Home » Blog » আগরতলায় জগন্নাথের স্নানযাত্রায় ভক্তদের ঢল

আগরতলায় জগন্নাথের স্নানযাত্রায় ভক্তদের ঢল

রথযাত্রার সূচনা পর্বে আগরতলায় মহাসমারোহে শ্রীজগন্নাথের স্নানযাত্রা, ভক্তদের ঢল

by Planet Tripura
0 comments 9 views

রথযাত্রার সূচনা পর্বে মহাসমারোহে স্নানযাত্রা, আগরতলার জগন্নাথ জিউ মন্দির ও ইসকনে ভক্তদের ঢল

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা ২৯ জুন : সারা দেশের পাশাপাশি ত্রিপুরাতেও গভীর ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ভক্তি ও উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হল প্রভু শ্রীজগন্নাথ দেবের পবিত্র স্নানযাত্রা উৎসব। রাজধানী আগরতলার ঐতিহ্যবাহী জগন্নাথ জিউ মন্দির, ইসকন মন্দির-সহ রাজ্যের বিভিন্ন জগন্নাথ মন্দিরে রবিবার সকাল থেকেই ভক্তদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ, পূজা-অর্চনা, কীর্তন এবং নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয় মহাপ্রভুর মহাস্নান। স্নানযাত্রাকে ঘিরে প্রতিটি মন্দিরে ছিল উৎসবের আবহ, যেখানে নারী-পুরুষ, শিশু থেকে প্রবীণ, সকলেই ভক্তিভরে উপস্থিত হয়ে প্রার্থনা ও দর্শন করেন। রথযাত্রা উৎসবের পূর্বপর্ব হিসেবে স্নানযাত্রার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।

হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, জ্যৈষ্ঠ পূর্ণিমা তিথিতে বছরে একবারই প্রভু জগন্নাথ, ভ্রাতা বলরাম এবং ভগিনী সুভদ্রার মহাস্নান অনুষ্ঠিত হয়। এই দিনটিকেই মহাপ্রভুর আবির্ভাব তিথি হিসেবেও মানা হয়। প্রাচীন শাস্ত্র ও পুরাণে উল্লেখ রয়েছে, মহারাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন ও রানি গুন্ডিচাই প্রথম এই স্নানযাত্রার প্রচলন করেন। সেই ঐতিহ্য আজও সমানভাবে পালন করা হয়ে আসছে। প্রথা অনুযায়ী, প্রথমে প্রভু জগন্নাথ, এরপর বলরাম এবং সর্বশেষে দেবী সুভদ্রাকে স্নানবেদীতে নিয়ে আসেন সেবায়েতরা। নির্দিষ্ট বৈদিক বিধি মেনে পবিত্র জল, চন্দন ও সুগন্ধি দ্রব্য দিয়ে দেব-দেবীদের মহাস্নান সম্পন্ন করা হয়। এরপর প্রভু জগন্নাথকে গজানন বা হাতিবেশে সজ্জিত করা হয়, যা স্নানযাত্রার অন্যতম আকর্ষণ।

এই বিরল হাতিবেশ দর্শনের জন্য প্রতিবছর অসংখ্য ভক্ত মন্দিরে সমবেত হন। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে, মহাস্নানের পর প্রভু জগন্নাথ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাই পরবর্তী ১৫ দিন তিনি ‘অনসর’ কক্ষে বিশ্রাম নেন। এই সময় সাধারণ ভক্তদের জন্য মন্দিরের দরজা বন্ধ থাকে এবং সরাসরি দর্শন সম্ভব হয় না। পরবর্তীতে ‘নবযৌবন দর্শন’-এর মাধ্যমে সুস্থ হয়ে পুনরায় ভক্তদের দর্শন দেন মহাপ্রভু। এরপরই শুরু হয় বহুল প্রতীক্ষিত রথযাত্রা উৎসব। আগরতলার জগন্নাথ জিউ মন্দির এবং ইসকন মন্দিরে এদিন সকাল থেকেই ছিল উৎসবের আমেজ। ভক্তদের দীর্ঘ সারি, হরিনাম সংকীর্তন, ভজন, প্রসাদ বিতরণ এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠানে দিনভর মুখরিত ছিল মন্দির চত্বর। নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

এদিকে আগামী ১৬ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে শ্রীজগন্নাথ দেবের ঐতিহাসিক রথযাত্রা। সেই উপলক্ষে ইতিমধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন জগন্নাথ মন্দিরে রথ সাজানো, মন্দির প্রাঙ্গণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা, আলোকসজ্জা, ধর্মীয় অনুষ্ঠান এবং ভক্তদের জন্য বিভিন্ন পরিষেবার প্রস্তুতি জোরকদমে চলছে।আগরতলার জগন্নাথ জিউ মন্দির ও ইসকন মন্দিরেও রথযাত্রাকে ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।রথযাত্রার দিন সুসজ্জিত রথে আরোহণ করে প্রভু জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা মাসির বাড়ির উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন।

হাজার হাজার ভক্ত রথের দড়ি টেনে এই মহোৎসবে অংশ নেবেন। হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, রথের দড়ি টানলে পুণ্য লাভ হয় এবং জীবনের নানা বাধা-বিপত্তি দূর হয়। স্নানযাত্রার মধ্য দিয়ে কার্যত শুরু হয়ে গেল মহাপ্রভু শ্রীজগন্নাথ দেবের রথযাত্রা উৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা। ধর্মীয় ঐতিহ্য, আধ্যাত্মিক বিশ্বাস এবং ভক্তির অপূর্ব সমন্বয়ে ত্রিপুরাজুড়ে তৈরি হয়েছে এক অনন্য উৎসবের আবহ। এখন সকলের দৃষ্টি আগামী ১৬ জুলাইয়ের মহা রথযাত্রার দিকে, যখন ভক্তদের উচ্ছ্বাস ও জয়ধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠবে সমগ্র রাজ্য।

You may also like

Leave a Comment