ডিজিটাল আইন, গণতন্ত্র ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার উপর আঘাত, প্রত্যাহারের দাবিতে সরব প্রদেশ কংগ্রেস
নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা ২৩ এপ্রিল : দেশে গণতান্ত্রিক পরিকাঠামো ও নাগরিক অধিকারের ওপর ক্রমবর্ধমান হুমকির অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালো ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেস কমিটি। বৃহস্পতিবার আগরতলার কংগ্রেস ভবন থেকে জারি করা এক প্রেস বিবৃতিতে দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, ভারতীয় জনতা পার্টি এবং আরএসএস-এর নেতৃত্বাধীন শাসনব্যবস্থা পরিকল্পিতভাবে দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে দুর্বল করে দিচ্ছে।
প্রেস বিবৃতিতে বলা হয়, কেন্দ্রীয় সরকার একের পর এক আইন প্রণয়নের মাধ্যমে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার সংকুচিত করছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক ডিজিটাল সংক্রান্ত আইনকে কংগ্রেস স্বৈরাচারী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ বলে আখ্যা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, এই আইনগুলির মাধ্যমে নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। দলের মুখপাত্র প্রবীর চক্রবর্তী বলেন, দেশের সাধারণ মানুষের দৃষ্টি অন্যদিকে ঘোরাতে সরকার নানা কৌশল অবলম্বন করছে। বাস্তব সমস্যা থেকে নজর সরাতে বিভ্রান্তিকর প্রচার চালানো হচ্ছে।
অথচ বেকারত্ব, মূল্যবৃদ্ধি ও সামাজিক অস্থিরতার মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলি উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে।বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, নতুন ডিজিটাল আইন কার্যকর হলে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সাংবাদিকদের কাজের ক্ষেত্রে অযাচিত হস্তক্ষেপ বাড়বে এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত হবে।এতে করে গণতন্ত্রের অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা দুর্বল হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে কংগ্রেস।
কংগ্রেসের অভিযোগ, এই আইনের আওতায় সরকারের সমালোচনামূলক কোনও তথ্য প্রকাশ করলে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। ফলে সাধারণ নাগরিক থেকে শুরু করে সাংবাদিক, সবাই এক ধরনের ভয়ের পরিবেশে কাজ করতে বাধ্য হবেন।এছাড়াও, আরটিআই ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে দলটি।
তাদের মতে, তথ্য জানার অধিকার ক্রমশ সীমিত করে দেওয়া হচ্ছে, যা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার পরিপন্থী। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনগণের অধিকার সুরক্ষিত রাখার পরিবর্তে সরকার তা খর্ব করছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়েছে। প্রেস বিবৃতির শেষে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়, এই ধরনের কালো আইন অবিলম্বে প্রত্যাহার না করা হলে দেশজুড়ে বৃহত্তর গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে। গণতন্ত্র রক্ষার স্বার্থে সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছে।

