ত্রিপুরা প্রতিনিধি, আগরতলা ৮ জুলাই : আগরতলার ইন্দিরা গান্ধী মেমোরিয়াল (আইজিএম) হাসপাতালে এক অন্তঃসত্ত্বা মহিলার মৃত্যুর ঘটনায় এবার কড়া অবস্থান নিল ত্রিপুরা মানবাধিকার কমিশন (THRC)। স্যন্দনে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কমিশন স্বতঃপ্রণোদিত (Suo-Motu) মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। কমিশনের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, অভিযোগগুলি যদি সত্য হয়, তবে তা রোগীর মানবাধিকার লঙ্ঘনের সামিল এবং সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার কার্যকারিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলে।
কমিশনের Complaint No. 13 of 2026 (Suo-Motu Cognizance)-এর অর্ডার শিট অনুযায়ী, ৩০ মে প্রকাশিত স্যন্দন পত্রিকা, ত্রিপুরা দর্পণ এবং ত্রিপুরা টাইমস-এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, আইজিএম হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসকের অনুপস্থিতি ও চিকিৎসায় গাফিলতির জেরেই এক গর্ভবতী মহিলার মৃত্যু হয়েছে। মৃতার পরিবারের পক্ষ থেকে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তোলা হয়। এই প্রতিবেদনগুলিকে গুরুত্ব দিয়ে কমিশন প্রথমে ত্রিপুরা সরকারের স্বাস্থ্য পরিষেবা অধিকর্তার (Director of Health Services) কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করে।
কমিশনের মতে, সংবাদে উত্থাপিত অভিযোগ মানবাধিকার লঙ্ঘনের ইঙ্গিত বহন করায় বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।স্বাস্থ্য পরিষেবা অধিকর্তার পাঠানো রিপোর্ট কমিশনের কাছে পৌঁছানোর পর তা পর্যালোচনা করা হয়। তবে কমিশন মনে করেছে, কেবল প্রশাসনিক রিপোর্টের ভিত্তিতে বিষয়টির নিষ্পত্তি করা সম্ভব নয়। ঘটনার প্রকৃত কারণ, চিকিৎসা ব্যবস্থার বাস্তব অবস্থা এবং অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করতে আরও বিস্তৃত তদন্ত প্রয়োজন। সেই কারণেই কমিশন স্বাধীন তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।
কমিশনের উদ্দেশ্য, চিকিৎসায় গাফিলতি বা কর্তব্যে অবহেলা ছিল কি না, রোগীর মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে কি না এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে কী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, তা নিরপেক্ষভাবে নির্ধারণ করা। কমিশনের পর্যবেক্ষণে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকের অনুপস্থিতি বা চিকিৎসা পরিষেবায় ব্যর্থতার অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। এমন অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, একজন নাগরিকের জীবন ও মর্যাদার অধিকারের সঙ্গেও জড়িত। তাই ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ সত্য উদঘাটন অপরিহার্য। এই ঘটনার তদন্ত ও পরবর্তী শুনানির দিকে এখন নজর রয়েছে মৃতার পরিবার, স্বাস্থ্য দপ্তর এবং সাধারণ মানুষের।কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করবে এই ঘটনায় কারও বিরুদ্ধে প্রশাসনিক বা আইনি দায় নির্ধারিত হবে কি না।