Home » Blog » বাল্যবিবাহমুক্ত পঞ্চায়েত গড়তে কেন্দ্রের উদ্যোগ

বাল্যবিবাহমুক্ত পঞ্চায়েত গড়তে কেন্দ্রের উদ্যোগ

‘বাল্যবিবাহমুক্ত পঞ্চায়েত’ গড়তে কেন্দ্রের উদ্যোগ, আগরতলায় জানালেন অন্নপূর্ণা দেবী

by Planet Tripura
0 comments 10 views

‘বাল্যবিবাহমুক্ত পঞ্চায়েত’ গড়তে উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার: অন্নপূর্ণা দেবী

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা ২৯ জুন : দেশ থেকে বাল্যবিবাহ সম্পূর্ণ নির্মূলের লক্ষ্যে আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে কেন্দ্র সরকার। প্রতিটি পঞ্চায়েতে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক নিয়োগ, তথ্য সংগ্রহ ব্যবস্থা জোরদার এবং অভিযোগ জানানোর প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করার উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় নারী ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রী অন্নপূর্ণা দেবী। সোমবার আগরতলার স্টেট গেস্ট হাউসে সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা দপ্তরের রাজ্যস্তরের পর্যালোচনা বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, শুধু সরকারের উদ্যোগ নয়, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ ছাড়া এই সামাজিক ব্যাধি দূর করা সম্ভব নয়।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে মানুষ আগের তুলনায় অনেক বেশি সচেতন হচ্ছেন। ফলে বাল্যবিবাহের ঘটনা প্রশাসনের নজরে আসছে এবং অনেক ক্ষেত্রেই কিশোরীরাই সাহসিকতার সঙ্গে অভিযোগ জানিয়ে বিয়ে বন্ধ করতে সক্ষম হচ্ছে। তিনি জানান, প্রতিটি পঞ্চায়েতে দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক নিয়োগের পাশাপাশি হেল্পলাইন ব্যবস্থাও চালু রয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর এই আশাবাদী বক্তব্যের পাশাপাশি উঠে আসছে এক ভিন্ন বাস্তব চিত্র। ত্রিপুরার বহু প্রত্যন্ত গ্রাম ও পাহাড়ি এলাকায় এখনও বাল্যবিবাহের অভিযোগ সামনে আসে। বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও শিশু অধিকারকর্মীদের মতে, অনেক ক্ষেত্রেই প্রশাসনের কাছে খবর পৌঁছায় না, আবার কোথাও অভিযোগ উঠলেও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের ঘাটতি দেখা যায়। ফলে সরকারি উদ্যোগ থাকা সত্ত্বেও বাস্তব ক্ষেত্রে তার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, শুধুমাত্র আধিকারিক নিয়োগ করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। নিয়মিত নজরদারি, বিদ্যালয়ভিত্তিক সচেতনতা, স্থানীয় প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা এবং পঞ্চায়েত স্তরে জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। অভিযোগ রয়েছে, কিছু এলাকায় সামাজিক ও স্থানীয় প্রভাবের কারণে বাল্যবিবাহের ঘটনা প্রকাশ্যে এলেও তা প্রতিরোধে যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হয় না। এছাড়াও নারী ও শিশু কল্যাণ সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রকল্প নিয়েও সময়ে সময়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিভিন্ন মহলে অভিযোগ, কিছু অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে শিশু ও গর্ভবতী মায়েদের জন্য বরাদ্দ পুষ্টিকর খাদ্যের মান নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। কোথাও নিম্নমানের খাদ্য, কোথাও খাদ্য সরবরাহে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

যদিও এসব অভিযোগের সবকটি সরকারি তদন্তে প্রমাণিত নয়, তবুও বিষয়গুলি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট মহল। একইভাবে, নারী নির্যাতনের শিকারদের সহায়তার জন্য গড়ে ওঠা সখী ওয়ান স্টপ সেন্টারগুলির পরিষেবার মান নিয়েও বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন উঠেছে। সমাজকর্মীদের মতে, পরিকাঠামো, জনবল ও পরিষেবার মান আরও উন্নত করা জরুরি, যাতে সংকটাপন্ন নারীরা দ্রুত ও কার্যকর সহায়তা পান।পর্যালোচনা বৈঠকে অন্নপূর্ণা দেবী জানান, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে এবং তাঁদের সামাজিক সুরক্ষার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি ত্রিপুরার অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র, শিশু সুরক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ওয়ান স্টপ সেন্টার পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে রাজ্যের পরিষেবার প্রশংসা করেন।

পাশাপাশি কর্মজীবী মহিলাদের জন্য নির্মীয়মাণ ১০টি হোস্টেল দ্রুত চালু হবে বলেও আশ্বাস দেন। তবে প্রশ্ন একটাই, কেন্দ্রীয় স্তরে পরিকল্পনা ও আশ্বাস বাস্তবের মাটিতে কতটা সফল হচ্ছে ? কারণ, বাল্যবিবাহ রোধ, শিশু সুরক্ষা, মাতৃ-পুষ্টি এবং নারী কল্যাণের মতো বিষয়গুলিতে কেবল প্রকল্প ঘোষণা নয়, তার কার্যকর বাস্তবায়নই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ত্রিপুরার প্রত্যন্ত গ্রাম ও পাহাড়ি এলাকায় এখনও যদি বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক ব্যাধি অব্যাহত থাকে, তবে প্রশাসনের তৃণমূল স্তরের কার্যকারিতা আরও শক্তিশালী করার দাবি ক্রমেই জোরালো হবে বলেই মনে করছেন সচেতন মহল।

You may also like

Leave a Comment