Home » Blog » তেলিয়ামুড়ায় ২০ কোটি টাকার আর্থিক কেলেঙ্কারি!

তেলিয়ামুড়ায় ২০ কোটি টাকার আর্থিক কেলেঙ্কারি!

TRLM কর্মী ঝুমা চৌধুরীর বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগ

by Planet Tripura
0 comments 49 views

তেলিয়ামুড়ার মহারানীপুরে ২০ কোটি টাকার আর্থিক কেলেঙ্কারি: কাটমানির প্রলোভন ও বিডিও-র সই-সিল জালের অভিযোগে কাঠগড়ায় টিআরএলএম এর এক কর্মী।

নিজস্ব প্রতিনিধি, তেলিয়ামুড়া:
তেলিয়ামুড়া মহকুমার মহারানীপুর এলাকায় প্রায় ২০ কোটি টাকার এক বিশাল আর্থিক অনিয়ম ও প্রতারণার অভিযোগ ঘিরে মহকুমা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের মূল তির ত্রিপুরা গ্রামীণ জীবিকা মিশন বা টি.আর.এল.এম (TRLM)-এর সঙ্গে যুক্ত মাস্টার ও বুক কিপার ঝুমা চৌধুরী নামে এক মহিলার বিরুদ্ধে। শুধু বিপুল অঙ্কের আর্থিক প্রতারণাই নয়, ব্লক সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক (বিডিও)-এর স্বাক্ষর এবং সরকারি সিলমোহর জাল করার মতো গুরুতর অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ঝুমা চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত চড়া হারের লাভ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এলাকার বহু সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর (SHG) সদস্যদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা সংগ্রহ করেছিলেন। কিন্তু নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেলেও লভ্যাংশ তো দূরের কথা, আসল টাকাই ফেরত পাচ্ছিলেন না আমানতকারীরা। লভ্যাংশের নামে এই বিপুল অঙ্কের প্রতারণার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অবশেষে প্রতারিতদের একাংশ তেলিয়ামুড়া ব্লকের বিডিও বিপ্লব আচার্যের দ্বারস্থ হয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

এই বিষয়ে তেলিয়ামুড়া ব্লকের বিডিও বিপ্লব আচার্য সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরেই পুরো বিষয়টি জেলা প্রশাসনের নজরে আনা হয়েছে। খোয়াই জেলা শাসকের (DM) নির্দেশিকা অনুযায়ী পরবর্তী আইনি ও কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে তার বিরুদ্ধে।

তবে এই ঘটনার সবচেয়ে গুরুতর দিক হলো, দীর্ঘ সময় ধরে প্রশাসনের নাকের ডগায় বসে সরকারি সিল এবং বিডিও-র স্বাক্ষর জাল করে বিভিন্ন ভুয়ো নথিপত্র ব্যবহার করা হলেও তা কেন আগে প্রশাসনের নজরে আসেনি, তা নিয়ে মহকুমা জুড়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। প্রশাসনিক নজরদারির এই চরম খামতি নিয়ে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মহলে সমালোচনা শুরু হয়েছে। সচেতন মহলের মতে, এত বড় মাপের কেলেঙ্কারি ও জালিয়াতি একা ঝুমা চৌধুরীর পক্ষে করা সম্ভব নয়, এর নেপথ্যে কোনো বড় চক্র বা প্রভাবশালী কারও হাত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা অত্যন্ত জরুরি।

এদিকে স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে, অভিযুক্ত ঝুমা চৌধুরী প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের মুখে অভিযোগের কিছু বিষয় মৌখিকভাবে স্বীকার করে নিয়েছেন। যদিও এই বিষয়ে তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক ভাবে কোনো প্রকার বিবৃতি দেওয়া হয়নি।

বর্তমানে এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগের ভিত্তিতে সরকারি স্তরে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। তদন্তে আর্থিক প্রতারণা, জালিয়াতি এবং সরকারি নথি জাল করার অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানা গেছে। আপাতত এই বহু আলোচিত আর্থিক কেলেঙ্কারির প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং এর সাথে জড়িত মূল মাথাদের আইনের আওতায় আনার দাবিতে সরব হয়েছেন তেলিয়ামুড়া মহকুমা বাসী। এখন সকলের নজর প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।

You may also like

Leave a Comment