পাহাড়ে নতুন করে সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু, রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাত তিপরা মথা নেতৃত্বের
নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা ১৮ এপ্রিল : ত্রিপুরা ট্রাইবাল এরিয়া অটোনোমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল (এডিসি) নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর পাহাড়ে নতুন সরকার গঠনের লক্ষ্যে রাজনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে শনিবার রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি নাল্লু-র সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিপরা মথার সুপ্রিমো প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মণ।
রাজভবনে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলের সাধারণ সম্পাদক বৃষকেতু দেববর্মা, রুনিয়েল দেববর্মা, সি.কে. জমাতিয়া এবং পূর্ণচন্দ্র জমাতিয়া। উল্লেখ্য, বর্তমান এডিসি পরিষদের মেয়াদ শেষ হওয়ায় পূর্ণচন্দ্র জমাতিয়া এদিন রাজ্যপালের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন। বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মণ বলেন, এই জয় সম্পূর্ণভাবে জনগণের জয়। কে কী বলছে, তা গুরুত্বপূর্ণ নয়, জনগণ তাদের রায় দিয়েছে, সেটাই বড় কথা। তিনি আরও জানান, তিপ্রাসাদের অধিকার আদায়ের প্রশ্নে কোনও আপস করা হবে না এবং আগের তুলনায় তিনগুণ বেশি কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন।
তিনি বলেন, মানুষ আমাদের উপর যে আস্থা রেখেছে, আমরা তা রক্ষা করবো, কখনও গদ্দারি করবো না। বিজেপিকে উদ্দেশ্য করে তিনি মন্তব্য করেন, দলের অধিকাংশ কর্মী ভালো হলেও কিছু ব্যক্তি মুখ্যমন্ত্রীকে ভুল পথে পরিচালিত করছেন। ২০১৮ সালের পর সিপিআইএম ছেড়ে বিজেপিতে যোগদানকারীদের একাংশকে বর্তমান পরিস্থিতির জন্য দায়ী বলেও দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দল ভাঙার প্রবণতাকে ভালো রাজনীতির পরিপন্থী বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এডিসি নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক সন্ত্রাসের অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রদ্যোত বলেন, তিপরা মথা সন্ত্রাসে বিশ্বাস করে না।
যদি কেউ অতিউৎসাহী হয়ে এমন কিছু করে, দল তার পক্ষে থাকবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দেন তিনি। মন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মা-র দলবদলের জল্পনা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, অনিমেষ এখনও দলে আছেন। গত ছয় বছর ধরে তিনি মথার সঙ্গে যুক্ত।এডিসির ডেপুটি সিইএম, বিরোধী দলনেতা হয়ে বর্তমানে মন্ত্রী, এই দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা রয়েছে তাঁর। এ বিষয়ে তিনি সরাসরি অনিমেষ দেববর্মার সঙ্গে কথা বলবেন বলেও জানান। এছাড়া মন্ত্রী শান্তনা চাকমার একটি মন্তব্যকে ঘিরে, তিনি বলেন একদিন সময় আসবে মন্ত্রী শান্তনা চাকমাও প্রদ্যোত কিশোরকে ফোন করে তিপরা মথায় যোগদান করবেন।
এদিকে, এডিসিতে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে রাজ্যপালের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর, সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী দল বা জোটকে সরকার গঠনের জন্য আমন্ত্রণ জানান রাজ্যপাল। সেই দলের নির্বাচিত সদস্যদের মধ্য থেকে একজনকে চিফ এক্সিকিউটিভ মেম্বার (সিইএম) হিসেবে মনোনীত করা হয়। সিইএম শপথ গ্রহণের পর একটি এক্সিকিউটিভ কমিটি গঠন করেন, যেখানে বিভিন্ন এক্সিকিউটিভ মেম্বারদের দায়িত্ব বণ্টন করা হয়। এই কমিটিই এডিসির প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করে। নতুন সিইএম কে হতে পারেন এই প্রশ্নে, প্রদ্যোত কিশোর জানান, দল নেতৃত্বদের নিয়ে বৈঠকে বসছে, সেই বৈঠকেই সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হবে।
যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও কোনও নাম ঘোষণা করা হয়নি, তবে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা চলছে যে তিপরা মথার শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে থেকেই নতুন সিইএম নির্বাচিত হতে পারেন। প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মণের ঘনিষ্ঠ কোনও অভিজ্ঞ নেতা এই পদে আসতে পারেন বলেই মনে করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে, পাহাড়ে নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র জল্পনা ও তৎপরতা চলছে। এখন রাজ্যপালের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং তিপরা মথার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকেই নজর সবার।
