Home » Blog » রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবা ভেঙ্গে পরবে – সুদীপ রায় বর্মন

রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবা ভেঙ্গে পরবে – সুদীপ রায় বর্মন

জিবি-তে চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধের সিদ্ধান্ত - সুর চড়ালেন সুদীপ রায় বর্মন। 

by Planet Tripura
0 comments 30 views

জিবি-তে চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধের সিদ্ধান্ত: ‘সরকারি পরিষেবা পুরোপুরি ভেঙে পড়বে’, সুর চড়ালেন সুদীপ রায় বর্মন।

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা:
ত্রিপুরার স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং সরকারি চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধ করা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। রাজ্যের মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, জিবি হাসপাতালের চিকিৎসকেরা আর প্রাইভেট প্র্যাকটিস করতে পারবেন না। সরকারের এই সিদ্ধান্তের পরই তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন বিরোধী কংগ্রেস বিধায়ক তথা প্রাক্তন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সুদীপ রায় বর্মন। সরকারের এই পদক্ষেপকে কার্যত তুলাধোনা করে তিনি দাবি করেছেন, এর ফলে রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা আরও বড় সংকটের মুখে পড়বে দুর্দশার দেখা দেবে স্বাস্থ্য পরিষেবায় ।

সুদীপ বাবু বলেন “শুধু জিবি কেন, অন্যান্য হাসপাতালে কেন নয়?” প্রশ্ন সুদীপের
সরকারের এই নতুন নিয়মের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন বলেন, “এই নিয়ম যদি কার্যকর করতেই হয়, তবে শুধু জিবি হাসপাতালেই কেন? আগরতলার অন্যান্য সরকারি হাসপাতালগুলোতে কেন এই নিয়ম চালু করা হবে না?” সরকারের এই বৈষম্যমূলক নীতির তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।

তিনি আরো প্রশ্ন তুলেন – ৮ ঘণ্টার পর চিকিৎসকদের কীভাবে আটকাবে সরকার?
চিকিৎসকদের কর্মঘণ্টা নিয়ে রাজ্য সরকারকে একহাত নেন সুদীপ রায় বর্মন। তিনি বলেন, একজন সরকারি কর্মচারী সাধারণত ৮ ঘণ্টার বেশি ডিউটি করেন না। ৮ ঘণ্টা ডিউটি করার পর রাজ্য সরকার কীভাবে একজন চিকিৎসককে আটকে রাখবে, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন। তাঁর আশঙ্কা, সরকারের এই অনমনীয় সিদ্ধান্তের কারণে অনেক অভিজ্ঞ ডাক্তারবাবু চাকরি ছেড়ে দিতে পারেন বা রাজ্য ছাড়তে পারেন। আর তেমনটা হলে ত্রিপুরার সাধারণ রোগীরা আরও চরম সমস্যায় পড়বেন।

আরো অভিযোগ “সরকারি হাসপাতালের যন্ত্রাংশ বিকল, সরকারি হাসপাতালের সম্পত্তি পাচার হচ্ছে প্রাইভেট হাসপাতাল গুলোতে ”
হাসপাতালের পরিকাঠামো নিয়ে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ গুরুতর অভিযোগ এনেছেন এই প্রবীণ রাজনীতিকবিদ সুদীপ রায় বর্মন । তিনি অভিযোগ করেন:

আগরতলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে বহু মূল্যবান চিকিৎসা যন্ত্রাংশ বছরের পর বছর ধরে খারাপ হয়ে পড়ে রয়েছে, কিন্তু সেদিকে রাজ্য সরকারের কোনো নজর নেই।

আরও বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ও চিকিৎসা সামগ্রী গোপনে বেসরকারি (প্রাইভেট) হাসপাতালে পাচার হয়ে যাচ্ছে। প্রশাসন এই পাচারচক্র রুখতে সম্পূর্ণ ভাবে ব্যর্থ। হাসপাতালের কিছু কর্মী এই ধরণের অপরাধ মূলক কাজের সাথে জড়িত রয়েছেন।

তিনি বলেন “জনগণের দুর্দশা আরও বাড়বে, ভেঙে পড়বে পরিষেবা”
সুদীপ রায় বর্মন স্পষ্ট জানান, এই সিদ্ধান্তটি সাধারণ মানুষের সামনে বাহবা কুড়ানোর জন্য বা প্রচারের আলো কাড়ার জন্য খুব ভালো হতে পারে। সরকার যতই নিজের ঢাক নিজে বাজাক না কেন, বাস্তবে এই সিদ্ধান্তের ফল হবে অত্যন্ত ভয়ানক। এর ফলে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবা একেবারে ভেঙে পড়বে এবং সাধারণ জনগণের দুর্দশার আর কোনো শেষ থাকবে না।

You may also like

Leave a Comment