Home » Blog » Teliamura : প্রশ্নের মুখে দুর্যোগ মোকাবেলার টিম

Teliamura : প্রশ্নের মুখে দুর্যোগ মোকাবেলার টিম

তেলিয়ামুড়া দুর্যোগ মোকাবেলা দলের অব্যবস্থাপনা

by Planet Tripura
0 comments 40 views

গাছ ভেঙে ঘর বিধ্বস্ত! দুর্যোগ মোকাবেলায় চরম অব্যবস্থা!

*তেলিয়ামুড়া প্রতিনিধি:*
দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কথা যে বিভাগের, সেই বিভাগেরই চরম অব্যবস্থা ও গাফিলতির চিত্র উঠে আসলো তেলিয়ামুড়া মহকুমা প্রশাসনের। আকস্মিকভাবে একটি বিশালাকার গাছ ভেঙে পড়ে ত্রিপুরা পুলিশের এসপিও জওয়ান অর্জুন দাসের বসতঘর প্রায় সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও দুর্যোগ মোকাবিলা দল ঢাল তোড়োয়াল নিধিরাম সরদারের মতো ভূমিকায় ছিল। ফলে দুর্যোগ মোকাবেলা বিভাগের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে জনমনে।
ঘটনার বিবরণে প্রকাশ, বুধবার রাত প্রায় সাড়ে ১০টা নাগাদ তেলিয়ামুড়া গামাইবাড়ি এলাকার বাসিন্দা অর্জুন দাস যখন নিজের বসতঘরে পরিবার নিয়ে ছিলেন, সেই সময় আচমকায় সেই বসত ঘরের ওপর ভেঙে পড়ে একটি বিশাল গাছ, অল্পেতে প্রাণে বেঁচে যায় অর্জুন বাবুর স্ত্রী। মুহূর্তের মধ্যে বিধ্বস্ত হয়ে যায় বসতঘরের একাংশ। আতঙ্কে ছুটে বেরিয়ে আসেন পরিবারের সদস্যরা।
পরিবারের পক্ষ থেকে অবিলম্বে তেলিয়ামুড়া মহকুমা প্রশাসনের দুর্যোগ মোকাবেলা বিভাগে খবর দেওয়া হলেও, প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রথমে মাত্র একজন স্বেচ্ছাসেবককে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। কিন্তু তিনি কোনো ধরনের গাছ কাটার সরঞ্জাম বা প্রয়োজনীয় উপকরণ ছাড়াই সেখানে পৌঁছান। ফলে কার্যত ‘ঢাল-তলোয়ারহীন নিধিরাম সর্দার’-এর ভূমিকায় দাঁড়িয়ে থাকা ছাড়া তার পক্ষে আর কিছুই করার ছিল না। অন্যদিকে গাছ কাটার সরঞ্জাম নিয়ে একাধিক স্বেচ্ছাসেবক মহকুমা শাসকের কার্যালয় চত্বরে গাড়ির অপেক্ষায় বসে ছিলেন।
অফিস সূত্রে জানা যায়, দুর্যোগ মোকাবেলা দলের জন্য কোনো স্থায়ী যানবাহনের ব্যবস্থা নেই। ফলে জরুরি পরিস্থিতিতেও স্বেচ্ছাসেবকদের ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। প্রশ্ন উঠছে, যদি দুর্যোগ মোকাবেলা বিভাগের স্থায়ী গাড়িরই ব্যবস্থা না থাকে, তাহলে বড় ধরনের বিপর্যয়ের সময় সাধারণ মানুষ কীভাবে দ্রুত সাহায্য পাবে?
প্রায় দুই ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ার পর তিন থেকে চারজন স্বেচ্ছাসেবককে হেলমেটবিহীন অবস্থায় নিজেদের মোটরসাইকেলে বিভিন্ন সরঞ্জাম বহন করে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে দেখা যায়। এই দৃশ্য দেখে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, এটাই কি দুর্যোগ মোকাবেলার প্রস্তুতি?
শুধু বর্তমান ঘটনাই নয়, তেলিয়ামুড়া মহকুমা প্রশাসনের দুর্যোগ মোকাবেলা ব্যবস্থার গাফিলতি নিয়ে এর আগেও একাধিকবার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্যোগ মোকাবেলা দলের অপদার্থতা ও প্রস্তুতির অভাবের কারণে অতীতে ২০২৫ সালে লরি চালক মিহির দেবনাথকে অকালে প্রাণ হারাতে হয়েছিল। এছাড়াও কিছুদিন পূর্বে চাকমাঘাট এলাকায় মাটি ধসে মর্মান্তিকভাবে মৃত্যু হয় দুই শ্রমিকের। সেই ঘটনাগুলির পরেও প্রশাসনের দুর্যোগ মোকাবেলা ব্যবস্থায় কতটা পরিবর্তন এসেছে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
অভিযোগ আরও উঠেছে, সরকারি কোষাগারের লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে কিছুদিন পূর্বেই দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবেলার নামে মহড়ার আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতিতে সেই প্রস্তুতির চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। এলাকাবাসীর দাবি, মহড়া নয়, বাস্তবে মানুষের জীবন বাঁচানোর মতো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করুক প্রশাসন।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, ঘটনার পরও তেলিয়ামুড়া মহকুমা প্রশাসনের দুর্যোগ মোকাবেলা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিসিএম জিনিয়াস দেববর্মার কোনো উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়নি। ফলে প্রশাসনের দায়িত্বজ্ঞান ও প্রস্তুতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ।
বর্তমানে এলাকাজুড়ে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—যে বিভাগ দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কথা, সেই বিভাগেরই যদি এমন অসহায় ও অপ্রস্তুত অবস্থা হয়, তাহলে প্রকৃত দুর্যোগের সময় সাধারণ মানুষের ভরসা কোথায়?

You may also like

Leave a Comment