Home » Blog » বনেটে ট্রাফিক এএসআই, গ্রেপ্তার ২

বনেটে ট্রাফিক এএসআই, গ্রেপ্তার ২

বটতলায় ট্রাফিক এএসআইকে বনেটে তুলে পালানোর ঘটনায় গ্রেপ্তার ২, তদন্তে নতুন বিতর্ক

by Planet Tripura
0 comments 2 views
agartala-traffic-asi-biplab-dutta-bonnet-incident-battala-hit-and-run-july-2026

বনেটে ট্রাফিক এএসআইকে কান্ডে, গ্রেপ্তার ২

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা ১১ জুলাই: রাজধানীর বটতলায় কর্তব্যরত ট্রাফিক এএসআই বিপ্লব দত্তকে গাড়ির বনেটে তুলে নিয়ে বেপরোয়া গতিতে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় অবশেষে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পশ্চিম আগরতলা থানার পুলিশ। ঘটনার তিনদিন পর এই গ্রেপ্তারিকে তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখানো হলেও, পুলিশের ভূমিকা ঘিরে নতুন করে একাধিক প্রশ্ন সামনে এসেছে। ধৃতরা হল প্রণয় মজুমদার ও প্রসেনজিৎ পাল। তাঁদের মধ্যে একজন ঘটনার সময় গাড়ির চালক এবং অন্যজন গাড়িটির কেয়ারটেকার বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। তাদের বাড়ি রাজধানীর মধুবন কাঠালতলী এবং পশ্চিম প্রতাপগড় এলাকার জুয়েল ক্লাব সংলগ্ন এলাকায়।শনিবার দুজনকেই আদালতে তোলা হয়।চালককে পাঁচ দিনের পুলিশ রিমান্ডে চেয়ে আবেদন জানায় তদন্তকারী পুলিশ। আদালত চার দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করেছে।

অপরজনকে জামিনে মুক্তি দেয় আদালত। সদর মহকুমা পুলিশ আধিকারিক দেবপ্রসাদ রায় জানান, ঘটনার তদন্ত চলছে। অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা হবে, কী উদ্দেশ্যে কর্তব্যরত ট্রাফিক অফিসারকে বনেটে তুলে নিয়ে পালানোর মতো দুঃসাহসিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। তিনি আরও জানান, ঘটনায় ব্যবহৃত গাড়িটি ঘটনার দিন রাতেই আটক করা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে হত্যার চেষ্টা (Attempt to Murder)-সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। তবে এখানেই শেষ নয়। বরং গ্রেপ্তারের পর তদন্তের পাশাপাশি পুলিশের আচরণ নিয়েই নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

সংবাদমাধ্যমের সামনে মহকুমা পুলিশ আধিকারিক ধৃতদের নাম প্রকাশ করতে অনীহা দেখান। অথচ অন্য বহু অপরাধের ক্ষেত্রে পুলিশ নিজেই অভিযুক্তদের নাম, পরিচয়, ছবি এবং বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করে থাকে। এই ঘটনায় সেই ব্যতিক্রম কেন ?এই প্রশ্ন এখন সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমেরও। একজন কর্তব্যরত পুলিশ অফিসারের জীবন বিপন্ন করার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় গোপন রাখার প্রয়োজনীয়তা কী ? এটি কি তদন্তের স্বার্থে, নাকি অন্য কোনও কারণ রয়েছে? কোনও প্রভাবশালী মহলের চাপ বা রাজনৈতিক প্রভাব কাজ করছে কি না, তা নিয়েও জনমনে জল্পনা শুরু হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৮ জুলাই রাজধানীর ব্যস্ততম বটতলা এলাকায় এক পথচারীকে ধাক্কা দিয়ে পালানোর অভিযোগে একটি গাড়ি আটকানোর চেষ্টা করেন ট্রাফিক এএসআই বিপ্লব দত্ত। অভিযোগ, সেই সময় চালক আচমকাই গাড়ি স্টার্ট করে দেন। প্রাণ বাঁচাতে এএসআই বনেটে উঠে পড়লেও চালক থামেননি। বরং বনেটের উপর কর্তব্যরত পুলিশ অফিসারকে নিয়েই শহরের ব্যস্ত রাস্তা ধরে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে প্রতাপগড় স্টিল ব্রিজের কাছে তাঁকে ফেলে পালিয়ে যায়। ঘটনায় আহত হন এএসআই বিপ্লব দত্ত।সেদিনের সেই ঘটনা গোটা রাজ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিল। প্রশ্ন উঠেছিল, রাজধানীর সবচেয়ে ব্যস্ত এলাকায়, দিনের আলোয় যদি একজন ইউনিফর্মধারী পুলিশ সদস্যই নিরাপদ না থাকেন, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায় ? পুলিশের উপস্থিতি, সিসিটিভি নজরদারি, নাকা চেকিং, সবকিছুকে কার্যত উপেক্ষা করে এমন দুঃসাহস দেখানোর সাহস অভিযুক্তরা কোথা থেকে পেল ? এখন, গ্রেপ্তারির পর তদন্ত নতুন পর্যায়ে পৌঁছালেও সেই প্রশ্নগুলির কোনওটিরই স্পষ্ট উত্তর এখনও সামনে আসেনি। বরং ধৃতদের পরিচয় প্রকাশে পুলিশের অনীহা নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। আইন কি সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য ? নাকি কিছু ক্ষেত্রে অদৃশ্য কোনও প্রভাব কাজ করে ?

আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, এই ঘটনাকে পুলিশ শুধুমাত্র একটি ট্রাফিক সংক্রান্ত অপরাধ হিসেবে না দেখে হত্যার চেষ্টা হিসেবে মামলা করেছে। যদি অভিযোগ এতটাই গুরুতর হয়, তাহলে তদন্তে পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখাও সমান জরুরি। কারণ, এই মামলা শুধু একজন ট্রাফিক অফিসারের উপর হামলার নয়, এটি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মর্যাদা এবং রাষ্ট্রের আইনের শাসনের সঙ্গেও সরাসরি জড়িত। এখন নজর তদন্তের দিকে। চার দিনের পুলিশ রিমান্ডে অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদে কী তথ্য উঠে আসে, ঘটনার নেপথ্যে অন্য কেউ ছিল কি না, এটি পরিকল্পিত ছিল নাকি তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত, এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ। একই সঙ্গে জনমনের আরেকটি প্রত্যাশাও স্পষ্ট, এই তদন্ত যেন নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ এবং প্রভাবমুক্ত হয়। কারণ, যে ঘটনায় একজন কর্তব্যরত পুলিশ অফিসারের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ে, সেখানে কোনও ধরনের গোপনীয়তা বা নমনীয়তার অভিযোগ উঠলে তা শুধু পুলিশের ভাবমূর্তিকেই নয়, গোটা আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থাকেও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়।

You may also like

Leave a Comment