খোয়াই জেলায় স্বাস্থ্য ও পরিকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের শিলান্যাস ও উদ্বোধন করলেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক (ডা.) মানিক সাহা। বৃহস্পতিবার খোয়াইয়ের ধলাবিলে ১০০ শয্যা বিশিষ্ট নতুন জেলা হাসপাতাল এবং ৫০ শয্যা বিশিষ্ট নেশা মুক্তি নিরাময় কেন্দ্রের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন, ভূমি পূজা ও শিলান্যাস করেন মুখ্যমন্ত্রী।

এছাড়াও তিনি ভার্চুয়াল মাধ্যমে খোয়াই জেলার আরও আটটি উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। এর মধ্যে রয়েছে জেলা প্রশাসনের জন্য নির্মিত নতুন সরকারি আবাস, ডি-সি-এম ও বিডিও অফিস এবং কোয়ার্টার, শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির স্ট্যাচু, পার্ক উদ্বোধন সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প।
শিলান্যাস অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিগত অর্থবছরে রাজ্যের বাজেট ছিল ২৭ হাজার কোটি টাকা। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে সেই বাজেট বৃদ্ধি করে ৩২ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে। এই বাজেটে বাড়তি বরাদ্দ রাখা হয়েছে রাজ্যের পরিকাঠামোর মানোন্নয়নের জন্য। তিনি আরও জানান, আজ যে সমস্ত প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করা হয়েছে, সেগুলির জন্য মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১১৩ কোটি টাকা।
মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলেন, উন্নয়নমূলক কাজে কোনও রাজনীতি করা হয় না—রাজনীতি রাজনীতির জায়গায়, উন্নয়ন উন্নয়নের জায়গায়। রাজ্যের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে তিনি জানান, দেশের কোনও রাজ্যে ত্রিস্তর পঞ্চায়েত ব্যবস্থায় ই-অফিস চালু হয়নি, শুধুমাত্র ত্রিপুরাতেই ত্রিস্তর পঞ্চায়েতের কাজকর্ম সহজ করতে এই ই-অফিস ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
এদিনের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন তেলিয়ামুড়ার বিধায়িকা কল্যাণী রায়, কল্যাণপুরের বিধায়ক পিনাকী দাস চৌধুরী, খোয়াই বিধানসভার বিধায়ক নির্মল বিশ্বাস, জেলাশাসক রজত পান্থ, জেলা পুলিশ সুপার রানাদিত্য দাস, জেলা পরিষদের সভানেত্রী অপর্ণা সিংহ রায় সহ অন্যান্য জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনিক আধিকারিকরা।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই মুখ্যমন্ত্রী জেলা হাসপাতাল ও নেশা মুক্তি নিরাময় কেন্দ্রের নির্মাণস্থলে ভূমি পূজায় অংশগ্রহণ করেন। এই প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হলে খোয়াই জেলার স্বাস্থ্য পরিষেবা ও প্রশাসনিক পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।
