চার বড়জলায় অভিযোগের পাহাড়, তদন্তের দাবিতে সরব জনতা, রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে প্রশ্নের মুখে প্রশাসনের নীরবতা
নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা ২৯ জুন : রাজধানী সংলগ্ন চার বড়জলা বিধানসভা কেন্দ্রকে ঘিরে রাজনৈতিক অস্বস্তি ক্রমশ বাড়ছে। স্থানীয় বিভিন্ন মহল, নাগরিক সমাজ এবং সাধারণ মানুষের একাংশের আলোচনায় বারবার উঠে আসছে বিজেপির মণ্ডলের সাধারণ সম্পাদক ধনবীর পাল এবং মণ্ডল নেতা জয়দীপ চৌধুরী ওরফে রাহুলের নাম। তাঁদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো, বিভিন্ন আর্থিক কর্মকাণ্ডে প্রভাব বিস্তার, ঠিকাদারি কাজে হস্তক্ষেপ এবং এলাকায় ভয়ের পরিবেশ তৈরির মতো নানা অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয় স্তরে ঘুরপাক খেলেও এখনও পর্যন্ত কোনো প্রকাশ্য বা নিরপেক্ষ তদন্তের উদ্যোগ চোখে পড়েনি বলে অভিযোগ উঠছে।
স্থানীয়দের একাংশের দাবি, চার বড়জলার বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক পরিচয়কে হাতিয়ার করে এক ধরনের প্রভাব বিস্তারের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। বড়জলা মন্ডলের প্রাক্তন সভাপতি রাজীব সাহা, জমি কেলেঙ্কারির অভিযোগে জেল খেটেছেন, বর্তমানে তার পথ অনুসরন করছে ধনবীর ও জয়দীপ। তারা এলাকায় নিগো বানিজ্য, দেহ ব্যাবসা, ঠিকেদারি কাজে কমিশন লুট, ইত্যাদি সমস্ত বিষয়ে দাদাগিরি চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না। অভিযোগ, কেউ প্রতিবাদ করতে গেলে শাসকদল ও প্রভাবশালী নেতা-মন্ত্রীদের নাম ব্যবহার করে ভয় দেখানো হয়। পুলিশ প্রশাসন তাদের পকেটে, জেল ফিরত প্রাক্তন সভাপতি তাদের মাথায় হাত রেখে সমস্ত সাহস জুগাচ্ছে বলেও খবর। এলাকার বর্তমান বাম বিধায়ক পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে পারছে না। যদিও এসব অভিযোগের সত্যতা এখনও কোনো সরকারি তদন্তে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
তাই নাগরিক সমাজের দাবি, বিষয়টি নিয়ে নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত হোক। অভিযোগ সত্য হলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক, আর অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে তদন্তের মাধ্যমে সেটিও জনসমক্ষে স্পষ্ট করা হোক। স্থানীয়দের আলোচনায় আরও উঠে আসছে বড়জলা মণ্ডলের প্রাক্তন সভাপতি রাজীব সাহার নাম। এলাকাবাসীর একাংশের বক্তব্য, অতীতে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা জমি সংক্রান্ত বিতর্কের পর এখন নতুন করে বর্তমান নেতৃত্বের বিরুদ্ধেও একের পর এক অভিযোগ সামনে আসছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, চার বড়জলা মণ্ডলের সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং রাজনৈতিক পরিবেশ আদৌ কতটা স্বচ্ছ? অভিযোগকারীদের মতে, প্রশাসনের দীর্ঘ নীরবতা সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি করছে। তাঁদের বক্তব্য, যদি অভিযোগগুলির কোনো ভিত্তি না থাকে, তাহলে তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের নাম পরিষ্কার করা হোক।
আর যদি অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়, তাহলে রাজনৈতিক পরিচয় নয়, আইনের ভিত্তিতেই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই তিনি দোষী হয়ে যান না। কিন্তু অভিযোগ যদি দীর্ঘদিন ধরে জনপরিসরে আলোচনার বিষয় হয়ে থাকে, তাহলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার অন্যতম দায়িত্ব। নীরবতা বরং জল্পনা-কল্পনাকে আরও বাড়িয়ে তোলে এবং সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করে।
এলাকার নারী-পুরুষের একাংশের দাবি, চার বড়জলার পরিস্থিতি নিয়ে দলীয় ও প্রশাসনিক স্তরে অবিলম্বে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করা হোক। তাঁদের মতে, অভিযোগের যথাযথ নিষ্পত্তি না হলে ভবিষ্যতে দলের সাংগঠনিক ভাবমূর্তি এবং সরকারের সুশাসনের বার্তা দুটিই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। একই সঙ্গে জনমনে ক্ষোভ ও অসন্তোষ আরও বাড়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বর্তমানে এই অভিযোগগুলির বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বসহ প্রকাশ করা হবে।