বিরজিত সিনহার বিতর্কিত মন্তব্যে কৈলাসহরে বাম-কংগ্রেসে উত্তেজনা
নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৫ অক্টোবর :
কংগ্রেস বিধায়ক বিরজিত সিনহার সাম্প্রতিক মন্তব্যে কৈলাসহরের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। সিপিআইএমের লোকাল কমিটিকে ‘ডগ’ বা ‘কুকুর’ বলে আখ্যা দেওয়ায় জোটসঙ্গী বামেদের ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন।
২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বাম-কংগ্রেস ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করে কৈলাসহরে বিরজিত সিনহাকে জয়ী করেছিল। দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা ভুলে দুই দলের কর্মীরা একসঙ্গে কাজ করেছিলেন। এমনকি ২০২৪ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনেও তারা একজোট হয়েছিলেন। তবে কংগ্রেস এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর থেকেই দুই দলের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে।
সম্প্রতি ইয়াজেখাওরা গ্রাম পঞ্চায়েতে এক কংগ্রেস যোগদান সভায় বিরজিত সিনহা সিপিআইএম লোকাল কমিটিকে ‘কুকুর’ বলে সম্বোধন করেন বলে অভিযোগ। এছাড়া তিনি সিপিআইএম রাজ্য কমিটির সদস্য বিশ্বরূপ গোস্বামীকে “টেঙ্গরা” ও “পিস্তল গোস্বামী” বলে কটাক্ষ করেন। তিনি দাবি করেন, ২০০৩ সালে গোস্বামী তাকে হত্যা করার ষড়যন্ত্রে যুক্ত ছিলেন।
বিরজিত বাবু আরও জানান, ২০২৩ সালের নির্বাচনে তিনি সিপিআইএমের ৫টি লোকাল কমিটিকে মোট ৫০ হাজার টাকা দিয়েছিলেন, যা পরে ফেরত দেওয়া হলেও তিনি তা গ্রহণ করেননি। এই বক্তব্য সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই বাম কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
প্রতিক্রিয়ায়, সিপিআইএম ঊনকোটি জেলা কমিটি ও কৈলাসহর মহকুমা কমিটি যৌথ সাংবাদিক সম্মেলন করে বিরজিত সিনহার মন্তব্যের কঠোর নিন্দা জানায়। জেলা সম্পাদক কৃষ্ণেন্দু চৌধুরী বলেন, “বামদের অবদান না থাকলে বিরজিত সিনহা আজ জয়ী হতেন না।” তিনি আরও জানান, লোকসভা ভোটের সময় কংগ্রেসকেও সিপিআইএম আর্থিক সহায়তা করেছিল, অথচ তা কখনো প্রকাশ্যে আনা হয়নি।
মহকুমা সম্পাদক অঞ্জন রায় বলেন, “বিরজিত সিনহা ছোট মানসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। ভোটে জিতিয়ে দেওয়ার পরও এমন মন্তব্য অকৃতজ্ঞতার নিদর্শন।” সিপিআইএম নেতা কান্তিলাল দেব বলেন, “রাজনীতিতে সৌজন্য ও শিষ্টাচার না থাকলে আগামী প্রজন্মের কাছে আমরা কী দৃষ্টান্ত রাখবো?”
অন্যদিকে, কৈলাসহরের কংগ্রেস কর্মীরা বিরজিত সিনহার বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে সামাজিক মাধ্যমে বামেদের সমালোচনা শুরু করেছে। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, এই ঘটনাই প্রমাণ করছে যে কৈলাসহরের রাজনীতিতে এখন ‘সিংহের গর্জনই শেষ কথা’।
