📰 উমাকান্ত স্কুলে ফ্যান-বিপর্যয়: শিক্ষার পীঠস্থানে নিরাপত্তাহীনতা ও পরিকাঠামোগত উদাসীনতা

ত্রিপুরার শিক্ষা ব্যবস্থাকে আবারও প্রশ্নের মুখে ফেলেছে আগরতলার ঐতিহ্যবাহী উমাকান্ত ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল। সম্প্রতি এই বিদ্যালয়ে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে — ক্লাস চলাকালীন একটি সিলিং ফ্যান ছিঁড়ে পড়ে যায় তৃতীয় শ্রেণির শ্রেণিকক্ষে।
🎓 আহত দুই শিক্ষার্থী, আতঙ্ক অভিভাবক মহলে
এই দুর্ঘটনায় দুই শিক্ষার্থী — রাজদীপ রায় ও অংশুমান দাস আহত হয়। রাজদীপের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে, আর অংশুমান অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যায়। ফ্যানের ব্লেড তার চোখ ঘেঁষে বেরিয়ে যায় বলে জানা গেছে।
প্রাথমিক চিকিৎসার পর তারা আশঙ্কামুক্ত হলেও, এই ঘটনা রাজ্যের অভিভাবক মহলে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
💰 ‘বিদ্যাজ্যোতি’র নামে ফি আদায়, পরিকাঠামোয় চরম অবহেলা
উমাকান্ত স্কুল রাজ্যের অন্যতম ‘বিদ্যাজ্যোতি প্রকল্পভুক্ত বিদ্যালয়’। অভিভাবকদের অভিযোগ, প্রতি বছর স্কুল কর্তৃপক্ষ “ম্যানেজমেন্ট ও রক্ষণাবেক্ষণ” খাতে প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে এক হাজার টাকা করে ফি আদায় করে।
প্রায় ১৪ লক্ষাধিক টাকা সংগ্রহ হলেও, বিদ্যালয়ের পরিকাঠামো উন্নয়নে তার কোনো সদ্ব্যবহার হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিভাবকদের দাবি, শুধু ওই একটি ফ্যান নয় — বহু শ্রেণিকক্ষের ফ্যানই নড়বড়ে অবস্থায় ঝুলে আছে, যা মেরামত করা হয়নি বছরের পর বছর।
🚻 শৌচাগার থেকে পানীয় জল — অব্যবস্থার চূড়ান্ত চিত্র
বিদ্যালয়ের শৌচাগারগুলির অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। কোথাও জল নেই, কোথাও আবার বাথরুমে জল জমে থাকে।
পরিস্থিতি এমন যে, ছোট শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনে বাথরুম ব্যবহার করতে না পারলে অভিভাবকদের ডেকে এনে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে হয়।
পরিচ্ছন্ন পানীয় জলের অভাবও প্রকট। শিশুরা মূলত নিজেদের নিয়ে আসা বোতলজাত জলের উপর নির্ভরশীল।
এছাড়া মিড-ডে মিলের মান নিয়েও অভিভাবকদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে।
📱 মোবাইল-নির্ভর পাঠদান ও প্রশাসনিক কঠোরতা
অভিভাবকদের অভিযোগ, অধিকাংশ শিক্ষক এখন মোবাইল-নির্ভর পাঠদানের উপর নির্ভরশীল। পড়াশোনার উপকরণ মোবাইলে পাঠানো হয়, ফলে বাড়িতে অভিভাবকদের উপরই পড়ানোর দায় এসে পড়ছে।
অন্যদিকে, স্কুলে অনুপস্থিত থাকার বিষয়ে প্রশাসন অতিরিক্ত কঠোর— কোনো শিক্ষার্থী একদিন স্কুলে না এলে পরদিন কারণ দর্শিয়ে আবেদন জমা দিতে হয়।
⚠️ উদাসীন পরিচালন কমিটি ও সরকারের নজরদারির অভাব
অভিভাবকরা জানান, স্কুলের এইসব ত্রুটি নিয়ে প্রধান শিক্ষক বা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বললে তাদের সন্তানদের উপর কঠোর আচরণ করা হয়।
তাদের দাবি, বিদ্যালয় পরিচালন কমিটি যেমন উদাসীন, তেমনই রাজ্য শিক্ষা দপ্তরেরও কার্যকর নজরদারি নেই।
🔍 সতর্কবার্তা: শিক্ষার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই হবে
বুধবারের ফ্যান দুর্ঘটনাটি শুধুই একটি আকস্মিক ঘটনা নয় — এটি এক চরম সতর্কবার্তা। বিদ্যালয় একটি শিশুর কাছে যেমন শিক্ষার স্থান, তেমনই নিরাপত্তার আশ্রয়।
যদি সেই স্থানেই নিরাপত্তাহীনতার পরিবেশ তৈরি হয়, তবে তা শিশুর মানসিক বিকাশ ও শিক্ষার অধিকার উভয়কেই বিপন্ন করে।
রাজ্যের শিক্ষা প্রশাসনের প্রতি এখন দাবি উঠছে —
অবিলম্বে উমাকান্ত ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের পরিকাঠামো ও পরিচালন ব্যবস্থার উপর কঠোর নজরদারি চালাতে হবে,
যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো শিশুর প্রাণহানি বা দুর্ঘটনা না ঘটে।
