আগরতলা: আত্মসমর্পণকারী জঙ্গিগোষ্ঠীর ডাকা ৭২ ঘণ্টার জাতীয় সড়ক ও রেলপথ অবরোধ ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও রাজ্যের যোগাযোগ ব্যবস্থা এখনও স্বাভাবিক হয়নি। সরকারের তরফে কার্যকর কোনও সমাধান না মেলায় ক্রমেই বাড়ছে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ। বড়মুড়া অবরোধস্থলসহ আসাম–আগরতলা জাতীয় সড়কের হাতায়কতর, চন্দ্র সাধুপাড়া-সহ বিভিন্ন এলাকায় আটকে রয়েছে দূরপাল্লার লরি, বাস ও অন্যান্য যানবাহন।
অনেক যাত্রী ভাড়ার গাড়িতে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হয়েও অবরোধের মুখে পড়ে মাঝপথে আটকে গেছেন। দীর্ঘ সময় যানবাহন দাঁড়িয়ে থাকায় শিশু, মহিলা, প্রবীণ ও অসুস্থ যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। কোথাও কোথাও দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার কারণে যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগও দেখা দিয়েছে।
একইভাবে রেলপথ অবরোধের জেরে আমবাসা, মনু, কুমারঘাটসহ বিভিন্ন রেলস্টেশনে ট্রেন ও বহু যাত্রী আটকে রয়েছেন। দীর্ঘ সময় স্টেশনে অপেক্ষা করতে গিয়ে খাবার ও পানীয় জলের সমস্যার পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী এবং শৌচাগার ব্যবহারে সমস্যার অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘক্ষণ যাত্রীদের অবস্থানের কারণে কোথাও কোথাও স্টেশন চত্বরের পরিচ্ছন্নতাও ব্যাহত হয়েছে বলে অভিযোগ।
অন্যদিকে, জাতীয় সড়কে পণ্যবাহী যান আটকে থাকায় উদ্বেগ বাড়ছে ব্যবসায়ী মহলেও। দীর্ঘ সময় লরি আটকে থাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর সরবরাহে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
অবরোধকারীদের ১১ দফা দাবিকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এই অচলাবস্থা ২৪ ঘণ্টা অতিক্রম করেও অব্যাহত রয়েছে। সরকারের সঙ্গে এখনও কোনও সমাধানসূত্র না মেলায় অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়টিও স্পষ্ট নয়। ফলে ৭২ ঘণ্টার অবরোধ যত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি।
জাতীয় সড়ক ও রেলপথে আটকে থাকা যানবাহন এবং বিভিন্ন স্টেশনে অপেক্ষারত যাত্রীদের এখন একটাই প্রশ্ন—কবে কাটবে এই অচলাবস্থা, কবে স্বাভাবিক হবে রাজ্যের যোগাযোগ ব্যবস্থা?