রেল যোগাযোগে বড় সাফল্য: আগরতলা-করিমগঞ্জ মেমু ট্রেন পরিষেবার শুভ উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী ডঃ মানিক সাহা।
নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৪ জুলাই: ত্রিপুরা ও আসামের মধ্যেকার রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যেতে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিল রাজ্য ও কেন্দ্র সরকার। বহুল প্রতিক্ষিত আগরতলা-করিমগঞ্জ-আগরতলা মেমু (MEMU) ট্রেন পরিষেবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী ডঃ মানিক সাহা। শনিবার আগরতলা রেল স্টেশনে আয়োজিত একটি জমকালো অনুষ্ঠানে সবুজ পতাকা নেড়ে তিনি এই অত্যাধুনিক ট্রেনের যাত্রার সূচনা করেন।এই নতুন ট্রেন পরিষেবা চালু হওয়ার ফলে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিশেষ করে দুই প্রতিবেশী রাজ্য ত্রিপুরা ও আসামের সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের একটি দাবি পূরণ হলো।
আগরতলা রেল স্টেশনের এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ডঃ মানিক সাহা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পরিবহন মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী, নবনির্বাচিত সাংসদ রাজিব ভট্টাচার্য, বিধায়িকা মীনা রাণী সরকার এবং উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের (NFR) ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা।
রেল সূত্রের খবর, নতুন আগরতলা-করিমগঞ্জ মেমু ট্রেনটি চালু হওয়ার ফলে প্রতিদিনের নিত্যযাত্রী, চাকরিজীবী, স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রী এবং ছোট-বড় ব্যবসায়ীদের যাতায়াত আগের চেয়ে অনেক বেশি সহজ, দ্রুত এবং সাশ্রয়ী হবে। কম খরচে এবং কম সময়ে দুই রাজ্যের মধ্যে যাতায়াত করা এখন আরও সুবিধাজনক হবে। শুধু যাতায়াতই নয়, এই মেমু ট্রেন পরিষেবা ত্রিপুরা ও আসামের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, আঞ্চলিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং পর্যটন ক্ষেত্রের বিকাশেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্যের পরিবহন মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী এবং মুখ্যমন্ত্রী ডঃ মানিক সাহা কেন্দ্রীয় রেল মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব-কে বিশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।
মুখ্যমন্ত্রী তাঁর ভাষণে উল্লেখ করেন যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দূরদর্শী নেতৃত্বে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রেল অবকাঠামোর অভূতপূর্ব উন্নয়ন হচ্ছে। তিনি বলেন, ২০১৮ সালে ত্রিপুরায় বিজেপি সরকার গঠিত হওয়ার পর থেকেই রাজ্য তীব্র গতিতে উন্নয়নের পথে ধাবিত হচ্ছে। বর্তমান সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমুখী ও ইতিবাচক নীতির কথা তুলে ধরে তিনি কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের যৌথ প্রয়াস অর্থাৎ ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
সরকারের মতে, অ্যাক্ট ইস্ট পলিসির অধীনে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগের খোলনলচে বদলে ফেলার যে ধারাবাহিক প্রচেষ্টা চলছে, এই মেমু ট্রেন পরিষেবা তারই একটি অন্যতম বড় অংশ। এর ফলে দুই রাজ্যের মানুষের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে। দৃঢ় রিপোর্ট প্ল্যানেট ত্রিপুরা নিউস


