Home » Blog » পিডিএসে ত্রিপুরা–অসমের যৌথ উদ্যোগ

পিডিএসে ত্রিপুরা–অসমের যৌথ উদ্যোগ

গণবণ্টন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও প্রযুক্তির ওপর জোর, ত্রিপুরা–অসমের যৌথ উদ্যোগ

by Planet Tripura
0 comments 1 views
tripura-msp-paddy-procurement-2025-26

গণবণ্টন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও প্রযুক্তির ছোঁয়া, আরও উন্নত পরিষেবার লক্ষ্যে ত্রিপুরা–অসমের যৌথ উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা ১১ জুলাই: রাজ্যের গণবণ্টন ব্যবস্থা (পিডিএস)-কে আরও স্বচ্ছ, আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও জনমুখী করে তুলতে ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে রাজ্য সরকার। ন্যায্যমূল্যের দোকানগুলিতে ডিজিটাল পরিষেবা, খাদ্যশস্য সরবরাহে স্বচ্ছতা, সময়মতো রেশন বিতরণ এবং প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে সরকারি সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। এই ধারাবাহিক উন্নয়নকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে শনিবার মহাকরণে আসাম সরকারের খাদ্য, গণবণ্টন ও ভোক্তা স্বার্থ বিষয়ক মন্ত্রী কৈশিক রায়ের সঙ্গে বৈঠক করেন ত্রিপুরার খাদ্য, জনসংভরণ ও ভোক্তা বিষয়ক মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী। বৈঠক শেষে মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী জানান, রাজ্যের গণবণ্টন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও স্বচ্ছ করতে সরকার প্রযুক্তিনির্ভর পরিষেবার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।

বর্তমানে অধিকাংশ ন্যায্যমূল্যের দোকানে ই-পস (e-POS) মেশিনের মাধ্যমে ডিজিটাল প্রমাণীকরণ করে খাদ্যশস্য বিতরণ করা হচ্ছে। এর ফলে প্রকৃত উপভোক্তার হাতেই সরকারি খাদ্যসামগ্রী পৌঁছাচ্ছে এবং ভুয়ো উপভোক্তা বা অনিয়মের সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। একই সঙ্গে খাদ্যশস্য বিতরণ ব্যবস্থায় জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতাও অনেক বেড়েছে। মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ অন্ন যোজনা এবং জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা আইনের আওতায় রাজ্যের লক্ষাধিক পরিবার নিয়মিতভাবে চাল, গমসহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী পাচ্ছেন। সরকার নিশ্চিত করছে যাতে নির্ধারিত সময়ে প্রতিটি রেশন দোকানে খাদ্যশস্য পৌঁছায় এবং কোনো যোগ্য পরিবার যেন সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হয়। প্রশাসনকে এ বিষয়ে সর্বদা সতর্ক থাকার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, রাজ্যের ন্যায্যমূল্যের দোকানগুলির পরিকাঠামো ও পরিষেবার মান উন্নয়নে ধারাবাহিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খাদ্যশস্য সংরক্ষণ, পরিবহণ এবং বিতরণ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও সুশৃঙ্খল করা হচ্ছে।

পাশাপাশি ভোক্তাদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রশাসনিক নজরদারি জোরদার করা হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় হয়। ত্রিপুরার গণবণ্টন ব্যবস্থার অন্যতম সাফল্য হলো প্রযুক্তির সফল প্রয়োগের মাধ্যমে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ ব্যবস্থা। বর্তমানে সরকারি ন্যায্যমূল্যের দোকানগুলির মাধ্যমে চাল, গম, চিনি (যেখানে প্রযোজ্য), লবণসহ বিভিন্ন অত্যাবশ্যকীয় খাদ্যসামগ্রী নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী উপভোক্তাদের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে। গ্রাম থেকে শহর, রাজ্যের বিস্তৃত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ সহজেই রেশন পরিষেবা পাচ্ছেন। মহাকরণে অনুষ্ঠিত এদিনের সৌজন্য সাক্ষাতে দুই রাজ্যের মধ্যে গণবণ্টন ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ, প্রযুক্তির ব্যবহার, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং ভোক্তাবান্ধব পরিষেবা আরও উন্নত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে দীর্ঘ সময় আলোচনা হয়। উভয় মন্ত্রীই অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে ভবিষ্যতে দুই রাজ্যের গণবণ্টন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। রাজ্য সরকারের মতে, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং কেন্দ্র-রাজ্যের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে ত্রিপুরার গণবণ্টন ব্যবস্থা আগামী দিনে আরও উন্নত, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব হয়ে উঠবে। আসামের সঙ্গে এই পারস্পরিক সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময় সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে নতুন দিশা দেখাবে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

You may also like

Leave a Comment