জিরো পয়েন্টে বাঁধ সংস্কারে বাধা!১২ গ্রাম প্লাবনের আশঙ্কায় পথ অবরোধ!!
প্ল্যানেট ত্রিপুরা প্রতিনিধি ১২ই জুলাই ২০২৬ ইং :- ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী ত্রিপুরার ঊনকোটি জেলার কৈলাসহরের আন্তর্জাতিক জিরো পয়েন্ট এলাকায় মনু নদীর বাঁধ ভাঙনকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ, সম্ভাব্য বন্যা থেকে প্রায় ১২টি গ্রামকে রক্ষা করতে জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ সংস্কারের কাজ শুরু হলেও শাসক দলঘনিষ্ঠ এক প্রভাবশালী নেতার আইনজীবী শ্যালকের বাধার জেরে সেই কাজ থমকে যায়। এর প্রতিবাদে রবিবার সকাল থেকে টিলাবাজার এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দা ও ঠিকাদাররা পথ অবরোধে সামিল হন। টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে ঊনকোটি জেলা সহ ত্রিপুরার বিভিন্ন এলাকা বন্যার কবলে পড়েছিল। বর্তমানে বৃষ্টিপাত কমে মনু নদীর জলস্তর কিছুটা নামলেও জিরো পয়েন্টের লাঠিয়াপুরা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় প্রায় ৩০০ মিটার নদীর বাঁধ ভাঙতে শুরু করেছে। ওই এলাকায় একটি বিএসএফ ক্যাম্পও রয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে জেলা প্রশাসন ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ দপ্তর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দ্রুত বাঁধ সংস্কারের উদ্যোগ নেয়। ঠিকাদার আব্দুল মান্নানের দাবি, বন্যা নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের নির্দেশে শুক্রবার সকাল থেকে কয়েকজন ঠিকাদার মাটি ফেলে বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু করেন। কিন্তু রাতে কয়েকজন ব্যক্তি কাজে বাধা দিয়ে মাটি বোঝাই গাড়ি ফিরিয়ে দেন। পরদিন প্রশাসনের নির্দেশে ১৯টি বোল্ডার বোঝাই গাড়ি পাঠানো হলেও সেগুলিও দীর্ঘক্ষণ আটকে রেখে শেষ পর্যন্ত ফিরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
ঠিকাদার আব্দুল মান্নান অভিযোগ করেন, গোটা ঘটনাই পুলিশ প্রশাসনের উপস্থিতিতে ঘটেছে এবং এর পেছনে সরকারি আইনজীবী সন্দীপ দেব রায়ের ভূমিকা রয়েছে। তাঁর দাবি, আন্তর্জাতিক সীমান্তবর্তী জিরো পয়েন্ট এলাকায় কাজের ক্ষেত্রে বিশেষ নিয়ম কানুন থাকলেও সেখানে দাঁড়িয়ে সেই সরকারি আইনজীবী সংবাদ সম্মেলন করেছেন, যা ভবিষ্যতে সীমান্ত-সংক্রান্ত জটিলতা তৈরি করতে পারে। একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, দ্রুত বাঁধ সংস্কার না হলে কৈলাসহরের প্রায় ১২টি গ্রাম বড় ধরনের বন্যার ঝুঁকিতে পড়বে। এই ঘটনার প্রতিবাদে রবিবার টিলাবাজার এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দা ও ঠিকাদাররা পথ অবরোধ করে বিক্ষোভে সামিল হন। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে বাঁধ সংস্কারের কাজ শুরু করতে হবে এবং কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত আইনজীবীর বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সীমান্তবর্তী এই এলাকায় বাঁধ সংস্কার দ্রুত সম্পন্ন হবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন সাধারণ মানুষ। প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে গোটা কৈলাসহর।