রাজধানীর বুকে প্রকাশ্য দিবালোকে দায়ের কোপ, রক্তাক্ত প্রবীণ, আইনশৃঙ্খলা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন
নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা ২৯ জুন: রাজধানী আগরতলার অন্যতম ব্যস্ত ওরিয়েন্ট চৌমুহনী এলাকায় সোমবার দুপুরে প্রকাশ্য দিবালোকে ধারালো দা দিয়ে এক প্রবীণ ব্যক্তির ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। জনসমক্ষে সংঘটিত এই নৃশংস হামলায় গুরুতর জখম হন ওই প্রবীণ। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং আবারও রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, নেশাগ্রস্ত অবস্থায় এক ব্যক্তি আচমকাই হাতে থাকা ধারালো দা নিয়ে প্রবীণ ব্যক্তির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। হঠাৎ এই হামলায় রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। ধারালো অস্ত্র হাতে থাকায় প্রথমদিকে কেউ এগিয়ে যাওয়ার সাহস পাননি। পরে কয়েকজন সাহসী যুবক ও স্থানীয় বাসিন্দা জীবন বাজি রেখে অভিযুক্তকে ঘিরে ফেলেন এবং তার হাত থেকে দা কেড়ে নিয়ে আটকে রাখেন। তাদের তৎপরতায় আরও বড় ধরনের বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।
এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, তিনি নিজের চোখের সামনে হামলার ঘটনা দেখেছেন। অভিযুক্ত দা হাতে এলোপাতাড়ি আঘাত করছিল। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি এলাকায় সাইকেল মেকানিকের কাজ করেন। তবে আহত প্রবীণের সঙ্গে তার পূর্ব পরিচয় বা কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ ছিল কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। হামলার প্রকৃত কারণ নিয়েও ধোঁয়াশা রয়েছে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পশ্চিম আগরতলা থানার পুলিশ ও দমকল কর্মীরা। গুরুতর আহত প্রবীণকে উদ্ধার করে জিবিপি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পুলিশ অভিযুক্তকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। ঘটনার নেপথ্যের কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে এই ঘটনা শুধুমাত্র একটি বিচ্ছিন্ন অপরাধ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলেই মত প্রকাশ করছেন অনেক নাগরিক।
কারণ, সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ধারালো অস্ত্র, দা, ছুরি, কুড়াল এমনকি আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে হামলা, খুনের চেষ্টা ও সন্ত্রাসের অভিযোগ ক্রমশ বাড়ছে। রাজধানী শহরের ব্যস্ততম এলাকায় দিনের আলোয় এমন হামলা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাবোধকে বড় ধাক্কা দিয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, যদি রাজধানীর জনবহুল এলাকায় প্রকাশ্যে হাতে দা নিয়ে ঘুরে বেড়িয়ে একজন প্রবীণের ওপর হামলা চালানো সম্ভব হয়, তাহলে প্রত্যন্ত মহকুমা ও গ্রামীণ এলাকায় আইনশৃঙ্খলার বাস্তব চিত্র কতটা উদ্বেগজনক হতে পারে ? সাধারণ মানুষের একাংশের অভিযোগ, অপরাধীদের মধ্যে আইনের ভয় ক্রমশ কমে যাচ্ছে। অস্ত্র হাতে নিয়ে হামলা চালাতে তারা দ্বিতীয়বার ভাবছে না। ফলে বাজার, রাস্তা কিংবা জনবহুল এলাকায়ও নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি বাড়ছে।
রাজ্য সরকার বারবার সুশাসন, শান্তি এবং উন্নয়নের কথা বললেও বিরোধী মহল ও নাগরিক সমাজের একাংশের দাবি, একের পর এক এই ধরনের ঘটনা আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। যদিও কোনো একটি ঘটনার ভিত্তিতে সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না, তবুও সাম্প্রতিক ধারাবাহিক সহিংস ঘটনাগুলি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন অনেকেই। এদিকে, পুলিশ জানিয়েছে, এই হামলার পেছনের উদ্দেশ্য, অভিযুক্তের মানসিক অবস্থা, নেশাগ্রস্ত ছিলেন কি না এবং অন্য কোনো কারণ জড়িত রয়েছে কি না, সব দিকই তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।তদন্তের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।