পাইলট প্রকল্পে পেপারলেস হবে সিভিল হাসপাতাল, সফল হলে রাজ্যের সব সরকারি হাসপাতালে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা : মুখ্যমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা ৭ জুলাই : ত্রিপুরার স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর এবং জনবান্ধব করে তুলতে পেপারলেস হাসপাতাল ব্যবস্থার পথে এগোচ্ছে রাজ্য সরকার। পরীক্ষামূলকভাবে নবনির্মিত সরকারি সিভিল হাসপাতালে সম্পূর্ণ পেপারলেস পরিষেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই পাইলট প্রকল্প সফল হলে পর্যায়ক্রমে রাজ্যের সমস্ত সরকারি হাসপাতালে একই ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ড. মানিক সাহা। মঙ্গলবার এক সরকারি অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে ইতিমধ্যেই ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে। মন্ত্রিসভার কার্যক্রম থেকে শুরু করে ত্রিস্তর পঞ্চায়েত ব্যবস্থা পর্যন্ত ধাপে ধাপে ডিজিটাল পরিষেবা চালু হয়েছে।
এবার সেই আধুনিকীকরণের ধারাকে স্বাস্থ্য পরিষেবাতেও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, পরীক্ষামূলকভাবে পেপারলেস হাসপাতাল চালু করা হচ্ছে। প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের অন্যান্য সরকারি হাসপাতালেও একই ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হবে। এর ফলে রোগীর নিবন্ধন, চিকিৎসার নথি সংরক্ষণ, প্রেসক্রিপশন, পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট, রেফারেল এবং হাসপাতালের প্রশাসনিক কাজ ডিজিটাল মাধ্যমে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। এতে পরিষেবা আরও দ্রুত, স্বচ্ছ ও কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পেপারলেস হাসপাতাল ব্যবস্থা চালু হলে রোগীর চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য দীর্ঘমেয়াদে নিরাপদে সংরক্ষণ করা সহজ হবে। একই সঙ্গে কাগজের ব্যবহার কমবে, প্রশাসনিক ব্যয় হ্রাস পাবে এবং চিকিৎসা পরিষেবায় সময়ও বাঁচবে। জরুরি পরিস্থিতিতে রোগীর পূর্ববর্তী চিকিৎসার তথ্য দ্রুত পাওয়া গেলে চিকিৎসকদের সিদ্ধান্ত গ্রহণও সহজ হবে। এদিন জেনেরিক ওষুধের ব্যবহার প্রসঙ্গেও গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, সাধারণ মানুষের চিকিৎসার খরচ কমাতে রাজ্য সরকার জেনেরিক ওষুধের ব্যবহার বাড়ানোর পক্ষে।
তবে সব ধরনের ওষুধ এখনও জেনেরিক আকারে বাজারে সহজলভ্য নয়, যা এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। যেসব ওষুধ জেনেরিক হিসেবে পাওয়া যায় না, সেগুলির বিকল্প ব্যবস্থা কীভাবে করা যায়, তা নিয়েও সরকার চিন্তাভাবনা করছে। স্বাস্থ্য দপ্তরের মতে, আগামী দিনে ডিজিটাল স্বাস্থ্য পরিষেবার বিস্তার ঘটলে হাসপাতালগুলির কাজের গতি বাড়বে, রোগীদের হয়রানি কমবে এবং সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উপর মানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে। পেপারলেস হাসপাতাল প্রকল্প সেই বৃহত্তর ডিজিটাল স্বাস্থ্য অবকাঠামো গড়ে তোলারই একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।