটছে দুর্ঘটনা।
এই বিষয়ে শান্তিরবাজার থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত এসআই সমীর বিশ্বাস সাংবাদিকদের জানান, মহকুমার অধিকাংশ রাস্তা ও ফুটপাত দখল হয়ে রয়েছে। পাশাপাশি আগরতলা-সাব্রুম জাতীয় সড়কের ট্রাইজংশন এলাকায় প্রতিনিয়ত অতিরিক্ত ভিড় লেগে থাকে। ফলে এই এলাকায় দুর্ঘটনার প্রবণতা অনেক বেশি।
তিনি আরও জানান, জাতীয় সড়কের পাশে স্থাপন করা একাধিক সিগন্যাল লাইট দীর্ঘদিন ধরে বিকল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। প্রশাসনের কাছে দ্রুত সেগুলো মেরামতের দাবি জানান তিনি। তাঁর মতে, সিগন্যাল ব্যবস্থা সচল হলে এবং রাস্তার দখলমুক্তকরণ অভিযান জোরদার করা হলে দুর্ঘটনার সংখ্যা অনেকটাই কমানো সম্ভব।
এখন সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—এই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ কি সামনে আসবে? অভিযুক্ত চালককে গ্রেপ্তার করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে তো? নাকি অন্য অনেক ঘটনার মতো এটিও সময়ের সঙ্গে চাপা পড়ে যাবে? পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে শান্তিরবাজারবাসী।
